‘লকডাউনের কারণে হতাশ হয়ে পড়েছে ক্রিকেটাররা’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

জাতীয় দলের দেশের মাটিতে কিংবা বিদেশের মাটিতে সিরিজ রয়েছে, তারা খেলার মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু জাতীয় দলের বাইরে আরও শতাধিক ক্রিকেটারে কী অবস্থা? লকডাউনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া জাতীয় লিগের পরই শুরু হওয়ার কথা ছিল দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)।

কিন্তু লকডাউনে জাতীয় ক্রিকেট লিগ স্থগিত হয়ে গেছে। কবে জাতীয় লিগ শেষ করা যাবে, কবে আবার মাঠে গড়াবে প্রিমিয়ার লিগ- এসব নিয়ে এখন তারুণ উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা ক্রিকেটারদের। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ছাড়া তো তাদের আর আয়-রোজগারের বড় কোনো জায়গাই নেই।

গত বছরও করোনার কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো আসরই আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এবার ইচ্ছা ছিল মে’র প্রথম সপ্তাহে না হলেও মাঝামাঝি সময়ে ডিপিএল শুরু করার। কিন্তু আবারও করোনার বিস্ফোরণ এবং লকডাউনের ফলে তুমুল অনিশ্চয়তায় ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। খেলোয়াড়রাও দারুণ হতাশ।

হতাশার এই চিত্র ফুটে উঠেছে কোচ মিজানুর রহমান বাবুলের কণ্ঠেও। আজ মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা আশায় ছিল, সবাইতো এখান থেকেই বড় একটা অর্থ আয় করে। কিছুটা তো আশার বাণী শোনা যাচ্ছিলো। ৬ তারিখ থেকে খেলা শুরু হওয়ার কথা। এখন যে পরিস্থতি এটা কতদিন চলে সেটার উপরই নির্ভর করে খেলা হবে কি হবে না।’

মিজানুর রহমান বাবুলের মতে, এখন তাকিয়ে (পরিস্থিতির দিকে) থাকা ছাড়া উপায় নেই, এই পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না। তিনি বলেন, ‘এই লকডাউনে পরিস্থিতি কতটুকু ছোট হয়ে আসে সেটাই দেখার বিষয়। এখন তো আস্তে আস্তে বাড়ছে, লকডাউনের ফলে কমে কিনা সেটাই বোধহয় সরকার দেখবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই ৬ দিনের স্লট মিস হলেও ঈদের পরের যে স্লট সেটায় যদি ৬ দিন বাড়ে, জানি না সময় আছে কি না। হয়তো হতেও পারে।’

লকডাউনের কারণে খেলোয়াড়দের ফিটনেসে সমস্যা হবে না বলেনই মনে করেন মিজানুর রহমান বাবুল। তিনি বলেন, ‘ফিটনেসে কিছুটা সমস্যা তো হবেই এতদিন ঘরে বসে থাকলে। তবে খেলোয়াড়েরা এখন অনেক সচেতন। প্রায় দুই বছর ধরে দেখছি তারা ব্যক্তিগতভাবেই কাজ করে। আস্তে আস্তে সচেতনতা আরও বাড়ছে। অনেকেই ঘরে বসে বেশ কাজ করে। যারা সাবলম্বী তারা ঘরেই ইনস্ট্রুমেন্ট কিনে নিয়েছে যেটা ঘরে বসে করা সম্ভব।’

তবে ঘরে জিম করলেও স্কিল ট্রেনিং কিন্তু করা যায় না। এ বিষয়টা নিয়ে বাবুল বলেন, ‘স্কিল তো করার সুযোগ নেই আসলে। আপনি তো ঘর থেকেই বের হতে পারছেন না। কিছুটা তো সমস্যা হবেই। যাদের ঘরের সামনে জায়গা আছে কিংবা গ্যারেজ আছে, তারা এসব জায়গা। এরকম ছোট ছোট ড্রিল আপনি টেনিস বলেও করতে পারেন। যারা করার ইচ্ছে আছে তারা এই ড্রিলগুলো করলে উপকার তো হবেই।’

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]