দশের পাশে ‘বেমানান’ শূন্য, এবার কী সেই আক্ষেপ ঘুচবে মুমিনুলের?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

টেস্ট অভিষেকে অর্ধশতক। ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ১০৮ মিনিটে ৮৩ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৫৫ রানের ইনিংসটি ঢাকা পড়ে গিয়েছিল মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি (২০০), মোহাম্মদ আশরাফুলের ১৯০ আর নাসির হোসেনের সেঞ্চুরি (১০০) রানের অনবদ্য ইনিংস তিনটির কারণে; কিন্তু পরের টেস্টে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে আবার অর্ধশতক (৬৪) এবং পরের ইনিংসে ৩৭।

এর ঠিক পরের টেস্ট খেলতে গেলেন জিম্বাবুয়ের হারারেতে। সেখানে রান পাননি ২৩ ও ২৯ রানে সাজঘরে ফেরা; কিন্তু দেশে ফিরে ৫ মাসের মধ্যে হইচই ফেলে দিলেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ৩৭৭ মিনিট উইকেটে থেকে ২৭৪ বল খেলে ২৭ বাউন্ডারিতে ১৮১ রানের বিশাল ইনিংস সাজিয়ে মুমিনুল জানান দেন আমি বড় ইনিংস খেলতে পারি।

সেই শুরু। এরপর ওঠা নামার পালায় হেঁটে আজ ৮ বছরের মাথায় ৪২ টেস্টে ১০ সেঞ্চুরির মালিক কক্সবাজারের ২৮ বছর বয়সি এই বাঁ-হাতি উইলোবাজ। টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শতরানের মালিকও মুমিনুল। এছাড়া নামের পাশে ১৩টি হাফ সেঞ্চুরিও আছে।

কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, ওই সেঞ্চুরির সবকটাই দেশে। দেশের বাইরে একটি শতরানও নেই মুমিনুলের। বিদেশের মাটিতে একবারের জন্যও তিন অংকে পৌঁছাতে না পারা মুমিনুলের শুধু ৬টি হাফ সেঞ্চুরি আছে।

যার দুটি করে চারটি যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা (৫৫ ও ৬৪) আর ওয়েস্ট ইন্ডিজে (৫১ ও ৫৬)। এছাড়া নিউজিল্যান্ড (২০১৭ সালের জানুয়ারি ওয়েলিংটনে ৬৪) ও দক্ষিণ আফ্রিকায় (২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পচেফস্ট্রমে ২৫৪ মিনিটে ১৫০ বলে ১২ বাউন্ডারিতে ৭৭) একবার করে পঞ্চাশে পা রেখেছেন মুমিনুল। কিন্তু একবারও শতকের দেখা পাননি।

কেন বিদেশে মুমিনুলের একটি সেঞ্চুরিও নেই? ভক্ত ও সমর্থকরা কারণ খুঁজে খুঁজে হয়রান। মেলানো কঠিন। শুধু শতরান করতে না পারাই নয়, দেশের মাটিতে রানের নহর বইয়ে দেয়া মুমিনুলের দেশের বাইরে রান করতে রীতিমত যেন কষ্ট হয়।

পরিসংখ্যানেই আছে তার প্রমাণ। দেশে ২৫ টেস্টে ৪৫ ইনিংসে ১০ শতক আর ৭ অর্ধশতকে রান ২৩১২। সর্বোচ্চ ১৮১। গড় ৫৬.৩৯। এছাড়া দেড়শোর ওপরে ইনিংস আছে আরও দুটি; ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে ১৭৬, ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকার শেরে বাংলায় জিম্বাবুয়ের সাথে ১৬১।

দেশে তার ব্যাট সব সময়ই কথা বলে। ঘরের মাঠে মুমিনুল টেস্ট খেলতে নামা মানেই মাঠ আলোকিত হওয়া। তার ব্যাট শেরের বাংলা আর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রঙ্গিন, অথচ সেই মুমিনুল দেশের বাইরে কেমন বিবর্ণ। ১৭ টেস্টের ৩৩ ইনিংসে ২২.৩০ গড়ে রান মোটে ৭৩৬। সর্বোচ্চ ৭৭।

কেন মুমিনুল বিদেশে একবারের জন্য শতরান করতে পারেননি? এ প্রশ্ন বাংলাদেশের প্রতিটি সমর্থকের মনে উঁকি দেয়। এবার শ্রীলঙ্কায় ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দুই টেস্টে কী করবেন টাইগার অধিনায়ক?

এমনিতেই এতকাল টেস্ট সেঞ্চুরি করতে না পারার চাপ আছে সঙ্গে। সাথে নিকট অতীতে আফগানিস্তান আর ভাঙ্গাচোরা দুর্বল, অনভিজ্ঞ ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে খাবি খাওয়ার পর আবার টেস্ট খেলতে নামার বাড়তি চাপ। সব মিলিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এ কঠিন প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে পারবেন এবার মুমিনুল?

দলের যা অবস্থা, তাতে তার ব্যাট থেকে দীর্ঘ ইনিংস খুব জরুরি। বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান ফর্মে নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাও মুমিনুলই ছিলেন একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান (২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে ১১৫)।

ক্যান্ডিতে সে অধরা সাফল্যের দেখা মিলবে? দেশের বাইরে শতরান করতে না পারার আক্ষেপ ও বদনাম ঘোচাতে পারবেন মুমিনুল? দেখা যাক কী হয়।

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]