রাতারাতি বদলে গেল পেসার শরিফুলের জীবন!

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

এই তো মাত্র কয়েক বছর আগের কথা। দু'চাকার সাইকেলে পা চালিয়ে আধা ঘণ্টার রাস্তা পাড়ি দিয়ে যেতেন বাজারের দোকানে। টিভিতে লাইভ খেলা বাংলাদেশ-ভারতের, বাড়িতে তো বিদ্যুৎ নেই। শরিফুল ইসলামের কি আর তখন ঘণ্টা-আধা ঘণ্টা হিসেব কষার সময় আছে? বাংলাদেশের ম্যাচ, যে কোনো মূল্যে দেখতে তো হবেই!

২০১৫ সালে বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যকার ওই ওয়ানডে সিরিজেই অভিষেক হয়েছিল বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের। তরুণ মোস্তাফিজ যখন তার কাটার আর সুইংয়ে নাকাল করছিলেন ধোনি-কোহলিদের, শরিফুলের যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছিল না! সেই সময়ই বোধ হয় মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল স্বপ্নটা- আমিও তো বাঁ হাতে বোলিং করি, এমন যদি পারতাম!

স্বপ্ন মনের মধ্যে নিয়ে বেশি রাত কাটাতে হয়নি। পরের বছরই সামনে আসে বড় এক সুযোগ। দিনাজপুরে ট্রায়াল দিতে গিয়ে রাজশাহী ক্রিকেট একাডেমির বোলিং কোচ আলমগীর কবিরের নজরে পড়েন শরিফুল। পঞ্চগড়ের ছোট্ট গ্রাম নগরডাঙা থেকে আসা কিশোরের স্বপ্নের পরিধিটা এলাকার মাঠ থেকে দর্শকভরা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিয়ে যান মূলত তিনিই।

এক বছরের মধ্যে, ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাজশাহীর হয়ে খেলতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডাক পড়ে শরিফুলের। ওই বছরই খুলে যায় বাংলাদেশ 'এ' দলের দরজা, খেলে ফেলেন দুটি সিরিজ।

সেখান থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ প্রোগ্রামের আওতায় নিয়ে আসা হয় শরিফুলকে। যেখানে পান বোলিং কোচ মাহবুব আলি জাকিকে। জাকি খেয়াল করেন, ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি গড়নের শরিফুল মিডিয়াম পেস বল করছেন। অথচ উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই ভালোমানের একজন ফাস্ট বোলার হওয়া সম্ভব। সেখানেই ঘষেমেজে গড়ে তোলা হয় শরিফুলকে। গতি বাড়ে, শেখেন পেস বোলিংয়ের খুঁটিনাটি অনেক কিছু।

এরপরের যাত্রাটা রীতিমত রূপকথার মতো। ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলতে যান, সেখানে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন, বাংলাদেশও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে। ছোট্ট গ্রামের ছোট্ট ছেলেটি রাতারাতি হয়ে যায় ১৮ কোটি মানুষের চোখের মনি। এমন একজন পেসারকে দ্রুতই জাতীয় দলে দেখতে চাই-চারদিক থেকে আসতে থাকে দাবি।

যার ফলশ্রুতিতে ২০২১ সালের জানুয়ারিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দলে ডাক পান শরিফুল। নির্বাচকরা তাড়াহুড়ো করতে চাননি, দলের সঙ্গে রেখে তার আত্মবিশ্বাসটা বাড়াতে চেয়েছেন। ওই সিরিজে কোনো ম্যাচে একাদশে সুযোগ হয়নি বিশ্বকাপজয়ী পেসারের।

তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর অপেক্ষাটা খুব বেশি বড় হয়নি শরিফুলের। মার্চেই নিউজিল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে একাদশে সুযোগ পান। তিনটি ম্যাচে খেলে নেন ২ উইকেট।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার টেস্ট দলেও ডাক পেয়েছেন ১৯ বছরের শরিফুল। শ্রীলঙ্কার মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজে প্রথমটিতে ১৫ সদস্যের দলে জায়গা করে নিয়েছেন এই পেসার।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সবমিলিয়ে খেলেছেন মাত্র ৮টি ম্যাচ। উইকেট নিয়েছেন ২২টি। প্রতিভার কারণেই এত কম সময়ের মধ্যে টেস্ট দলেও ডাক পেয়ে গেলেন শরিফুল। কয়েক বছরের মধ্যে ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী ফরমেটে, একজন ক্রিকেটারের জীবনে এ যে স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু!

এমএমআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]