সবাই হয়তো আমার কাছে অনেক আশা করে, তাই সমালোচনা : শান্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

মাঠের ব্যাটিংয়ে দেখা গেল বুদ্ধিমত্তার ছাপ। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কথাতেও। সমালোচকদের জবাব দিয়ে দিলাম-ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়ার পর এমন কোনো আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত।

বরং ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে দেখা গেল কথাবার্তায় অনেক বেশি পরিণত। সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে বললেন, সবাই হয়তো আমার কাছে অনেক আশা করে, তাই এগুলো (সমালোচনা) করে।

হ্যাঁ, শান্তর এই কথাটা একদম ফেলে দেয়ার মতো নয়। নির্বাচক থেকে শুরু করে সমর্থকরা-তার ওপর প্রত্যাশাটা সবারই আকাশচুম্বী। কেননা বয়সভিত্তিক আর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে তবেই জাতীয় দলে এসেছেন। কিন্তু একের পর এক ব্যর্থতায় সমালোচকের পাল্লাই কেবল ভারি করেছেন তরুণ শান্ত।

টেস্ট অভিষেক সেই ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। চার বছর পার করে অবশেষে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। এই ম্যাচের আগে ৬ টেস্ট শেষে তার ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ২১.৯০। হাফসেঞ্চুরি একটি। সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংসটিও দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে। এমন পারফরম্যান্সের পর সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক। সেটা উঠেছেও।

হয়েছে রাজ্যের সমালোচনা। তারপরও নির্বাচকরা আস্থা রেখেছেন শান্তর সামর্থ্যে। একের পর এক সিরিজে সুযোগ দিয়েছেন। অবশেষে বড় রানের দেখা পেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাল্লেকেলে টেস্টের প্রথম দিন শেষে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে অপরাজিত আছেন ১২৬ রানে।

যেভাবে ব্যাট করছেন, তাতে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটাকে ডাবল সেঞ্চুরিতেও রূপ দেয়া সম্ভব। সেটা না হলেও নিজের দায়িত্ব কিন্তু প্রথম ইনিংসে বেশ ভালোভাবেই পালন করে ফেলেছেন শান্ত।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে এমন সেঞ্চুরি? মাথায় কী কাজ করছিল? নিজেকে প্রমাণের তাগাদাটা ছিল নিশ্চয়ই? শান্ত তেমন ভাবছেন না। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বললেন, ‌‘আমার কাছে মনে হয় যে নিজেকে প্রমাণ করার কিছু নাই। আমার বিশ্বাস ছিল আমি রান করতে পারব। কারণ শেষ পাঁচ-ছয় মাস অনেক পরিশ্রম করেছি। হ্যাঁ, রেজাল্ট আসেনি। কিন্তু ওই বিশ্বাসটা ছিল যে বড় রান করতে পারব। এখানে প্রমাণের কিছু নেই।’

সমালোচনাকে কিভাবে দেখেন? এখানেও বুদ্ধিদীপ্ত আর ইতিবাচক জবাব শান্তর, ‘সত্যি বলতে আমাকে নিয়ে কী হয়েছে, খুব একটা দেখিনি। হ্যাঁ শুনেছি, ফ্রেন্ড সার্কেল, ফ্যামিলি মেম্বারদের কাছে শুনেছি যে এরকম হচ্ছে। আমার কাছে মনে হয় সবাই আমার কাছে অনেক আশা করে। (বিশ্বাস করে) আমি ভালো করতে পারি। এই জন্য হয়তো মানুষ এগুলো করে ভালো খেলার আশায়।’

এমএমআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]