দিনশেষে টিম মিটিংয়ে আগামীকালের জন্য কী পরিকল্পনা হলো!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৪৩ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

যে দল দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে। এই সেদিন ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে, সেই টাইগাররাই শ্রীলঙ্কায় গিয়ে সবাইকে অবাক করে দারুণ শুরু করলো। প্রথম দিন শেষে মুমিনুল হকের দল করেছে ২ উইকেটে ৩০২।

অথচ ক্যান্ডির পাল্লেকেল্লে স্টেডিয়ামের ঘাসের পিচে টস জিতে মুমিনুলের আগে ব্যাট করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। বুক ভরা সাহস নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে পড়া, আগের মত একঝাঁক ব্যাটসম্যান (সাত-আটজন) নিয়ে একাদশ না সাজানো, ৬ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান আর ৫ স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে মাঠে নামা নিয়েও কথা হয়েছে। একজন ব্যাটসম্যান কম খেলানো আর দুই স্পিনারের সাথে তিন পেসার খেলানোর যৌক্তিকতা নিয়েও কথা হয়েছে বিস্তর। এমনও বলা হয়েছে, উইকেটে ঘাস আছে। একাদশে তিন পেসার থাকার পরও আগে বোলিং না করে ব্যাটিংয়ে নামা কেন?

কিন্তু দিন শেষে সবার মুখ বন্ধ। প্রথম দিন শেষে মুমিনুল হকের দল অনেক স্বস্তিতে। যেখান থেকে জয়ের চিন্তা করাই যায়। সব কিছুতেই কেমন যেন নতুনত্ব। বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক ও নিকট অতীতের সাথে যার মিল সামান্যই।

হঠাৎ এ পরিবর্তনের ছোঁয়া দেখে ভক্ত-সমর্থকরাাও খানিক বিস্মিত। হঠাৎ দলের এমন পরিবর্তন। কিভাবে? একাদশ সাজানো, ঘাসের পিচে আগে ব্যাটিংয়ে নামা- এসব সিদ্ধান্ত কার? কৌতুহলি প্রশ্ন অনেকের মনেই।

আজ বুধবার রাতে জাগো নিউজের কাছে সে বদলে যাওয়া টিম বাংলাদেশের গল্পই শোনালেন খালেদ মাহমুদ সুজন। টিম লিডার জানালেন, সবাই মিলেই দল সাজিয়েছে। কোচ, ক্যাপ্টেন সবাই মিলেই ঠিক করেছে একাদশ।

সুজন জানান, ‘সবচেয়ে বড় কথা, আমরা পজিটিভ ছিলাম। আমরা জিততে চেয়েছি। সাকিব নেই। জিততে কি করণীয়, তা ভেবে চিন্তে স্থির করেছি। সাকিব না থাকলে সাধারণতঃ দুজন লাগে তাকে রিপ্লেস করতে; কিন্তু আমরা একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান না নিয়ে শুধু দু’জন স্পিনার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাথে তিনজন পেসার।’

‘কারণ, প্রচন্ড গরম। এক স্পেল বল করলেই গরমে কম্ম কাবার। তাই আমরা সবাই মিলে ঠিক করেছি যে ৫ স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে খেলবো। তাতে সবাই রেস্ট পাবে। কারো ওপর বাড়তি শারীরিক চাপ পড়বে না। আর একটা কথা, ৬ জন ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলা আর ৭-৮ ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলার মধ্যে আসলে কোন ফারাক নেই। পারলে ৬ জনই পারবে। আর না পারলে ৮ জন মিলেও পারবে না। আজকে দেখেন না, ৪ জন খেলেইতো ৩০০ পার করে দিয়েছে।’

আর টস জেতাটাকেও সৌভাগ্য প্রসূত বলে মন্তব্য সুজনের। ‘আমরা বিট লাকি যে টস জিতেছি। এখানে তৃতীয় ও চতুর্থ দিন পিচে স্পিন ধরার সম্ভাবনা খুব বেশি। তখন ব্যাটিং করা খুব কঠিন হবে।’

সুজন জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে সতর্ক ও সাবধানী থাকতে বলা হয়েছে। ‘আজ দিনের খেলা শেষে ক্রিকেটারদের মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে, কোনোভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না। আজকের দিনটি ভাল কেটেছে আমাদের। কিন্তু সামনের দিনগুলোও ভালভাবে কাটাতে হবে। কোনভাবেই ধরে নেয়া যাবে না যে আমরা খুব ভাল জায়গায় আছি।’

সুজন জানান, অতীতের উদাহরণ টেনে ছেলেদের মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে, ‘আগে ৪ দিন ভাল খেলে প্রথম ইনিংসে সাড়ে ৫০০’র বেশি রান করেও টেস্ট হারার রেকর্ড আছে আমাদের। আমরা নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের সাথে প্রায় ৬০০ রান করেও শেষ পর্যন্ত পারিনি। হেরে গেছি।’

কাজেই বলে দেয়া হয়েছে, কোনোভাবেই আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার কিছু নেই। একটি দিন ভাল গেছে। বাকি দিনগুলোও নিজেদের করতে হবে। ভাল খেলতে হবে। ইটস জাস্ট এ গুড এন্ড পজিটিভ স্টার্ট। তবে এর কন্টিনিউয়েশন খুব দরকার। আশা করছি, ছেলেরা এ ধারা অব্যাহত রাখবে। উইকেট অনেক ভাল ছিল। তারপরও রান করতে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তামিম, শান্ত আর মুমিনুল অনেক কষ্ট করেছে। আমার বিশ্বাস কালকেও আমরা যতটা সময় পারা যায় ব্যাটিং করবো।’

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]