বিদেশি স্পিন কোচের কি আসলেই দরকার আছে?

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২১

বড় নামডাক দেখে ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে স্পিন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। উচ্চ বেতনে নিয়োগ পাওয়া কিউই স্পিন কিংবদন্তি আবার বছরে ১০০ দিনের বেশি কাজ করবেন না, চুক্তিতে লেখা আছে সেটিই। সেই ১০০ দিনও পাওয়া যাচ্ছে না করোনার কারণে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে ছিলেন না। নিজ দেশ নিউজিল্যান্ডে থাকার সুবাদে ওই সফরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেন, শ্রীলঙ্কা সফরে আবারও নেই ভেট্টোরি। ফলে স্বদেশি কোচ সোহেল ইসলামই এই সফরে তাইজুল-মিরাজদের দেখভাল করছেন।

ভেট্টোরি বাংলাদেশ দলের কোচ হওয়ার পর সেভাবে কাজই করতে পারেননি। যতটুকু সময় পেয়েছেন, তার মধ্যেই বা কতটুকু কাজে লাগাতে পেরেছেন? বরং তাইজুল ইসলামের অ্যাকশন বদলে 'হিতে বিপরীত'ই যেন হয়েছিল।

সেই তাইজুলের কথাবার্তায় স্পষ্ট, স্বদেশি স্পিন কোচ সোহেল ইসলামের কাছেই বরং বেশি স্বচ্ছন্দ্য তারা। স্পিন কোচ ভেট্টোরিকে না পাওয়ায় কোনো আক্ষেপ শোনা গেল না এই বাঁহাতির কন্ঠে।

তাইজুল বলেন, ‘আমরা স্পিন কোচদের যে খুব বেশি পেয়েছি কাছে, তা কখনই হয়নি। আমরা যখন কাজ করেছি বেশিরভাগ সময় সোহেল ভাইয়ের সাথেই কাজ করেছি, ব্যক্তিগতভাবে। আমার যখন কোনো সমস্যা হয়, অ্যাকশনে বাঁ অন্য যেকোন সমস্যা যখন দেখা দেয়, তখন সোহেল ভাই সেটা দেখলেই বুঝতে পারেন। সোহেল ভাইয়ের কাছে অনেক ভালো লাগে, সমস্যা হয় না আর কী! আমার জন্য খুব সুবিধা হয় আর ভালো কিছু হবে ইনশাআল্লাহ।’

বিদেশি কোচদের ভাষা অনেক সময় ঠিকভাবে বুঝতেই পারেন না বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। ভেট্টোরির সঙ্গেও কি এই সমস্যাটা হয়? তাইজুল অবশ্য সেটা বলছেন না। তার কথা, ‘কমিউনেকেশনের এখানে কোনো প্রবলেম হয়নি। দেখা যাচ্ছে যে আমি ইংলিশ কম বুঝলেও, শুনলে অনেক কিছু বোঝা যায়, বলাটা হয়তো ডিফিকাল্ট হয়। আর খুবই রেয়ার, যেটা বুঝি না সেটায় অন্য কারো হেল্প নেই।’

তার মানে ভাষার প্রতিবন্ধকতাটা খুব বড় বিষয় মনে না করলেও স্বদেশি কোচের কাছে সব কিছুতেই স্বচ্ছন্দ্য তাইজুল। মেহেদি হাসান মিরাজও কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সোহেল ইসলামের কাছে সব কিছু খুলে বলতে পারেন তারা। তাহলে এত এত টাকা খরচ করে বিদেশি কোচ রাখার দরকারটা কী? আর বিদেশি কোচরা কতটা দলের উপকার করতে পারছেন, সেটাও তো পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করা উচিত।

এমএমআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]