মুমিনুলদের ম্যাচ জয়ের ফর্মুলা বাতলে দিলেন সারোয়ার ইমরান

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৪৭ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২১

পাল্লেকেলে টেস্টে কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ? অংকের হিসেবে তৃতীয় দিন শেষে মুমিনুল হকের দল এগিয়ে ৩১২ রানে। ম্যাচের আছে আর দুদিন, এই সময়ের ভেতরে কি ফল নিষ্পত্তির সম্ভাবনা আছে? এ ম্যাচে টাইগারদের জেতার সম্ভাবনা কতটুকু?

জিততে হলে বাকি দুই দিনে শ্রীলঙ্কাকে দুইবার অলআউট করতে হবে। লঙ্কানদের ২০ উইকেটের মধ্যে আজ ৭৩ ওভারে মোটে ৩ উইকেটের পতন ঘটাতে পেরেছে টাইগার বোলাররা। বাকি ১৭ উইকেটের ফেলার মতো পর্যাপ্ত বোলিং শক্তি আছে বাংলাদেশের?

আজ দুপুর থেকে দিনের শেষ বল পর্যন্ত তাসকিন আহমেদ, আবু জায়েদ রাহী আর এবাদত হোসেন কেমন বোলিং করেছেন? পেসারদের পাশাপাশি স্পিনারদের বল কেমন হয়েছে? মোদ্দা কথা, টাইগার ভক্ত ও সমর্থকদের একটাই জিজ্ঞাসা, ম্যাচের এই অবস্থা থেকে কি মুমিনুল বাহিনীর জেতার সম্ভাবনা আছে? থাকলে কতটা, কীভাবে?

আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় এসব বিষয়ে জাগো নিউজের সাথে কথা বলেছেন দেশ বরেণ্য কোচ সারোয়ার ইমরান।তিনি মনে করেন, ম্যাচে এখনও বাংলাদেশ অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, যেখান থেকে শুধু জয়ের চিন্তাই করা যায়।

তবে ইমরানের অনুভব, জেতাটা খুব সহজ হবে না। কারণ হাতে সময় কম, দুদিন। ইমরান বলেন, ‘এ দুইদিনের মধ্যে জয় নিশ্চিত করতে হলে খুব ভালো বোলিং করতে হবে এবং সবার আগে লঙ্কানদের ফলোঅনে ফেলতে হবে। ফলোঅনে ফেলতে পারলে মুমিনুল বাহিনীর জয়ের পথটা সুগম হবে। আর যদি লঙ্কানরা ফলোন এড়িয়ে টাইগারদের কাছাকাছি বা কিংবা সাড়ে চারশো করে ফেলে, তখন জেতার সম্ভাবনা কমে যাবে। ম্যাচ ড্র‘র দিকে চলে যাবে।’

তাহলে কী করলে বাংলাদেশের পক্ষে আসতে পারে ম্যাচ? বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের কোচের প্রেসক্রিপশন, সবার আগে আগামীকাল চতুর্থ দিন সকালে কিছু একটা করতেই হবে। সেটা কী?

ইমরানের ব্যাখ্যা, ‘লঙ্কান ব্যাটিংয়ের ওপর প্রবল আঘাত হানতে হবে। কাল সকালের প্রথম ঘন্টা ও লাঞ্চের আগে যদি আরও তিন থেকে চার উ্ইকেটের পতন ঘটানো সম্ভব হয়, তাহলে লঙ্কানরা চাপে পড়ে যাবে। তখন যদি স্পিনাররা আরও বল ঘোরাতে পারে ,তাহলে ফলোঅনে ফেলা যেতেও পারে।’ ইমরানে সোজাসাপ্টা কথা, ‘ম্যাচ জিততে হলে শ্রীলঙ্কাকে ফলোঅনে ফেলতে হবে। ফলোঅনে ফেলতে না পারলে জেতা কঠিন।’

jagonews24

অভিজ্ঞ এই কোচ অবশ্য পিচ থেকে কিছু পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তার উপলব্ধি, ‘উইকেট ধীরে ধীরে বোলারদের দিকে ঝুঁকছে। এ পিচে দরকার সঠিক জায়গায় বল ফেলা।যদি বোলিংটা ভালো হয়, তাহলে অবশ্যই জেতা সম্ভব। সেজন্য সবার আগে দরকার, একদম নিঁখুত নিশানায় বল ফেলা।’

ইমরান যোগ করেন, ‘উইকেটে এখনই ধুলো উড়তে শুরু করেছে। শেষ সেশনে পেসারদের বল যেখানে পড়েছে, সেখানেই কিছু না কিছু ধুলো উড়তে দেখা গেছে। এটা খুবই ইতিবাচক। এতে করে পেসারদের বলের কার্যকারিতা বাড়বে।’

অন্যদিকে স্পিনারদের ভালো করার অনুকূল ক্ষেত্রও নাকি তৈরি হয়ে গেছে। ইমরানের আশাবাদী উচ্চারণ, ‘সামনের দিনগুলোয় ব্যাটসম্যানদের আসল লড়াই হবে স্পিনারদের সাথে। কারণ এখনই একটু আধটু বল ঘুরতে শুরু করেছে।’

তাইজুল আর মিরাজের প্রতি তার পরামর্শ হলো, ‘বোলারদের বুটের স্পাইকের আঘাতে দুই পপিং ক্রিজের আশ পাশে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। সেখানে বল ফেলতে পারলে, বল বিপজ্জনকভাবে টার্ন নিতে পারে। কখনওবা আচমকা লাফিয়েও উঠতে পারে। সেই কাজটি যত দক্ষতার সাথে করা সম্ভব হবে, স্পিনারদের তত সফল হবার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।’ তাইজুল ও মিরাজের বোলিংয়ের প্রশংসা করে ইমরান বলেন, ‘দুই স্পিনারই ভালো বোলিং করেছে। আগামীকালও তাদেরকেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।’

পেসারদের মধ্যে তাসকিনের প্রশংসা করলেও এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে সন্তুষ্ট নন ইমরান। ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময় জাতীয় দল, ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট, বিপিএল, এনসিএল ও বিসিএলে হেড কোচের পাশাপাশি পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করা ইমরানের পর্যবেক্ষণ, ‘এবাদত ১৪০+ গতিতে বল করলেও তার স্টামিনা কম। বলের কারুকাজ বাড়াতে হবে। তাকে লম্বা স্পেলে বল করা শিখতে হবে। তবে তাসকিন বেশ ভালো বল করেছে। এছাড়া রাহীও মোটামুটি বল করেছে। তবে এবাদতকে আরও উন্নতি ঘটাতে হবে।’

এআরবি/এমএমআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]