দ্বিতীয় দিনের ধীর ব্যাটিংই কমিয়ে দিয়েছে সম্ভাবনা!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২১

বাংলাদেশ কি ইনিংস ঘোষণায় একটু বেশি দেরি করে ফেলেছে? আজ যে রানে মুমিনুল ইনিংস ঘোষণা করেছেন, একটু হাত খুলে খেলে গতকাল দ্বিতীয় দিন চা বিরতির পর সেটি করা যেতো না?

গতকাল (বৃহস্পতিবার) টেস্টের দ্বিতীয় দিন বৃষ্টি ও আলোক স্বল্পতায় প্রায় দেড় ঘন্টা খেলা হয়নি, তাতেই গেম প্ল্যানে সমস্যা হয়েছে? সেই সময়টা চলে যাওয়াই কি বিলম্বিত ইনিংস ঘোষণার কারণ? নাকি মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েও মুশফিক, মুমিনুলরা প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশি রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে ফেলেছেন?’

আজ তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সেসব প্রশ্নও কিন্তু উঠে আসছে। এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল, শুরুর দিন প্রথম সেশনে ওভার পিছু রান তোলার গতি ছিল চারের ওপরে। তারপর সময়ের সাথে সাথে বিশেষ করে তামিম ইকবাল আউট হওয়ার পর রান তোলার সে গতি কমেছে।

তারপরও প্রথম দিন ওভারপিছু সাড়ে তিন রান করে তুলেছে মুমিনুলের দল। তবে পরের দুইদিন সে গতি ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। সময়ের প্রবাহতায় তা কমতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত মুমিুল বাহিনী ৫৩১ রান করতে খেলেছে ১৭৩ ওভার।

প্রশ্ন আসতে পারে, টেস্টে আবার রান তোলার গতির প্রশ্ন আসছে কেন? কেউ কেউ হয়তো এটাকে অমূলক আলোচনাও ভাবতে পারেন। নাহ, বিষয়টা একদম অমূলক নয়। রান তোলার গতি আরও দ্রুত থাকলে কাল (বৃহস্পতিবার) শেষ ঘন্টায়ই লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ে নামানো সম্ভব ছিল। তাতে করে হাতে সময় বেশি পাওয়া যেতো। লঙ্কানদের ফলোঅন এড়ানোর চাপের পাশাপাশি প্রায় তিনদিন উইকেটে কাটানোর বাড়তি চাপও দেয়া যেতো।

কেউ কেউ মনে করেন, দ্বিতীয় দিন আর আজ সকালের সেশনেও লঙ্কান বোলাররা বেশ টাইট বোলিং করেছেন। আর তাতেই মুমিনুল, শান্ত, মুশফিকদের পক্ষে দ্রুতগতিতে রান তোলা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার জাগো নিউজের সাথে ক্যান্ডি টেস্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জাতীয় দলের সাবেক কোচ সারোয়ার ইমরানও সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন।

ইমরান বলেন, ‘আমার মনে হয় গতকাল লাঞ্চের পর থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা একটু বেশি ডিফেন্সিভ হয়ে পড়েছে। লঙ্কানরাও টাইট বোলিং করেছে। তারাও ব্যাটসম্যানকে ফ্রি খেলতে দেয়নি। আলগা বল কম ছিল। অফস্ট্যাম্পের বাইরে জায়গাও দিয়েছে কম।’

তারপরও কোচ ইমরানের ধারণা, দ্বিতীয় দিনই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আরও হাত খুলে খেলার চেষ্টা করা দরকার ছিল। ইমরানের কথা, ‘আমরা সম্ভবত সাড়ে পাঁচশ’কে টার্গেট ধরে রেখেছিলাম। সেটা কাল লাঞ্চের পর চালিয়ে খেললেই হয়ে যেতো। কাল যদিও প্রায় ২৬ ওভার খেলা হয়নি, তার আগেই এক সেশন আমরা বেশি স্লো খেলেছি। ঐ এক সেশনে রান তোলার গতি দুইয়ের নিচে নেমে গিয়েছিল। আর তাতেই সাড়ে পাঁচশোর কাছে যেতে আজ প্রায় দেড় ঘন্টা বেশি সময় ব্যাট করতে হয়েছে।’

ইমরানের ধারণা, কাল পড়ন্ত বিকেলে ৫০০ রান করেও লঙ্কানদের যদি দিনের শেষ ৩০ মিনিট ব্যাটিং করানো যেতো, তখন বাংলাদেশের জন্য হিসেবটা সহজ হতো। হাতে সময় বেশি পাওয়া যেতো।

কোচ ইমরান অবশ্য কারো নাম উল্লেখ করেননি। তবে মুশফিকুর রহীমের ব্যাটিংয়ের ধরনের বিশেষ করে অতি রক্ষনাত্মক মনোভাবের সমালোচনা অনেকের মুখে। তাদের কথা, ওপরের দিকে তামিম প্রায় ৯০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করেছেন। নাজমুল হোসেন শান্তও প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি ছিলেন স্ট্রাইকরেটে। কিন্তু অধিনায়ক মুমিনুল হক আর পরে মুশফিকুর রহীম অনেক বেশি স্লথ ব্যাটিং করেছেন। তাতেই রানের গতি গেছে কমে।

এখন যে রান, হয়তো গতকাল দ্বিতীয় দিনে শেষ ঘন্টায় গিয়েই তোলা যেতো, অথচ তৃতীয় দিন প্রথম সেশনও খেলতে হয়েছে প্রায়। তাতেই একটি সেশন গেছে হাতছাড়া হয়ে। বিশেষ করে আজ সকালের সেশনে মুশফিকের অতিরক্ষণাত্মক ব্যাটিং জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। তবে কি জয়ের জন্য নয়, ড্রয়ের জন্য খেলছে বাংলাদেশ!

এআরবি/এমএমআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]