‘ওই ম্যাচের স্মৃতি মনে হলে গর্বও হয়’

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:১৯ পিএম, ০২ মে ২০২১

তার আগমণটা হঠাৎ করেই; একদম উল্কার বেগে। আবব্দুর রাজ্জাক রাজ আর সাকিব আল হাসানের মত দু’জন প্রতিষ্ঠিত আর নামি বাঁ-হাতি স্পিনার থাকার পরও এক ম্যাচে তৃতীয় বাঁ-হাতি স্পিনার হিসেবে একাদশে সুযোগ পাওয়াই ছিল অনেক বড় ব্যাপার।

কিন্তু ইতিহাস জানাচ্ছে আজ থেকে ৯ বছর আগে ২০১২ সালের ১৮ জুলাই বেলফাস্টে সে ব্যতিক্রমি ঘটনাই ঘটেছিল। যে ম্যাচে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনজন বাঁ-হাতি স্পিনার নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ।

আর প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমে বল হাতে পেয়েই বাজিমাত করেছিলেন ইলিয়াস সানি। ৪ ওভারে এক মেডেন সহ ১৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট দখল করে রীতিমত হইচই ফেলে দেন ইলিয়াস সানি।

সেই ইলিয়াস সানি এখন কী করছেন, কেমন আছেন, কোথায় আছেন- আসুন জেনে নেয়া যাক জাগো নিউজের ‘হ্যালো প্লেয়ার’ থেকে।

জাগো নিউজ : কেমন আছেন?

ইলিয়াস সানি : আলহামদুল্লিল্লাহ আছি ভাল ভাই।

জাগো নিউজ : কোথায় আছেন এখন?

ইলিয়াস সানি : আমি আমার পৈত্রিক নিবাস হাজারীবাগে আছি। সেখানেই বড় হয়েছি। এখন আব্বা-আম্মা আর আমার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে আছি।

জাগো নিউজ : আপনার ছেলে মেয়ে কজন, ওরা কতবড় হলো?

ইলিয়াস সানি : আমার তিনটি মেয়ে। বড় মেয়ে আট বছর। স্কুলে যায়। আর মেজটি ৪ বছর। ইনশাল্লাহ ওকে আগামী বছর সব কিছু ঠিক হলে স্কুলে দেব। আর তৃতীয় মেয়ে একদম ছোট, এক বছর।

জাগো নিউজ : করোনার মধ্যে কিভাবে কাটছে সময়?

ইলিয়াস সানি : করোনার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি অবশ্যই। এছাড়া এখন তো রমজান মাস। রোজা রাখছি। তাই দিনের বেলা কোনো রকম ফিজিক্যাল ট্রেনিংও করা যাচ্ছে না। তবে ইফতারের পরে আমি জিম করি। উদ্দেশ্য নিজেকে ফিট রাখা।

জাগো নিউজ : আপনি তো প্রিমিয়ার ক্রিকেটে নিয়মিত, জাতীয় লিগেও কী তাই?

ইলিয়াস সানি : হ্যাঁ, প্রিমিয়ার লিগে আমি এখনো আল্লাহর রহমতে নিয়মিত খেলি। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আমার বর্তমান ক্লাব শেখ জামাল ধানমন্ডি। গতবার যে এক ম্যাচ হয়ে লিগ বন্ধ হয়েছে সে ম্যাচও খেলেছি আমি।

জাগো নিউজ : আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে?

ইলিয়াস সানি : আমি যেহেতু জন্মসূত্রে ঢাকার ছেলে। তাই আমার টিম ঢাকা মেট্রো। গতবারও আমি ছিলাম ঢাকা মেট্রোতে। তবে এবার আর আমাকে তারা নেয়নি। মানে এবার যে দুই ম্যাচ হয়ে জাতীয় লিগ বন্ধ হয়ে গেছে, তাতে আমি লিস্টেড প্লেয়ার ছিলাম না।

জাগো নিউজ : সানি, আপনিতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের রেকর্ড সৃষ্টিকারি বোলার। টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই ৫ উইকেট শিকারী। সে স্মৃতি কতটা জাগরুক আছে?

ইলিয়াস সানি : আলহামদুলিল্লাহ। অনেক দোলা দেয় মনে। কেন দেবে না বলুন? আমার ওই স্পেলটি তো (৪-১-১৪-৫) বাংলাদেশের রেকর্ড। মানে টি-টোয়েন্টিতে আমাদের কোন বোলারের করা সব সময়ের সেরা। যখনই মনে পড়ে খুব ভাল লাগে। ভিতরে একরকম ভাললাগা অনুভব করি। সেই সাথে গর্বও হয়। ফ্ল্যাশব্যাকেও চলে যাই। চোখের সামনে ওই ম্যাচের সব স্মৃতি ভেসে ওঠে।

জাগো নিউজ : কী কী মনে আছে ওই ম্যাচের, একটু বলবেন কি?

ইলিয়াস সানি : একদম পুরোপুরি মনে আছে। আমি খেলার আগের রাতে জানি যে, কাল খেলছি। রাতেই মধ্যেই চিন্তা শুরু হলো কিভাবে কী করবো? নিজেকে কিভাবে মেলে ধরতে পারি? তারপরও ভেতরে একটা অন্যরকম সংশয় ছিল। বলতে পারেন দ্বিধা দ্বন্দ্বে ছিলাম।

জাগো নিউজ : কিসের দ্বিধা-সংশয়? একটু ভেঙ্গে বলবেন?

ইলিয়াস সানি : আসলে একাদশে আমি ছাড়াও আর দু’জন বাঁ-হাতি স্পিনার ছিল। রাজ্জাক ভাই আর সাকিব। তিনজন লেফ্ট আর্ম স্পিনার একসাথে। কাজেই বারবার ভেবেছি আমাকে কি বোলিং দেবে? দিলেও কখন বোলিংয়ে ডাকবে? নিশ্চয়ই তারা তো স্টাবলিস্ট পারফরমার, খুব স্বাভাবিকভাবে তারা আগে বোলিং করবেন?

পরে দেখি নাহ! আমি সৌভাগ্যবান যে আমাকে ১০ ওভারের আগেই বোলিংয়ে আনা হলো। রাজ ভাইয়ের (আব্দুর রাজ্জাক) এবং পরিষ্কার মনে আছে আমি প্রথম ওভারেই (দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে) দুই উইকেটের পতন ঘটিয়ে বসলাম এবং সেটা ছিল উইকেট মেডেন। তারপর পর্যায়ক্রমে প্রতি ওভারে একটি করে আরও তিন উইকেট পেলাম।

জাগো নিউজ : ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

ইলিয়াস সানি : ঘরের ক্রিকেট খেলতে চাই আরও। তাইতো ফিজিক্যাল ট্রেনিং করি। জিমে যাই। শেখ জামাল ধানমন্ডির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ খেলতে চাই। আশা করছি করোনার তীব্রতা কমে গেলে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে প্রিমিয়ার লিগ শুরু হবে। তাতে খেলতে চাই। পারফরমও করার আশা রাখি।

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]