‘ওয়ানডে সিরিজের ফল আমাদের পক্ষেই থাকা উচিত’

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:১৭ পিএম, ১০ মে ২০২১

শ্রীলঙ্কায় ৬ ব্যাটসম্যান আর ৫ স্পেশালিস্ট বোলার ফর্মুলার কারণে একাদশে জায়গা পাননি। না হয় মোহাম্মদ মিঠুন এখন প্রায় নিয়মিত দসদ্যই বনে গেছেন জাতীয় দলে।

কিন্তু লঙ্কানদের বিপক্ষে টিম কম্বিনেশনের কারনে ১১ জনের বাইরে থাকতে হয়েছে। এতকাল দলে অবস্থান খুব পাকাপোক্ত ছিল না। অল্প কিছদিন ধরেই নিজের অপরিহার্যতার পরিচয় দিয়ে একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন। ঠিক এমন সময় আবার মূল দলের বাইরে পড়ে যাওয়া- কেমন অনুভব করছেন মিঠুন?

ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে কী ভাবছেন? জাতীয় দলে নিজের অবস্থান নিয়েই বা তার চিন্তা ভাবনা কী? জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে সে সব নিয়ে খোলামেলা আলাপ করেছেন কুষ্টিয়ার এ বিনয়ী মিডল অর্ডার।

জাগো নিউজ : কেমন আছেন, কোথায় আছেন?

মিঠুন : আলহামদুল্লিাল্লাহ। ভাল আছি। এখন স্ত্রী আর দুই সন্তানসহ আমার বসুন্ধরা বাসায় আছি।

জাগো নিউজ : আজ তো প্র্যাকটিস শেষ হয়ে গেল। এক সপ্তাহর ছুটি। ঈদে কী বাড়ি যাচ্ছেন?

মিঠুন : হ্যাঁ, আজ প্র্যাকটিস হয়ে ছুটি। ১৬ মে কোভিড টেস্টের পর আবার ১৮ মে শুরু অনুশীলন। মানে এক সপ্তাহ ছুটি। তবে বাড়ি যাব কি না, এখন পর্যন্ত কিছু ঠিক করিনি। আমার মেয়েটার একটু শরীর খারাপ। ডাক্তার দেখিয়েছি। আল্লাহ ভরসা। দেখা যাক।

জাগো নিউজ : আপনার বাড়ি কুষ্টিয়ার কোথায়?

মিঠুন : একদম শহরেই (জেলা সদর)। আমাদের জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক সুমন ভাই (হাবিবুল বাশার)- এর বাসার খুব কাছেই। তিনি পেয়ারাতলা আর আমাদের বাসা থানা পাড়া।

জাগো নিউজ : আপনি তো শ্রীলঙ্কায় টেস্ট একাদশে জায়গা পাননি। তা নিয়ে কোন আক্ষেপ, দুঃখবোধ আছে?

মিঠুন : দুঃখবোধ বলবো না, খেলতে না পারার একটা কষ্ট তো আছেই। এটাতো সব সময়ই থাকে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনি সব সময়ই চাইবেন খেলতে। কখনো সুযোগ মিলবে, কখনো মিলবে না। সুযোগ পেলেতো অবশ্যই ভাল লাগতো। তবে সুযোগ পাইনি বলে যে খুব হতাশ, তাও বলবো না। কারণ টিম কম্বিনেশন তো মেনে নিতে হবে।

টিমমেট হিসেবে দলের গঠন শৈলি মেনে নেয়াই আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। একজন আদর্শ টিমমেট হতে হলে কখনো ১১ জনে জায়গা না পেলেও তা হাসি মুখে মেনে নিতে হবে।

টিম কম্বিনেশনের কারণে কখনো খেলার সুযোগ না পেলেও দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। শতভাগ সমর্থন করা, ড্রেসিং রুমে সহযোগিদের চাঙ্গা রাখাও দায়িত্ব এবং কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

জাগো নিউজ : শ্রীলঙ্কার মাটিতে লঙ্কানদের সাথে দুই টেস্টের পারফরমেন্স ও ফল দুই রকম। প্রথম ম্যাচে ভাল খেলে ড্র, পরের টেস্টে হতাশাজনক ব্যাটিংয়ের কারণে হার। ওই টেস্ট সিরিজ আগামী সিরিজে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে? ইতিবাচক , না নেতিবাচক ?

মিঠুন : আমি তো মনে করবো পজিটিভ ইমফ্যাক্টই পড়বে। কারণ শেষ টেস্ট হারলেও আমার মনে হয় না সামগ্রিকভাবে আমাদের পারফরম্যান্স খারাপ ছিল। আমরা খারাপ খেলেছি, তা মানতে রাজি না আমি। বরং মনে হয় ভাল ব্যাটিংই করেছি আমরা।

শেষ টেস্টের টসটা খুব ভাইটাল হয়ে গেছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি, যদি সেকেন্ড টেস্টের টস আমরা জিততাম, তাহলে ম্যাচের ফল আমাদের অনুকুলে থাকতো। লঙ্কানরা যেভাবে জিতেছে, আমরাও সেভাবেই জিততাম। কারণ উইকেট প্রথম দুই-আড়াই দিন ছিল ব্যাটিং সহায়ক। তখন বোলাররা কোনই হেল্প পায়নি। থার্ড ডে থেকে বল স্পিন করতে শুরু করেছে।

আমরাও যখন সেকেন্ড ইনিংসে বোলিং করেছি, তখন লঙ্কানরাও স্ট্রাগল করেছে। তাদেরও আমাদের স্পিনারদের খেলতে বেশ কষ্ট হয়েছে। আমি মনে করি ওভারঅল শ্রীলঙ্কা সিরিজকে পজিটিভলি নেয়াই ভাল হবে।

জাগো নিউজ : শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্টে যাই হোক না কেন, ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে কী বাংলাদেশ ফেবারিট?

মিঠুন : একটা ভাল ও জমজমাট সিরিজ হবে। লড়াই হবে। তবে আমি পারসোনালি মনেকরি, আমরা অনেক কারণেই ঘরের মাঠে এগিয়ে থাকবো। আমাদের অ্যাডভান্টেজটাও বেশি থাকবে। আর আমাদের ওয়ানডে টিমটাও বেশ ভাল। আমরা অন্য ফরম্যাটের তুলনায় ওয়ানডে ভালোও খেলি। ওয়ানডে সিরিজের ফল আমাদের পক্ষেই থাকা উচিৎ।

mithun

জাগো নিউজ : সাকিব ও মোস্তাফিজের ফিরে আসার কতটা ইতিবাচক প্রভাব থাকবে?

মিঠুন : অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব থাকবে। কারণ সাকিব ভাই আর মোস্তাফিজ দুজনই টপ প্লেয়ার। সাকিব ভাইকে নিয়ে বলার কিছু নেই। তিনি দলের জন্য কতটা, আর ব্যাট ও বল হাতে কী করতে পারেন- তা সবার জানা। মোস্তাফিজও আমাদের সম্পদ। এবারের আইপিএলে বেশ ভাল বল করেছে। আমার মনে হয় মোস্তাফিজ এবারের আইপিএলে নিজের হারানো ছন্দ ফিরে পেয়েছে। যেটা আমাদের দলের জন্য অবশ্যই প্লাস পয়েন্ট এবং তার বোলিংটা উপকারে আসবে।

আর আমাদের টিমটাও আসলে এমন না যে, দুই-তিনজন না থাকলে সমস্যা হবে না। আমাদের ভাল ও কার্যকর প্লেয়ারের সংখ্যা কম। তারওপর যখন সাকিব ভাই আর মোস্তাফিজের মত প্লেয়ার যখন দলে ফিরে আসেন, তখন টিম অবশ্যই উপকৃত হবে।

জাগো নিউজ : টেস্টে একাদশে জায়গা হয়নি, মিঠুন নিশ্চয়ই ওয়ানডে খেলতে মুখিয়ে আছে?

মিঠুন : আমার জন্য আসলে সব ম্যাচ, প্রতিটি সিরিজই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমি অপেক্ষায় থাকি খেলার। কবে কখন সুযোগ আসবে- তা ভেবে অপেক্ষার প্রহর গুনি। আমার কাছে তাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম ওয়ানডে সিরিজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

যেহেতু আমার সুযোগ তেমন আসে না। আসলেও একটু বিরতি দিয়ে। তাই আমি মুখিয়ে আছি খেলতে। সুযোগ পেলে সামর্থ্যের সবটুকু ঢেলে উজাড় করে দিতে। সে জন্যই নিজেকে ওইভাবে তৈরি করে রাখতে হয়, যখনই সুযোগ আসে, তখনই যেন নিজের সেরাটা দিতে পারি।

তবে টেস্টে জায়গা পাইনি বলে যে ওয়ানডে সিরিজে খেলতেই হবে, না পেলে খুব হতাশায় ডুবে যাব, এমন চিন্তা করতেও রাজি না আমি। আমার মনে হয়, তাতে একটা বাড়তি চাপ তৈরি হবে ভেতরে। আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করার চেষ্টায় আছি। আমি যেন নিজের সেরাটা দিতে পারি- সেটাই লক্ষ্য।

জাগো নিউজ : শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরার পর যে চারদিন প্র্যাকটিস করলেন, তা কতটা কার্যকর হলো?

মিঠুন : আসলে আমি মোটে দু’দিন প্র্যাকটিস করেছি। রোস্টারে এমনই ছিল। তবে আমার কাছে এই ক’দিনের প্র্যাকটিস সেশনের মূল বার্তা ছিল ‘লাল বল’ থেকে আবার সাদা বলে ফেরা। শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজে তো আর সাদা বলে বাটিং-বোলিংয়ের কোনোই সুযোগ ছিল না।

এবার দেশে ফিরে সেই সাদা বলে আবার অনুশীলন করলাম। ভাল লাগলো। লাল বল থেকে সাদা বলে ফেরার চেষ্টা করেছি। আবার সাদা বলে ফেরার মানসিকতাটা তৈরি হয়েছে। আশা করছি শ্রীলঙ্কার সাথে সিরিজ শুরুর আগে সবাই নিজেকে প্রস্তুত করে ফেলতে পারবো।

জাগো নিউজ : প্রিমিয়ার লিগ দরজায় কড়া নাড়ছে। ঢাকার ক্লাব লিগ খেলতে আপনি কতটা মুখিয়ে আছেন?

মিঠুন : আসলে আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা অনুভব করি, তাহলো- আমার বা আমাদের চেয়ে অন্তত দেড়শো ক্রিকেটারের জন্য প্রিমিয়ার লিগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একশো থেকে দেড়শো ক্রিকেটারের জন্য প্রিমিয়ার ক্রিকেট, শুধু লিগ বা ক্রিকেট আসরই নয়, রুটি রুজিরও উৎস।

আমাদের অনেক প্লেয়ারের কাছেই প্রিমিয়ার লিগ রীতিমত সারা বছরের আয়ের উৎস। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কোন না কোন জায়গায় খেলছি। একটা অবস্থায় আছি। আর্থিকভাবেও একটা অবস্থান আছে। ম্যাচ না খেললেও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আয়ের খোরাক, উপাদান আছে। দিন চলে যাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভাল আছি।

কিন্তু অনেক ক্রিকেটার আছে, যাদের কাছে প্রিমিয়ার লিগটাই শুধু আয়ের উৎস। করোনার মধ্যে সবার অবস্থা খুবই খারাপ। শুনতে খারাপ লাগলেও সত্য, বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রিমিয়ার লিগ খেলাটা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, একই সাথে ক্রিকেটারদের মূল অংশের অর্থনৈতিক সাপোর্টটাও খুব ইম্পরট্যান্ট।

জাগো নিউজ : প্রিমিয়ার লিগে আপনার দল কেমন?

মিঠুন : হ্যাঁ আমাদের প্রাইম ব্যাংক ভাল দল। তামিম আছেন। রকিবুল ভাই, অলক দা, বিজয়, মোস্তাফিজ, রুবেল আর শরিফুল আছে। সব মিলে ব্যলান্সড দল।

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]