কেন বয়স্ক ক্রিকেটারদের সুযোগ দিচ্ছেন, জানালেন মিসবাহ

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৪১ পিএম, ১২ মে ২০২১

যে কোনো অ্যাথলেটের জন্যই বয়স একটা ব্যাপার। বয়স যত বাড়তে থাকে, ফিটনেস ঘাটতি দেখা দেয়, তাই অবসরের চিন্তাও করতে হয়। কিন্তু ক্রিকেটে সবসময় বয়সটাকে ফ্যাক্ট ধরে বসে থাকার উপায় নেই। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেটাররা পরিণত হতে থাকেন। তাই অনেক সময় তরুণদের চেয়েও বেশি ধারাবাহিক হন বয়স্ক ক্রিকেটাররা। দাঁড়িয়ে যান দলের ভরসা হিসেবে।

যেমনটা দাঁড়িয়েছিলেন মিসবাহ উল হক তার খেলোয়াড়ি জীবনে। ২০০১ সালে পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যানের ২৭ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। কিন্তু ২০০৩ সালের পর তিনি দল থেকে বাদ পড়েন দীর্ঘদিনের জন্য। তারপর অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় সাড়ে চার বছর।

২০০৭ সালে এসে ফের দলে সুযোগ মেলে মিসবাহর। বয়স তখন ৩৩ পেরিয়ে গেছে। তবে এরপরই নিজেকে আমূল বদলে ফেলেন মিসবাহ। ফিটনেস ধরে রেখে নিয়মিত পারফর্ম করতে থাকেন। টানা দশ বছর খেলেছেন। ৪৩ বছর বয়সে এসে অবসর নেন তিনি। এখন তো ইতিহাসের পাতায় মিসবাহর নামটি পাকিস্তানের সফলতম অধিনায়কদের কাতারে।

নিজের ক্যারিয়ার দিয়ে বুঝেছেন, অভিজ্ঞতা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। তাই পাকিস্তানের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অভিজ্ঞদের দিকে আলাদা নজর দিচ্ছেন মিসবাহ। সেটা ১১ বছর পর ফাওয়াদ আলমকে জাতীয় দলে ফেরানোর মতো চমক জাগানো সিদ্ধান্ত হোক কিংবা সর্বশেষ ৩৬ বছর বয়সী পেসার তাবিশ খানের অভিষেক, মিসবাহ বয়স্ক ক্রিকেটারদের দলে সুযোগ দিচ্ছেন নিয়মিত।

পাকিস্তান কোচের সিদ্ধান্তটা যে ভুল কিছু নয়, পারফর্ম করে দেখিয়ে দিয়েছেন ফাওয়াদ, নোমান আলি, তাবিশ খানরা। মিসবাহ মনে করেন, যদি কোনো ক্রিকেটার পারফরমার হন আর তার ফিটনেস থাকে, তবে বয়স নিয়ে ভাবার কিছু নেই।

মিসবাহ বলেন, ‘আমার মতে, বয়স কোনো ফ্যাক্টর হওয়া উচিত নয়। যদি একজন পারফরমার যথেষ্ট ফিট থাকে, তবে তাদের সুযোগ দেয়া উচিত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমরা তাবিশ খানকে সুযোগ দিয়েছি দলের শক্তি না কমিয়েই। আমরা সাদা বলের ফরমেটেও এই সুযোগ দেয়া অব্যাহত রাখব।’

সমালোচকরা অনেক কিছু বলতে পারে। কিন্তু এসবে পরোয়া নেই মিসবাহর। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা কিংবা হেড কোচের পদে থাকতে পারবেন কি না, এসব ভাবনা কখনই মাথায় আনেন না সাবেক এই অধিনায়ক।

মিসবাহর কথা, ‘আমরা কেবল কাজ করতে এবং কঠোরভাবে চেষ্টা করে যেতে পারি। বড় কথা হলো, ফল তো আর আমাদের হাতে নেই। একজন হেড কোচ হিসেবে আমি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওত ভাবি না। এখন কিংবা পরেও সেটা নিয়ে কখনই ভাবব না।’

এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]