‘পড়ালেখা এবং ক্রিকেট চলছে একসঙ্গে’

শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ
শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ , স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ১৩ মে ২০২১ | আপডেট: ০৯:০৩ পিএম, ১৩ মে ২০২১

গত মার্চে আয়ারল্যান্ড উলভসের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন সাইফ হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়। সেঞ্চুরি ছাড়াও আরো দুটি ফিফটি করেছিলেন মাহমুদুল। সিরিজের সর্বোচ্চ তিন রান সংগ্রাহক ছিলেন সাইফ, মাহমুদুল ও তৌহিদ হৃদয়।

সর্বোচ্চ রান, সেঞ্চুরি বা ফিফটির তালিকায় নাম না থাকলেও, বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের সিরিজ জয়ে বড় অবদান ছিল বাঁ-হাতি মারকুটে অলরাউন্ডার শামীম হোসেনের। অন্তত দুইটি ম্যাচে প্রায় একা হাতেই দলকে পৌঁছে দিয়েছেন জয়ের বন্দরে। সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডেতে যথাক্রমে ৩৯ বলে ৫৩* ও ২৫ বলে ৪৪* রানের দুই ঝড়ো অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচ জিতিয়েছেন শামীম।

পুরো সিরিজে মাত্র একবার তাকে আউট করতে পেরেছে প্রতিপক্ষ বোলাররা। বিপরীতে ১৩১ স্ট্রাইকরেটে ১৩০ রান করেছেন ২০ বছর বয়সী এ যুবা। সিরিজে অন্তত ৫০ রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার স্ট্রাইকরেটই ছিল সর্বোচ্চ। পরে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও ৪ ছক্কার মারে খেলেন ১১ বলে ২৮ রানের ঝড় তোলা ইনিংস।

এর আগে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে মিলেছে শামীমের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের প্রদর্শনী। জেমকন খুলনার হয়ে প্রতিটি ম্যাচে সারা মাঠ জুড়ে যেন শামীম একাই ফিল্ডিং করেছেন। ফিল্ডিং দিয়েও যে দলের জয়ে অবদান রাখা যায়, এর বড় এক উদাহরণই সৃষ্টি করেছিলেন চাঁদপুরের এই তরুণ। পাশাপাশি অফস্পিন বোলিংটাও করেন কার্যকরিতার সঙ্গে।

সবমিলিয়ে সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ দলের পাইপলাইনে নিজেকে অন্যতম ভরসার এক পাত্রে পরিণত করেছেন শামীম। সাহসী ব্যাটিং, দুর্বার ফিল্ডিং ও কার্যকরী স্পিন বোলিং মিলে দারুণ এক প্যাকেজ অলরাউন্ডার তিনি।

Shamim Patwary

করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে আছে দেশের ক্রিকেট। তাই তেমন ব্যস্ততা নেই শামীমেরও। তবে আগামী ৩১ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের। তাই শামীম এখন নিজেকে প্রস্তুত করছেন পছন্দের ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টে আলো ছড়াবার জন্য। এরই ফাঁকে তিনি জাগো নিউজের সঙ্গে নিজের ঈদ পরিকল্পনা ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে...

জাগো নিউজ : কেমন আছেন?

শামীম : আলহামদুলিল্লাহ্! ভালো আছি।

জাগো নিউজ : কোথায় আছেন এখন?

শামীম : বাড়িতেই (চাঁদপুর) আছি। শনিবার (৮ মে) বাড়িতে এসেছি।

জাগো নিউজ : ঈদ তাহলে বাড়িতেই করা হচ্ছে?

শামীম : হ্যাঁ! হ্যাঁ! ঈদ করার জন্যই মূলতঃ বাড়িতে আসা। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকব। এরপর আবার চলে যেতে হবে।

জাগো নিউজ : পরিবার ছাড়া ঈদ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে কখনও?

শামীম : ইংল্যান্ডে একবার সিরিজ পড়েছিল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের, ঈদের সময়। তখন সবাইকে পরিবার ছাড়া ঈদ করতে হয়েছে। দলের সবাই একসঙ্গে থেকে ঈদ করেছি সেবার।

Shamim

জাগো নিউজ : খেলা শুরুর সময় বাবা-মায়ের কাছ থেকে শর্ত ছিল, পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হবে। পড়ালেখা এখন কোন পর্যায়ে আছে?

শামীম : হ্যাঁ পড়ালেখাও চলছে একসঙ্গে। এইচএসসি দেয়া শেষ। এখনও ভর্তি হইনি কোথাও। সবকিছু স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কথা ভেবে রেখেছি। দেখা যাক।

জাগো নিউজ : খেলার কারণে এলাকায় থাকেন না। এবার ঈদে বাড়ি ফেরায় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হবে নিশ্চয়ই?

শামীম : স্বাভাবিক সময়ে সবার সঙ্গে দেখা করা, আড্ডা দেয়া খুব ভালো লাগে। কিন্তু এখন তো করোনাকালীন সময়। তেমন বের হবো না ঠিক করেছি। বাসায় বাবা-মায়ের সঙ্গেই বেশি সময় কাটবে এবার। এটাই অনেক আনন্দের আমার জন্য।

জাগো নিউজ : যুব বিশ্বকাপ জেতার এক বছরের বেশি হয়ে গেলো। এই এক বছর ও এর আগের ১৮-১৯ বছরের মধ্যকার পার্থক্যটা কেমন মনে হয়?

শামীম : দুই সময়ের পার্থক্য তো আছেই। বিশ্বকাপ জিতেছি, বিশ্বকাপ জেতার আনন্দ নিজের কাছেই অন্যরকম। এলাকার মানুষজনেরও ভালো লেগেছে। তারা এখন বলছে যে, ওরা বিশ্বকাপ জিতেছে। বড় একটা অর্জন। আগের থেকে ভালো সব জায়গায়।

জাগো নিউজ : আপনার ছোটবেলার কোচ শামীম ফারুকি স্যার। সতীর্থ মাহমুদুল হাসান জয়েরও তা-ই। ছোটবেলায় দুজনের একসঙ্গে খেলার কোনো বিশেষ স্মৃতি?

শামীম : সে অর্থে তেমন বিশেষ স্মৃতি নেই। দুজন একসঙ্গে স্যারের কাছে প্র্যাকটিস করতাম। তবে এলাকায় বা একাডেমিতে তেমন খেলা হয়নি। আমরা বিকেএসপিতে অনেক খেলেছি একসঙ্গে। সেখানে লম্বাসময় একসঙ্গে কেটেছে।

Shamim

জাগো নিউজ : আপনার খেলার বিষয়ে একটা প্রশ্ন। মাঠে দারুণ ফিল্ডিং করেন বিধায় অনেকেই বলে থাকেন, আপনি ফিল্ডিং অলরাউন্ডার। এছাড়া মারমুখী ব্যাটিং ও কার্যকরী স্পিন বোলিংয়ে একজন প্যাকেজ অলরাউন্ডারই বলা চলে আপনাকে। তিন দিকেই সমানভাবে ধরে রাখাটা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

শামীম : চ্যালেঞ্জ তো আছেই। আল্লাহ্র রহমতে আমার ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন দিকেই ভালো হয়।আলহামদুলিল্লাহ্। নিজেকে ধরে রাখার জন্য আরও পরিশ্রম করছি। স্কিলগুলো আরও কিভাবে বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টাই করছি।

জাগো নিউজ : আপনার বর্তমান খেলার ধরনটা টি-টোয়েন্টির জন্য পুরোপুরি মানানসই। আপনি নিজেকে আগে কোন ফরম্যাটে দেখতে চান?

শামীম : হ্যাঁ, আমারও আগে টি-টোয়েন্টি খেলার ইচ্ছা। এরপর ওয়ানডে। ফর্ম ধরে রাখতে পারলে, অভিজ্ঞতা আরও বাড়লে পরে টেস্টেও নিজের জায়গা করে নিতে চাই।

এসএএস/আইএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]