আম্পায়ারদের খেলা পরিচালনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ১২ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৯:৫০ পিএম, ১২ জুন ২০২১

সাকিবের প্রতিক্রিয়াটা অনেক বেশি দৃষ্টিকটু। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমা তার গায়ে আঁটা। তিনি একটি লেগবিফোর উইকেটের আবেদন নাকচ হবার পর তাৎক্ষণিকভাবে আবেগতাড়িত হয়ে রেগেমেগে লাথি দিয়ে উইকেট ভেঙে ফেলেন। পরে আবার বৃষ্টি পড়ার আগে আম্পায়াররা খেলা বন্ধের উদ্যোগ নিলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে উইকেট ওপরে ফেলেন।

যারা সাকিবের ওই আচরণ দেখেছেন, তারা হতভম্ব, বিমূঢ়! বিশ্বমানের একজন ক্রিকেটার একটা বড় ম্যাচে এভাবে নিজের ‘টেম্পার লুজ’ করতে পারেন! সেটা চোখে দেখেও বিশ্বাস করা কঠিন।

ঢাকাই ফুটবল ও হকির মত ক্রিকেটেও বড় খেলায় বাড়তি উত্তেজনা থাকে। বিশেষ করে জনপ্রিয় আবাহনী ও মোহামেডান দ্বৈরথে অতীতে অনেক উত্তেজক পরিস্থিতির উদ্রেক ঘটার নজির আছে। তবে এমনভাবে লাথি মেরে উইকেট ভাঙার নজির নেই।

দেশবরেণ্য ক্রিকেটার মোহামেডান অধিনায়ক সাকিব তার কৃতকর্মের শাস্তি পেয়ে গেছেন। আম্পায়ার ইমরান পারভেজ রিপনের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই ম্যাচ রেফারি মোর্শেদ চৌধুরী তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন সাকিব আল হাসানকে।

সাকিব যে দৃষ্টিকটু ও অখেলোয়াড়োচিত আচরণ করেছেন, তাতে এই শাস্তি লঘু পাপে গুরুদণ্ড বলছেন না কেউ। কারণ এটা লেভেল থ্রি’তে পড়ে গেছে। সেখানে তিন থেকে চার ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।

কিন্তু ভাবার কোনো কারণ নেই যে আম্পায়াররা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে পার পেয়ে যাবেন। আজ শনিবার বিসিবি সভাপতির বাসায় বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের অনির্ধারিত ও অনানুষ্ঠানিক সভায় শুধুই যে সাকিবের বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, তা নয়।

আরও কিছু আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়েও বিসিবি সভাপতি বোর্ড পরিচালকদের সাথে খোলামেলা আলাপ করেছেন। চলতি প্রিমিয়ার লিগে আম্পায়ারিং নিয়ে ক্লাবগুলোর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এবারের প্রিমিয়ার লিগে কোন কোন ম্যাচে পক্ষপাতদুষ্ট ও ভুল আম্পায়ারিং হয়েছে এবং কোন কোন ক্লাব তার শিকার হয়েছে- সেসব খুঁটিয়ে দেখা হবে। আজ শনিবার জাগো নিউজের সাথে আলাপে এ তথ্য জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটি চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

তিনি বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, যেহেতু আম্পায়ারিং নিয়ে কয়েকটি ক্লাবের অভিযোগের খবর চাউর হয়েছে, তাই আমরা চাই বিষয়গুলো খুঁটিয়ে দেখতে। এজন্য ৫ জনের একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। এই কমিটি ১৫ জুন বোর্ড সভার আগে ক্লাবগুলোর সাথে কথা বলবেন। জানবেন তাদের কার কোন দিন কোন ক্লাবের সাথে খেলায় আম্পায়ারিং নিয়ে কোন অসন্তোষ আছে কি না, তা জেনে রিপোর্ট করা হবে এবং তা খুঁটিয়ে দেখা হবে। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।

চার বোর্ড পরিচালক জালাল ইউনুস, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, কাজী ইনাম, শেখ সোহেলের সঙ্গে দেশের সিনিয়র মোস্ট ম্যাচ রেফারি রকিবুল হাসান রয়েছেন ওই ৫ সদস্যের কমিটিতে।

সন্ধ্যায় বিসিবি বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের বাসভবনে সংবাদ মাধ্যমের সামনে সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদও এই কমিটির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বোর্ড সভাপতি আমাদের ডেকেছিলেন, আমি এবং জালাল ইউনুস ভাই কথা বলেছি। উনি এটা নিয়ে ভাবছেন এবং পুরো বিষয় জানতে চেয়েছেন। উনি এই ঘটনার মূল কারণ জানতে চান। তিনদিন পর আমাদের বোর্ড মিটিং আছে। তার আগেই উনি তদন্ত করতে বলেছেন।’

‘একটা কমিটি করে দিয়েছেন, সেই কমিটিতে আছি, জালাল ভাই আছেন, দুর্জয় আছেন, শেখ সোহেল আছেন এবং প্রধান ম্যাচ রেফারি রকিবুল হাসান আছেন। আমরা সব ক্লাবের ম্যানেজার এবং অধিনায়কদের নিয়ে বসব আগামী দুই দিনের মধ্যে। যদি ডিপিএলের খেলার কোনো ইস্যু, পরিস্থিতি, সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ থাকে আমরা সেটা শুনব। উনি একটা পরিপূর্ণ রিপোর্ট চান’-যোগ করেন কাজী ইনাম।

এআরবি/আইএইচএস/এমএমআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]