আবাহনীকে তিনে নামিয়ে দিল দোলেশ্বর

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:০০ পিএম, ১৬ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৮:১১ পিএম, ১৬ জুন ২০২১

১৩৩ রানের ছোট্ট টার্গেট তাড়া করে পারবে না আবাহনী, কে ভেবেছিলেন এমন! কিন্তু বাস্তবে সেটাই হয়েছে। ফরহাদ রেজার প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে ওই সামান্য ক’টা রানও করতে পারেনি কাগজে কলমের এক নম্বর দল আবাহনী।

ফর্মে থাকা মুনিম শাহরিয়ার, ড্যাশিং নাইম শেখ, সাজানো গোছানো ব্যাটিং শৈলির নাজমুল হোসেন শান্ত, নির্ভরতার প্রতীক মুশফিকুর রহীম, আবাহনীর অনেক ম্যাচ জয়ের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, গায়ে ফিনিশারের তকমা লাগিয়ে ফেলা আফিফ হোসেন ধ্রুব আর অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে সাজানো তারকাসর্বস্ব আবাহনী হেরেছে ২৮ রানে।

নবম রাউন্ড শেষে প্রাইম ব্যাংকের পরে দ্বিতীয় স্থানে ছিল আবাহনী। দশম রাউন্ড শেষে মুশফিকের দলকে তিনে নামিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে প্রাইম দোলেশ্বর।

সমান ১০ ম্যাচে তৃতীয়বারের মত পরাজয়ের তেঁতো স্বাদ পাওয়া চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর পয়েন্ট ১৪‘ই থাকলো। আর সমান ম্যাচে ৭ জয় ও প্রথম দিন ব্রাদার্সের সাথে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ম্যাচে এক পয়েন্ট পাওয়া দোলেশ্বরের এখনকার সংগ্রহ দাঁড়ালো ১৫।

প্রথমে সেশনে সাইফ হাসান, মার্শাল আইয়ুবদের মন্থর ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিলো প্রাইম দোলেশ্বরের জয়ের তাড়া নেই। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে আবাহনীর ব্যাটিং দেখার পর মনে হলো সাইফ, ইমরান, মার্শাল, ফরহাদরা বরং ভালো খেলেছেন। আবাহনীর উইলোবাজরা যেন পাল্লা দিয়ে খারাপ করলেন।

শুধু শ্রীহীন ব্যাটিংই নয়, আফিফ হোসেন ধ্রুব ছাড়া বাকিদের দেখে মনেই হয়নি চ্যাম্পিয়নরা টি-টোয়েন্টি খেলছে। মাত্র ১০৪ রানে গুঁড়িয়ে গেছে আবাহনীর ইনিংস।

আফিফ ১৫ বলে ২৬ আর মোসাদ্দেক ১৪ বলে ১৪ রান করেন। নাইম শেখ রান পেলেও তার ৩১ বলে ২২ রানের ইনিংসটি মোটেই টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মানানসই ছিল না। বাকিরা কেউ দশের ঘরও ছুঁতে পারেননি। শান্ত ৮, মুশফিক ৪, সাইফউদ্দিন ৩ রান করেই সাজঘরে পথ ধরেন।

জাতীয় দলের এক সময়ের পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি ১১ রানে ৪ উইকেটের পতন ঘটিয়ে আবাহনীকে এমন পরাজয়ের পথে ঠেলে দিয়েছেন।

আবাহনীর প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানরা কে কেমন খেলেছেন, শুনবেন? তাহলে শুনুন, আক্রমণাত্মক উইলোবাজি করতে পারেন বলেই যাকে ভাবা হয় আগামী দিনের তামিম, সেই নাইম শেখ অজানা কারণে শুরু থেকে শটস খেলা বাদ দিয়ে ধীর ব্যাটিং করলেন। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ২২ রান করে অনসাইডে তুলে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এ বাঁহাতি ওপেনার।

পর পর দুই খেলায় বিগ ফিফটির (৯২ ও ৭৪) পর আজ আর রান পাননি আবাহনী ইনফর্ম ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার। সুইপ খেলতে গিয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন ময়মনসিংহের এ ২৩ বছর বয়সী তরুণ।

আবাহনীর ওয়ান ডাউন নাজমুল হোসেন শান্তও ফিরে গেছেন সেই মুনিমের সমান ৮ রানে। ৮ ওভারে ৩৬ রানে মুনিম আর শান্ত আউট হওয়ার পরও মনে হচ্ছিল, আবাহনীকে ঠেকানো যাবে না।

অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ঠিক এরকম অবস্থা থেকে এবার অন্তত গোটা তিনেক ম্যাচ একা জিতিয়েছেন আবাহনীকে। কিন্তু আজ বিগ ম্যাচে আবার ভুল পথে হাঁটলেন আবাহনী ক্যাপ্টেন। সেই রিভার্স সুইপের ভুত চাপলো মাথায়, সেটাই হলো কাল।

অফস্পিনার শামিম পাটোয়ারীর বলে মুশফিক রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দিলেন। ৪১‘এ তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে আবাহনী চলে যায় ব্যাকফুটে। তারপর আর সামনে আগানো সম্ভব হয়নি।

আশা জাগিয়েছিলেন শুধুমাত্র আফিফ হোসেন ধ্রুব। কিন্তু তিনিও অতি দ্রুত একটু বেশি আক্রমণাত্মক হতে গেলেন। ১৫ বলে ২৬ রান করার পর অনসাইডে তুলে মারতে গিয়ে উল্টো কভারে ক্যাচ দিয়ে বসেন বাঁহাতি আফিফ।

ওই ওভারে স্কুপ করে বাউন্ডারি আর সামনে বেরিয়ে ওয়াইড মিড উইকেট আর লং অনের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকানোর পর সেই ওভারের শেষ বলে আবার অনসাইডে তুলে মারতে গিয়ে ‘টপ এইজ।’ কভারে ক্যাচ দিয়ে আাফিফের ফিরে আসা এবং আবাহনীর সর্বনাশ নেমে আসা।

এরপরও আবাহনীর ব্যাটিং লাইন আপে ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। কিন্তু কেউই কিছু করতে পারেননি। ১৪ বলে ১৪ করে মারতে গিয়ে ওয়াইড মিডউইকেটে ক্যাচ দিলেন মোসাদ্দেক।

আমিনুল ইসলাম বিপ্লব শূন্য রানে পুল করতে গিয়ে কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। আর সাইফউদ্দিনের (৯ বলে ৩) ক্যাচ জমা পড়লো বদলি খেলোয়াড় তাইবুর রহমানের হাতে।

মোসাদ্দেককে আউট করে উজ্জীবিত কামরুল ইসলাম রাব্বি চরম আঘাত হানলেন আবাহনী লেট অর্ডারে। তার বলে পর্যায়ক্রমে ফিরলেন লেগি আমিনুল বিপ্লব আর দুই পেসার তানজিম সাকিব ও মেহেদি হাসান রানা। ১৯.৫ ওভারে ১০৪‘এ শেষ হলো মুশফিক বাহিনীর ইনিংস।

এআরবি/এমএমআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]