সাইফউদ্দিনের পর শান্ত, আবাহনীর নাটকীয় এক জয়

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ২১ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৭:১৯ পিএম, ২১ জুন ২০২১

আগের রাতে মোহামেডানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ১৯৩ রান করা দলের গাজী গ্রুপের বিপক্ষে ১৩০ তাড়া করে জিততে নাভিশ্বাস উঠে যাবে, তা কে জানতো?

কিন্তু আজ বিকেলে শেরে বাংলায় তাই হয়েছে। সুপার লিগের ম্যাচে গাজী গ্রুপের বিপক্ষে ১৩১ রানের ছোট্ট টার্গেট তাড়া করতে নেমেও হারতে বসেছিল তারকা সমৃদ্ধ দল আবাহনী।

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে শেষ মুহূর্তে ১ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়ে পেয়েছে আবাহনী। শেষ ওভারে ৯ রান দরকার ছিল মুশফিবাহিনীর। বোলার ছিলেন গাজী গ্রুপের বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ।

তার করা ওই ওভারের পঞ্চম বলে ২ রান নিয়ে দলকে দারুণ জয় উপহার দিয়েছেন আবাহনীর পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ২ বলে ২ রান দরকার থাকা অবস্থায় এক্সট্রা কভারে ঠেলে ডাবলস নিয়ে আবাহনীকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন পেসার সাকিব।

আকাশী ড্রেসিং রুম ও ডাগ আউট তখন দারুণ এক জয়ের মহোৎসব। জয়ের নায়ক সাকিবকে ঘিরে উৎসবের ফোয়ারা। তবে সেই জয়ের মধ্যমনি ছিলেন অন্য দু’জন। সাইফউদ্দিন এবং নাজমুল হোসেন শান্ত। বল হাতে সাইফউদ্দিন ৪ উইকেট নিয়ে ধ্বসিয়ে দিয়েছিলেন গাজী গ্রুপের ইনিংস। ব্যাট হাতে ৫৮ রান করে আবাহনীর জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন শান্ত।

প্রথম সেশনে যাচ্ছেতাই ব্যাটিংয়ের পরও এ ম্যাচে আবাহনীকে হারানোর সুযোগ ছিল গাজী গ্রুপের; কিন্তু ইনিংসের প্রথম দিকে একাধিক ক্যাচ ড্রপ আর শেষ দিকে ১৯ নম্বর ওভারের শেষ বলে শেখ মেহেদির দু’ পায়ের ফাঁক গলে বাউন্ডারি হয়ে যাওয়ার চরম মাশুল গুনতে হয়েছে রিয়াদের দলকে।

অনেক ওঠা-নামার পালা শেষে আবাহনী জিতলেও এক সময় দু’দলের জয়ের সমান সম্ভাবনা ছিল। পেসার মুকিদুল ইসলাম চ্যাম্পিয়নদের চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। তার করা ইনিংসের ১১ নম্বর ওভারে মাত্র তিন বলের ব্যবধানে আবাহনী হারায় দুটি মূল্যবান উইকেট।

আউট হন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম আর ফিনিশার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মুশফিকুর রহিম ১৬ বলে ১২ রানে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর অফ স্ট্যাম্পের বাইরে চালিয়ে কট বিহাইন্ড হন।

আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত উইকেটে এসে প্রথম বলে অল্পের জন্য কট কিহাইন্ড থেকে বেঁচে যান। বল কিপারের গ্লাভস পর্যন্ত ক্যারি করেনি। তার আগেই মাটিতে পড়ে যায়।

কিন্তু ঠিক তার পরের বলেই কট বিহাইন্ড হন মোসাদ্দেক। অফ স্ট্যাম্পের ঠিক বাইরে পড়ে সুইং করে আরও বেরিয়ে যাবার সময় ব্যাট পেতে ক্যাচ দিয়ে দিয়ে বসেন মোসাদ্দেক। আসলে ঠিক তার পরপরই চাপে পড়ে যায় আবাহনী।

এরপর নাইম শেখ ৪ বলে ২ করে অফস্পিনার শেখ মেহেদির অফস্পিনে জায়গায় দাঁড়িয়ে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোল্ড হলে হিসেব আরও কঠিন হয়। ৩ উইকেটে ৬০ থেকে ৬৪ রানে খোয়া যায় ৫ উইকেট। এমন কঠিন অবস্থায় শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন দুই বাঁহাতি নাজমুল হোসেন শান্ত ও আফিফ হোসেন ধ্রুব।

এক সময় রানের চাপ বেড়ে যায় চ্যাম্পিয়নদের। ওভার পিছু লক্ষ্যমাত্রা চলে যায় ১৩ রানে। শেষ ৩০ বলে ৫২ আর ২৪ বলে ৪৮ রান দরকার পড়ে আবাহনীর।

সে অবস্থায় গাজী গ্রুপের প্রধান স্ট্রাইক বোলার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ১৭ নম্বর ওভারে দুই ছক্কা হজমসহ ২১ রান দিয়ে ফেললে ম্যাচ আবাহনীর দিকে ঝুঁকে পড়ে। ওই ঘটনাবহুল ওভারে শান্ত ও আফিফ একটি করে ছক্কা হাঁকান। এছাড়া তিনটি তিনটি ওয়াইডও করেন মুগ্ধ। এর বাইরে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে আরও দুটি ডাবলস ও একটি সিঙ্গেলস।

এরপর ১৮ বলে ২৭ রান প্রয়োজন থাকা অবস্থায় আবার খেলা নাটকীয় মোড় নেয়। ১৮ নম্বর ওভারে গাজী গ্রুপ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন আফিফ (১৮ বলে ১৪)।

এই জুটি ভাঙ্গার পর আবার জমে ওঠে লড়াই। পেন্ডুলামের মত দুলতে থাকে ম্যাচ। ১৯ নম্বর ওভারে তিন তিনটি ওয়াইড করার পরও এ ম্যাচে আবাহনীর আশা ভরসার কেন্দ্রবিন্দু নাজমুল হোসেন শান্তকে বোল্ড করে দেন মুকিদুল মুগ্ধ। ৪৯ বলে ৫৮ রান করে ফেরেন শান্ত। তখন মনে হচ্ছিল আবাহনী নয়, হয়ত শেষ হাসি হাসবেন রিয়াদ।

কিন্তু ৭ বলে ১৩ রান দরকার অবস্থায় ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা। বলা যায় টার্নিং পয়েন্ট। উইকেটে এসেই মুগ্ধর বলে অফ সাইডে খেলেন মেহেদি হাসান রানা। এই বাঁ-হাতির পুশ আর ড্রাইভের মাঝামাঝি শটস চলে যায় এক্সট্রা কভারে।

সীমানার ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা গাজী গ্রুপ ফিল্ডার শেখ মেহেদি কয়েক পা দৌড়ে এসে তা ধরতে যান। এতদুরে যাওয়া বলে জোর ছিল না একদমই। সর্বোচ্চ সিঙ্গেলস না হয় ডাবলস হতো। শেখ মেহেদি তড়িঘড়ি করে তা ধরতে ব্যর্থ হন। তার হাত ফাঁকি দিয়ে দু’ পায়ের নিচ দিয়ে বল চলে যায় সীমানার ওপারে। আর তাতেই আবাহনীর শেষ ওভারে ৯ রানের দরকার পড়ে।

না হয় ১১-১২ রান প্রয়োজন পড়তো। কে জানে তখন দৃশ্যপট ভিন্ন হতে পারতো কি না।

এআরবি/আইএইচএস/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]