শান্ত-মোসাদ্দেক-সাইফউদ্দিনে আবাহনীর ১৫০

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৫০ পিএম, ২৬ জুন ২০২১

মুশফিকুর রহীমের কথা বাদ। তিনি ‘একাই একশো’। শুধু নামেই মিস্টার ডিপেন্ডেবল নন, এবারের লিগেও মুশফিকই ছিলেন আবাহনীর সবচেয়ে বড় নির্ভরতা এবং বিপদের বন্ধু। দলের প্রয়োজনে সবচেয়ে বিশ্বস্ত। তার হাত ধরেই আবাহনী এবার অন্তত তিন ম্যাচ জিতেছে।

এর বাইরে আকাশি-হলুদ শিবিরে আছেন বর্তমান জাতীয় দলের নাইম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, আফিফ হোসেন ধ্রুব আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো ব্যাটসম্যান। তাতে কী? পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ওই জাতীয় দলের পারফরমাররা থাকার পরও এবারের লিগে টিম আবাহনীর সবচেয়ে বড় নির্ভরতা মুনিম শাহরিয়ার।

১৩ জুন প্রথম লেগে এই শেরে বাংলায় আগে ব্যাট করে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ১৮৩ রান করেছিল আবাহনী। বৃষ্টিভেজা ম্যাচে ডিএল মেথডে আকাশি-হলুদরা জিতেছিল ৩০ রানে। ময়মনসিংহের ২২ বছর বয়সী ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার খেলেছিলেন ৫০ বলে ৯২ রানের এক উত্তাল ইনিংস। আর নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে বেরিয়ে এসেছিল ২১ বলে ৩০। ওই দুই ইনিংসের ওপর ভর করেই আবাহনী পেয়েছিল ১৮০-এর ওপরে রান।

আজ ২৬ জুন শেরে বাংলায় সেই প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে লিগ নির্ধারণী ম্যাচে রান পাননি মুনিম শাহরিয়ার। আউট হয়েছেন ৩ রানে (৫ বলে)। মুনিম শাহরিয়ার রান না পাওয়ায় আবাহনীর টপ অর্ডারও সেভাবে জ্বলে ওঠেনি। যা করার করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

শান্তর ব্যাট থেকে বেরিয়ে এসেছে ৪৫ রানের (৪০ বলে) ইনিংস। সাথে অধিনায়ক মোসাদ্দেকও করেছেন ৪০ (৩৯ বলে)। তবে আবাহনীকে মাঝারি মানের পুঁজি এনে দেয়ায় অবদান কম নয় সাইফউদ্দিনেরও। শেষ দিকে এই অলরাউন্ডার ১৩ বলে দুই বিশাল ছক্কায় ২১ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দিলে আবাহনী পায় ১৫০ রানের স্কোর।

শুরু থেকেই বিপাকে আবাহনী। প্রাইম ব্যাংকের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের করা ম্যাচের প্রথম বলেই অফস্ট্যাম্পের বাইরে চালিয়ে কট বিহাইন্ড হয়ে যান নাইম শেখ ০ (১)। রুবেল হোসেনের শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে মুনিম শাহরিয়ার ৩ (৫) ক্যাচ তুলে দেন উইকেটের পেছনে।

আগের ম্যাচে শেখ জামালের বিপক্ষে দারুণ এক নান্দনিক ইনিংস খেলা লিটন দাস ৪ রানে লেগবিফোর উইকেটের জোরালো আবেদন থেকে বেঁচেও যেতে পারেননি ১৯ রানের বেশি (১৩ বলে)।

মোস্তাফিজের প্রথম বলে গ্লান্স করে ফাইন লেগ দিয়ে চার হাঁকানোর পরের বলেই ভেতরে আসা ডেলিভারি ব্যাটে বলে করতে ব্যর্থ হন লিটন। লেগবিফোর উইকেটের জোরালো আবেদন নাকচ করে দেন আম্পায়ার তানভীর। তারপর অফস্পিনার নাহিদুলের বলে তুলে মারতে গিয়ে মিডঅফে ক্যাচ, এনামুল হক বিজয় পেছনে ছুটে ভালো ক্যাচ লুফে নেন।

৩১ রানে (৪.২ ওভারে) তিন টপ অর্ডার ফেরার পর হাল ধরেন নাজমুল শান্ত আর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। শুরুতে উইকেটে থিতু হতে একটু বেশি স্লো খেলেন মোসাদ্দেক। আর শান্ত শুরু থেকে চালিয়ে খেলার চেষ্টা করেন।

জুটিতে ৭০ রান যোগ করে বিদায় নেন শান্ত। রুবেল মিয়ার বলে মিড অনে উঁচু ক্যাচ। শরিফুল ইসলাম মাথার উপর দিয়ে চলে যেতে যাওয়া ক্যাচ ধরে ফেলেন।

এরপর উইকেটে আসেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এসেই রুবেল মিয়ার পর পর দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকানো আফিফ অল্প সময়ে একটু বেশি মেরে খেলতে গিয়ে পুল করে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৭ বলে ১২ রানে। রয়ে সয়ে খেলার পর যখন হাত খোলা দরকার, ঠিক তখন (১৮ নম্বর ওভারের প্রথম বলে) রুবেল হোসেনকে মারতে গিয়ে বোল্ড হন আবাহনী ক্যাপ্টেন মোসাদ্দেক।

যে তিন পেসারের ওপর প্রাইম ব্যাংকের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করে অনেকটাই; সেই মোস্তাফিজ, রুবেল আর শরিফুল তিনজনই উইকেট পেয়েছেন। তবে রুবেল (৪ ওভারে ২/২২), শরিফুল (৪ ওভারে ১/২২) অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। আর মোস্তাফিজ শেষ ওভারে বাঁহাতি সাইফউদ্দিনের কাছে ২ ছক্কা হজমসহ ১৬ রান দিয়ে ফেললে আবাহনীর স্কোর ১৫০’এ গিয়ে ঠেকে।

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]