প্রিমিয়ার লিগের আয়োজন ও সমাপ্তি নিয়ে সন্তুষ্ট পাপন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩১ পিএম, ২৬ জুন ২০২১

আম্পায়ারিং নিয়ে কথা হয়েছে অনেক। খেলা পরিচালনার মান নিয়ে আছে অসন্তোষ। কেউ কেউ পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের কথা বলছেন। কারো বা মত, আম্পায়ারদের মানেই আছে ঘাটতি।

আম্পায়াররা ভুল করছেন। তাদের ভুলভাল সিদ্ধান্তে খেলার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হয়েছে ব্যহত। সাকিব আল হাসান যে আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের বিপক্ষে লেগবিফোর উইকেটের আবেদনে সাড়া না পেয়ে স্ট্যাম্পে দৃষ্টিকটুভাবে লাথি মেরেছেন, টিভি রিপ্লে দেখার পর বেশিরভাগ দর্শকের কাছেই সেটাকে আউট মনে হয়েছে।

একইভাবে মোহামেডানের পারভেজ হোসেন ইমন প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে দুই-দুইবার জোরালো আবেদন থেকে নিস্তার পেয়েছেন। প্রাইম ব্যাংক শিবিরের দাবি, ইমন আউট ছিলেন ইনিংসের শুরুতেই। অথচ আম্পায়ারের বদান্যতায় বেঁচে পরে হাফসেঞ্চুরি করে মোহামেডানকে জিতিয়েছেন ওই বাঁহাতি ওপেনার।

আজ লিগ নির্ধারণী ম্যাচেও লিটন দাস ৪ রানে লেগবিফোর উইকেটের জোরালো আবেদন থেকে পার পেয়ে গেছেন। ম্যাচের শেষ ওভারে আবাহনীর পেসার শহিদুল ইসলামের ফুলটস কোমড়ের ওপর দিয়ে উইকেটের পেছনে চলে গেলেও আম্পায়ার 'নো' ডাকেননি।

আম্পায়াদের এসব সিদ্ধান্ত কখনও কখনও ক্রিকেটারদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটেছে। তারা খুব বাজেভাবে রিয়্যাক্ট করেছেন। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে আছেন দেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।

এখানেই শেষ নয়। এই তো সেদিন আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে মাঠে হাত পা ছুঁড়ে অদ্ভুত সব অঙ্গভঙ্গি করেছেন গাজী গ্রুপ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। সব মিলে আম্পায়ারদের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের আচরণও প্রশ্নবিদ্ধ।

তারপরও শেষ হলো ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। কেমন হলো এবারের লিগ? বিসিবি বিগ বস নাজমুল হাসান পাপন বেশ সন্তুষ্ট। আজ সন্ধ্যায় মিডিয়ার সাথে আলাপে পাপন লিগ নিয়ে বলেন বলেন, ‘প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই ভালো হয়েছে।’

পাপন আরও যোগ করেন, করোনা প্রটোকল মেনে খেলানো খুব কঠিন। তাই লিগ এত সুন্দরভাবে শেষ করতে পারা কম সাফল্যের নয়। তার ভাষায়,‘সেটা (করোনা প্রটোকর মেনে খেলা) তারাই বুঝতে পারবে, যারা আয়োজন করে।’

প্রিমিয়ার লিগের আয়োজক-ব্যবস্থাপক সিসিডিএমকে ধন্যবাদ জানিয়ে পাপন বলেন, ‘সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। সাথে মাঠকর্মীরা, ওরা যে কষ্টটা করেছে এই সময়টায়। খেলোয়াড়দের কথাও বলতে হবে, কোভিড প্রটোকল মেনে খেলেছে।’

কোভিড প্রটোকল মেনে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে টানা খেলা, চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। একটা বড় শারীরিক ধকল। আর মানসিক চাপ, অস্থিরতা।

বিসিবি প্রধানও মানছেন, ক্রিকেটারদের জন্য এটা বড় চাপ ছিল। তিনি বলেন, ‘আজ খেলা শেষ হচ্ছে। পরশুই আবার জিম্বাবুয়ে চলে যাচ্ছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর এটা বাড়তি চাপ।’

পুরো লিগে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা অবস্থায় কোনো ক্রিকেটারের করোনা হয়নি। এটাকে বড় অর্জন দাবি করে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমাদের কোভিড সম্পর্কিত কোনো সমস্যা হয়নি। সেজন্য আমি মনে করি এটা বিরাট অর্জন। ইংল্যান্ডের মত দেশেও খেলোয়াড়রা পজিটিভ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ পজিটিভ হয়নি।’

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]