পাঁচ ম্যাচ কম খেলেও সবার ওপরে মিজান

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:১০ পিএম, ২৮ জুন ২০২১

কাগজে কলমের সাথে মাঠের হিসেব মেলে না কখনও কখনও। তবে এবার ঠিক মিলেছে। কাগজে কলমের এক নম্বর দল আবাহনীই শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শক্তির বিচারে দুই নম্বর দল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবই হয়েছে লিগে রানার্স আপ।

তবে ব্যাটিং-বোলিং পারফরম্যান্সের হিসেব মেলেনি। অতি বড় বিশ্লেষকও হয়তো ভাবেননি যে এবারের লিগের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হবেন লিগ টেবিলের ৭ নম্বর দল ব্রাদার্সের মিজানুর রহমান। তাও কি না সুপার লিগের টিকিট পাওয়া দলগুলোর চেয়ে পাঁচ ম্যাচ কম খেলে।

ব্রাদার্স ইউনিয়নের অধিনায়ক ও ওপেনার মিজানের সংগ্রহ ১১ খেলায় ১০ ইনিংসে ৪১৮ রান, সর্বোচ্চ রানের ইনিংস অপরাজিত ১০০, গড় ৫২.২৫, স্ট্রাইকরেট ১৩৩.৯৭। তার নামের পাশের রয়েছে আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার খেতাব, পাশাপাশি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ৩টি।

লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও কোন তারকা ব্যাটসম্যান নন। এমনকি দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যাটিং পারফরমার হিসেবেও তিনি পরিগণিত নন। নাম মাহমুদুল হাসান জয়, যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য। খেলেছেন প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হয়ে যাওয়া ওল্ড ডিওএইচএসে।

তার দল রেলিগেটেড। আগামী বছর প্রথম বিভাগে খেলবে। কিন্তু মাহমুদুল হাসান জয় ১৩ খেলায় ১২ ইনিংসে ৩ বার অপরাজিত থেকে করেছেন মোট ৩৯২ রান। সর্বোচ্চ ৮৫ নটআউট, গড় ৪৩.৫৫, স্ট্রাইকরেট ১২১.৩৬, হাফসেঞ্চুরি করেছেন দুইটি।

লিগের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান নুরুল হাসান সোহান। এবারের লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। ব্যাট হাতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। মিডল অর্ডারে নেমেও শেখ জামাল অধিনায়ক এবারের লিগে রান তোলায় তিন নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন। ১৬ ম্যাচে সোহানের সংগ্রহ ৩৮৯ রান, সর্বোচ্চ ৬৬*, গড় ৩৫.৩৬ আর স্ট্রাইকরেট প্রায় দেড়শ; ১৪৯.৬১।

রান তোলায় যিনি চতুর্থ, তিনি প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার। নামের পাশে তারকা লেভেলও আঁটা। তবে তাকে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে কার্যকর বা ভাল ব্যাটসম্যান হিসেবে ধরা হয় না। তাই শুধু টেস্ট দলেই রাখা হয়। তিনি বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক।

সবাইকে অবাক করে এবারের লিগের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী মুমিনুল। গাজী গ্রুপের হয়ে ১৫ বার ব্যাটিংয়ে নেমে তার মোট রান ৩৮৫, সর্বোচ্চ ৭৮ নটআউট, গড় ৩৫.০০, স্ট্রাইকরেট ১১৭.৭৩ আর পঞ্চাশ দুইটি।

রান তোলায় পঞ্চম হয়েছেন নাইম শেখ। আবাহনীর এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ১৬ খেলায় ১৫ ইনিংস ব্যাটিং করে নটআউট ছিলেন ২ বার। মোট রান ৩৭৫, সর্বোচ্চ ৭০, গড় ২৮.৮৪, স্ট্রাইকরেট ১২৩.৭৬ আর ফিফটি করেছেন একটি।

তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে আবাহনীর নাজমুল হোসেন শান্ত। লিগের ১৬ ম্যাচে এ বাঁহাতি টপঅর্ডারের সংগ্রহ ৩৬৮ রান স্ট্রাইক রেট ১২৬.৮৯ ও হাফ সেঞ্চুরি দুইটি। সপ্তম প্রাইম ব্যাংকের ওপেনার রনি তালুকদার, ১৬ খেলায় করেছেন ৩৬৭ রান।

অষ্টম হয়েছেন প্রাইম দোলেশ্বরের ফ্রন্টলাইন ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান। তিনি ১৪ ইনিংসে করেছেন ৩৬৬ রান, স্ট্রাইক রেট ১১৩.০০। নবম প্রাইম ব্যাংকের মিডল অর্ডার মোহাম্মদ মিঠুন (১৬ খেলায় ৩৬১ রান) আর দশম রেলিগেটেড হয়ে যাওয়া ওল্ড ডিওএইচএসের ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন (১৩ খেলায় ৩৫৮ রান)।

এআরবি/এসএএস/আইএইচএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]