বল হাতে শরিফুল-তানভির ইসলামের চমক

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:০০ পিএম, ২৮ জুন ২০২১

যুব বিশ্বকাপ খেলা মিডল অর্ডার মাহমুদুল হাসান জয় (ওল্ডডিওএইচএস) রান তোলায় দ্বিতীয় হয়ে রীতিমত চমক দেখিয়েছেন। তার মত এত ওপরে জায়গা করে নিতে না পারলেও যুব বিশ্বকাপ জেতা টিম বাংলাদেশের বোলার শরিফুল ইসলাম এবং শাইন পুকুরের স্পিনার তানভির ইসলাম ঠিকই নজর কেড়েছেন।

শুধু তাই নয়, এবারের প্রিমিয়ার লিগের সেরা ৫ বোলারের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন এই দুই সম্ভাবনাময় বোলার। উইকেট শিকারে শরিফুল হয়েছেন (প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলা) তৃতীয়। আর চতুর্থ হয়েছেন শাইন পুকুরের পক্ষে খেলা বাঁ-হাতি স্পিনার তানভির ইসলাম।

আবাহনী তথা জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন ১৬ ম্যাচে দখল করেছেন ২৬ উইকেট। তিনিই রয়েছেন শীর্ষে। এক সমেয় অনুর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা এ পেসারের ম্যাচ সেরা বোলিং হলো ৪/১৮। ওভার পিছু রান দিয়েছেন ৬.৭৯ করে। আর ম্যাচে ৪ উইকেট করে পেয়েছেন ২ বার।

উইকেট প্রাপ্তিতে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠিত পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে খেলা রাব্বির ঝুলিতে জমা পড়েছে ২৫ উইকেট (১৭ ম্যাচে, সেরা ৪/১১, ওভার পিছু রান ৭.৩৮। ৪ উইকেট ২ বার)।

উইকেট শিকারে তিন নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন আরেক প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ও যুব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের এক নম্বর ফাস্ট বোলার শরিফুল ইসলাম। রানার্সআপ প্রাইম ব্যাংকের এ দ্রুত গতির বোলারের উইকেট সংখ্যা ২২ (১৬ ম্যাচে। সেরা ৩/২৩। ওভার পিছু রান ৭.১৩)।

উইকেট প্রাপ্তিতে চার নম্বরে আরেক উঠতি বোলিং প্রতিভা তানভির ইসলাম। যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য তানভির ইসলাম লিগে খেলেছেন শাইন পুকুরের হয়ে। ১১ খেলায় এ বাঁ-হাতি স্পিনারের উইকেট ২০। সেরা বোলিং ৪/২৩। ওভার পিছু রান ৪.৭৯। ৪ উইকেট ১ বার।

শীর্ষ ২০ উইকেট শিকারীর মধ্যে বাঁ-হাতি স্পিনার তানভির এবারের লিগে সবচেয়ে মিতব্যায়ী বোলার। ওভার পিছু এত কম রান দেননি কেউই। উইকেট প্রাপ্তিতে পঞ্চম স্থানটি আরেক তরুণ অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসানের। গাজী গ্রুপের এ অলরাউন্ডার ১৭ খেলায় পেয়েছেন ১৮ উইকেট। সেরা ৩/২৯ । এ তরুণ অফস্পিনারের ইকনমি রেটও বেশ ভাল ওভার পিছু রান ৬.২৪।

অনেক প্রতিষ্ঠিত পেসার ও স্পিনারকে পিছনে ফেলে ৬ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন জেন্টল মিডিয়াম পেসার জিয়াউর রহমান। এক সময়ে জাতীয় দলে অলরাউন্ডার কোটায় ছিলেন জিয়া। এবার শেখ জামাল ধানমন্ডির হয়ে ১৬ খেলায় ১৮ উইকেট শিকারী জিয়া।

সপ্তম হয়েছেন আরেক সম্ভাবনাময় পেসার মেহেদি হাসান রানা। আবাহনীর হয়ে ১১ ম্যাচে অংশ নেয়া এ বাঁ-হাতি পেসারও ম্যাচ পিছু হিসেব কষলে অনেক বেশি উইকেট পেয়েছেন। তার উইকেট ১৮টি।

তবে একটি আশার খবর হলো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টিম বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবার নিয়মিত বোলিং করেছেন। গাজী গ্রুপের অধিনায়ক রিয়াদ ১৭ খেলায় ১৭ উইকেট নিয়ে উইকেট শিকারে আট নম্বরে উঠে এসেছেন। এ অফ স্পিনার ওভার পিছু রানও দিয়েছেন অনেক কম; ৬.৩৪।

উইকেট শিকারে নবম ও দশম স্থানটি জাতীয় দলের দুই পেসার রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমানের। প্রাইম ব্যাংকের রুবেল হোসেন ১১ খেলায় ১৭ উইকেটের পতন ঘটিয়েছেন। তার ম্যাচ সেরা বোলিং ফিগার; ৪/৩০। ওভার পিছু রান ৭.৪৩। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ১৪ ম্যাচে ১৭ উইকেট পেয়ে দশ নম্বর। তার সেরা বোলিং ২২ রানে ৫ উইকেট। ওভার পিছু রান দিয়েছেন ৭.১৪।

আবাহনীর উঠতি পেসার যুব বিশ্বকাপ বিজয়ী দলের পেসার তানজিম হাসান সাকিবও ১৪ ম্যাচে ১৭ উইকেট দখল করে নজর কেড়েছেন। উইকেট প্রাপ্তিতে তানজিম হাসান সাকিবের স্থান হয়েছে ১১ নম্বরে।

সেরা অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি
ওদিকে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে প্রায় সমান ঝলক দেখিয়ে সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শেখ মেহেদি। গাজী ব্যাংকের হয়ে খেলা এ অলরাউন্ডার ১৮ উইকেট শিকারের পাশাপাশি করেছেন ৩৫৫ রান। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে শেখ মেহেদির ঠিক পিছনে আছেন তিনজন।

গাজী গ্রুপের মাহমুদল্লাহ রিয়াদ (১৭ উইকেট ও ২০৮ রান)। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের জিয়াউর রহমান জিয়া (১৮ উইকেট ও ২০৯ রান ) এবং মোহামেডানের অধিনায়ক শুভাগত হোম (১১ উইকেট ও ২৪২ রান)।

এআরবি/আইএইচএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]