আবারও পাকিস্তান সিরিজের মতো পরিণতি হবে জিম্বাবুয়ের?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:০৫ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২১

সফরের একমাত্র টেস্টে ২২০ রানের বিশাল জয়। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটাও হয়েছিল দারুণ। স্বাগতিকদের ১৫২ রানে থামিয়ে দুই ওপেনার সৌম্য সরকার আর নাইম শেখে জোড়া অর্ধশতকে ৮ উইকেটে অনায়াস জয়।

কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে থেমে গেছে টাইগারদের জয়রথ। জিম্বাবুয়ের মাটিতে গিয়ে স্বাগতিকদের টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজে চরমভাবে পর্যুদস্ত করার পর টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় ম্যাচে এসে প্রথম পরাজয়ের তেঁতো স্বাদ নেয়া।

‘ল অব এভারেজ’ ধরলে এটা হতেই পারে। ভাল খেলতে খেলতে একদিন খারাপ খেলা অস্বাভাবিক ও অসম্ভব নয়। এটা যেকোনো দলেরই হতে পারে। ধরে নেয়া যায়, শুক্রবারের দিনটিও তেমনই এক বাজে দিন গেছে টাইগারদের। যে ম্যাচে বোলিং আর ব্যাটিং দুই বিভাগেই খারাপ খেলেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

শেষ ৫ ওভারের বোলিং এবং শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ব্যাটিং ছিল ছন্নছাড়া। তারই চড়া মাশুল ২৩ রানের পরাজয়। খালি চোখে এটাই ব্যবচ্ছেদ। তবে যারা একটু ইতিহাস ও পরিসংখ্যান নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন, তারা বিষয়টাকে ঠিক একভাবে নেবেন না।

ইতিহাস জানাচ্ছে, আগের সেই সোনালী দিন না থাকলেও এখনও ঘরের মাঠে ভাল খেলার নজির আছে জিম্বাবুয়ের। এই তো গত এপ্রিলে দেশের মাটিতে শক্তিশালি পাকিস্তানের সঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রায় সমানতালে লড়ে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে শন উইলিয়ামসের দল।

কাকতালীয়ভাবে এখন যেমন বাংলাদেশের কাছে প্রথম ম্যাচে পাত্তা না পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে এনেছে জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তানের সঙ্গে এপিলেও প্রথম ম্যাচ হেরে দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল জিম্বাবুয়ে। যেখানে ১১৮ রানের ছোট্ট পুুঁজি নিয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট করে দেয় জিম্বাবুয়ানরা।

পরে শেষ ম্যাচেও পাকিস্তানিরা সহজে জিততে পারেনি। শেষপর্যন্ত ২৪ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের তুষ্টিতে দেশে ফেরে তারা। তিন খেলায় ৯ উইকেট দখল করে পাকিস্তানিদের কাছ থেকে সর্বাধিক সমীহ আদায় করেন ডানহাতি পেসার লুক জঙ্গি।

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে কোন উইকেট না পেলেও কাল দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ উইকেট শিকার জঙ্গির। সবার জানা, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের ট্র্যাক রেকর্ড ভাল না। সাফল্যর চেয়ে ব্যর্থতা আর জয়ের চেয়ে পরাজয়ের পাল্লা অনেক ভারী।

আর সেখানে জিম্বাবুয়ে ঘরের মাঠে ঠিক আগের সিরিজেই পাকিস্তানিদের নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছে। কাজেই টেস্ট আর ওয়ানডের মত বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ একতরফা জেতার সম্ভাবনাও ছিল কম, হয়েছেও তাই। যার ফলে শেষ ম্যাচটি হয়ে গেছে সিরিজ নির্ধারণী লড়াই।

দেখার বিষয়, ২৫ জুলাই সেই ম্যাচে কী করে টাইগাররা? পাকিস্তানের মত শেষ ম্যাচে ভাল খেলে সিরিজ নিজেদের করে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ জয়ের মধুর স্বাদ ও সুখস্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরবে? নাকি ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হেরে ফিরবে দেশে?

এআরবি/এসএএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]