নেই মুশফিক-তামিম, এতবড় রান তাড়া করতে পারবে টাইগাররা?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৪৯ পিএম, ২৫ জুলাই ২০২১

দুই জিম্বাবুইয়ান ওপেনার আর এরপর চাকাবা যেভাবে খেলছিলেন, তা দেখে মনে হচ্ছিল ২০০ প্লাস রানের সুকঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য লক্ষ্যটা সে পর্যন্ত যায়নি। জিততে হলে আজ হারারেতে টাইগারদের করতে হবে ১৯৪ রান।

ভাবছেন টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমনিতেই পারফরমেন্স ভাল না। ইতিহাস-পরিসংখ্যানও বিপক্ষে। তাহলে এত বড় টার্গেটের সামনে কী করবে রিয়াদের দল? আগে কখনো এত বড় রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আছে বাংলাদেশের?

ইতিহাস দিচ্ছে আশার আলো। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, এর চেয়ে অনেক বড় রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডও আছে টাইগারদের। সেটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। নিদাহাস ট্রফিতে।

২০১৮ সালের ১০ মার্চ প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার নিদাহাস ট্রফির ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২১৪ রান টপকে ম্যাচের ২ বল আগে ৫ উইকেটের স্মরণীয় জয় পায় বাংলাদেশ।

এ জয়ের নায়ক ছিলেন মুশফিকুর রহীম। ২০৫.৭১ স্ট্রাইকরেটে ৩৫ বলে ৭২ রানের (৫ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায়) ম্যাচ জেতানো ইনিংস উপহার দিয়ে দলকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সবচেয়ে স্মরণীয় জয় উপহার দেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

এছাড়া ওপেনার তামিম ইকবাল (২৯ বলে ৪৭), লিটন দাস (১৯ বলে ৪৩) আর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও (১১ বলে ২০ রানের) রাখেন কার্যকর ভূমিকা।

zimbabwe

এছাড়া পরে ব্যাট করে ১৬০, ১৭০ ও ১৮০’র ঘরে আরও বেশ ক’বার পৌঁছেছে বাংলাদেশ। তবে বেশিরভাগই প্রতিপক্ষের রান টপকানো সম্ভব হয়নি।

যেমন, ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর নিউজিল্যান্ডের ২০৪ রানের (৫ উইকেটে) জবাবে ১৮৯ রানে (৯ উইকেটে) থেমে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচেও টপ স্কোরার ছিলেন মুশফিকুর রহীম (২৯ বলে ৫০)। এছাড়া ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পাল্লেকেল্লেতে শ্রীলঙ্কার ১৯৮ রানের জবাবে ১৮১/৭, ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বরে শেরে বাংলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেটে ১৯৭ রানের জবাবে ১৭৯/১, (তামিম ৮৮ এবং মাহমুদউল্লাহ ৬৪)।

২০১৭ সালে ব্লুমফন্টেইনে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ১৭৫ রানই পরে ব্যাট করে টাইগারদের বড় সংগ্রহ।

নিশ্চয় প্রশ্ন জাগছে, তাহলে রান তাড়া করে দ্বিতীয় স্মরণীয় জয়টি কবে কার বিপক্ষে? তাহলে শুনুন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে।

২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে মোহাম্মদ আশরাফুল আর আফতাব আহমেদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের ৮ উইকেটে তোলা ১৬৪ রানের পিছু নিয়ে ৬ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আশরাফুলের ২৭ বলে ৬১ আর আফতাব আহমেদের ৪৯ বলে ৬২ রানের হার না মানা ইনিংসে বাংলাদেশ ১২ বল আগে পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে।

আর এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও একটি স্মরণীয় জয় আছে। সেটা ২০১৬ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে। সে ম্যাচে টাইগারদের জয়ের টার্গেট ছিল ১৬৪ রানের। জিম্বাবুয়ের ৭ উইকেটে তোলা ১৬৩ রানের পিছু নিয়ে ৮ বল আগে ৪ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।

এছাড়া ২১০৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৮ রান তাড়া করে ২ রানে হারের ম্যাচটিও রান তাড়া করে লড়াই-সংগ্রামের স্মৃতি বহণ করছে।

তার মানে কী দাঁড়ালো? অনিবার্য্যভাবে আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিততে হলে নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে হবে টাইগারদের। আগে ছিল ১৬৪ রানের টার্গেট। আর আজ ২৫ জুলাই লক্ষ্যমাত্রা ১৯৪। রিয়াদ, সৌম্য, নাইম শেখ, সাকিব, আফিফ, সোহান আর শামীম পাটোয়াররা কি তা পারবেন?

এআরবি/আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]