‘ক্রিকেটারদের ওপর দিয়ে অনেক বড় মানসিক ধকল যাচ্ছে’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:০৪ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২১

ইশ...কী করলেন? এই সহজ ক্যাচটি ধরতে পারলেন না? আহা, এমন এক বাজে বলে উইকেট দিয়ে আসলেন। ওহহো, পাওয়ার প্লে‘তে আর ডেড ওভারে অমন আলগা বোলিং!

পুরো জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ চলাকালীন এমন কথা শোনা গেছে অনেকের মুখেই। জিম্বাবুয়ের মত দুর্বল আর সব ফরম্যাটে র্যাংকিংয়ে সবার নিচে থাকা দলের সাথে পারফরম্যান্স এমন কেন? জিতেছে ঠিক আছে, কিন্তু আরও ভালো কি হতে পারতো না? এমন আক্ষেপও রয়ে গেছে অনেক বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকের মনে।

হ্যাঁ। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ দল দেশের বাইরে প্রথমবারের মতো তিন ফরম্যাটে সিরিজ জিতলেও সামগ্রিক পারফরম্যান্স কারো কারো মন ভরেনি। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কী অবস্থায় থেকে মাঠে খেলছেন, তাদের শারীরিক-মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, সেই খবর রেখেছেন ক’জন?

সেই জানুয়ারি থেকে আজ জুলাইয়ের ২৯ তারিখ। প্রায় ৭ মাসের ভেতর ৪ মাসের বেশি সময় কোয়ারেন্টাইন আর জৈব সুরক্ষা বলয়ে কাটিয়েছেন তারা। সেটা কি খুব সহজ ব্যাপার?

আজ বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরে টিম হোটেল ইন্টারকন্টিন্টোলের রুমে বসে জাগো নিউজের সাথে মুঠোফোন আলাপে বিসিবি হেড অব মিডিয়া রাবিদ ইমাম জানালেন, কতটা ধকল যাচ্ছে ক্রিকেটারদের ওপর দিয়ে।

রাবিদ বলেন, ‘সেই জানুয়ারি থেকে শুরু। এই যে আমরা (টিম বাংলাদেশ) মাত্র দেশে ফিরে আসলাম। এসেই হোটেলে ৩ দিনের কঠোর কোয়ারেন্টািইনে থাকতে হবে। এর মধ্যে ৭২ ঘন্টায় হোটেল রুমের বাইরে বের হবারও সুযোগ নেই। পরিবার-পরিজনের সাথে দেখা করা তো দূরে।’

রাবিদ জানান, জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের আগে দিয়ে শুরু হয় কোয়ারেন্টাইন আর জৈব সুরক্ষা বলয়। ১০ দিনের মত জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকতে হয়েছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ চলে যাবার পর সপ্তাহখানেকের ভেতরে আবার নিউজিল্যান্ডে যাবার প্রস্তুতি হিসেবে কোয়ারেন্টাইন। নিউজিল্যান্ডে গিয়ে কঠোর জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা এবং দেশে ফিরে আবার শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য কঠিন বন্দিদশা। শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরে আবার অল্প কদিন পরই হোম সিরিজের জন্য জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে চলে যেতে হয়েছে ক্রিকেটারদের।

এরপর আবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের জন্য ২৯ মে থেকে জুনের ২৬-২৭ তারিখ পর্যন্ত একটানা জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকতে হয়েছে সব ক্রিকেটারকে। সেখান থেকে এক মাসের জন্য জিম্বাবুয়ে সফর। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য এক মাস জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে আবার দেশে ফিরে হোটেলে ঘরবন্দি।

রাবিদ বলেন, ‘আসলে এ দীর্ঘ সময় পরিবার-পরিজন ছাড়া থাকা, মাঠের বাইরে কোথাও যেতে না পারা-এটা যে কত কঠিন, কতটা কষ্টের, তা বলে বোঝানো যাবে না। কেবল যাদের এভাবে মাসের পর মাস কাটছে, তারাই বলতে পারবে কেমন অসহনীয় এ জীবন। আর কেউ বুঝবে না।’

বিসিবির হেড অব মিডিয়ার শেষ কথা, ‘আসলে অনেক বড় মানসিক ধকল যাচ্ছে ক্রিকেটারদের ওপর দিয়ে। এক কথায় পরিবার-পরিজন তথা আপন ভুবন থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন। যা অন্য সময়ের তুলনায় নেহায়েত অস্বাভাবিক। কোথায় নির্ভার হয়ে খেলা আর সেখানে এখন খেলতে হচ্ছে টানা হোটেলবন্দি অবস্থায়, প্রচণ্ড মানসিক অস্থিরতার মধ্যে। এ মানসিক ধকল কাটিয়েই খেলতে হচ্ছে। পারফর্ম করতে হচ্ছে। এর মধ্যে ভালো খেলার তাগিদ থাকছে, দল জেতানোর তাড়াও আছে। সবমিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতি।’

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]