পারফর্ম করাই শেষ কথা প্রথমবার ডাক পাওয়া ইমরানের কাছে

শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ
শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ , স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রকাশিত: ১১:৩৫ এএম, ১৫ আগস্ট ২০২১

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ। বোলিং আক্রমণে রয়েছেন সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদদের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। বৃষ্টির কারণে কুড়ি ওভারের ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে এসেছে ইনিংসপ্রতি ৬ ওভারে। তাই প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের লক্ষ্য ছিল যত বেশি রান তোলা যায় ৬ ওভার থেকে।

এই মিশনে ফ্রি রোল দিয়ে দেয়া হলো উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরানউজ্জামান ইমরানকে। যিনি ব্যাটিংয়ে নেমে তাসকিনের করা ইনিংসের প্রথম বলেই হাঁকালেন ছক্কা। তার ভাষায়, 'বলটা খানিক শর্ট অব লেন্থে ছিল, আমি চালিয়ে দিয়েছি।' সেই চালিয়ে দেয়ার কাজটা তিনি সফলভাবে করেছেন সাকিব আল হাসানের মুখোমুখি প্রথম বলেও।

তাসকিন-সাকিবকে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকানোর ইনিংসে মাত্র ১৪ বলে ২ চার ও ৫ ছয়ের মারে ৪১ রানের টর্ণেডো বইয়ে দেন ২৬ বছর বয়সী এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। এর আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ আসরটিতে প্রথমবার ব্যাটিংয়ে নেমেই ১৭ বলে ৪০ রানের ঝড় তুলেছিলেন ইমরান।

পরে লিগে নিজের প্রথম ফিফটিতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ৪টি করে চার-ছয়ের মারে ৪৬ বলে ৬৫ রান করেছিলেন তিনি। শেষদিকে ধারাবাহিকতায় খানিক ঘাটতি দেখা দিলেও, মিরপুরের নিচু ও মন্থর উইকেটে ঝড় তুলতে পারার সামর্থ্য ঠিকই দেখিয়েছিলেন যশোরের এ ব্যাটসম্যান।

যার পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফর্ম্যান্স (এইচপি) ইউনিটে ডাক পেয়েছেন ইমরান। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এটিই ইমরানের প্রথম জাতীয় ক্যাম্প।

আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামে শুরু হবে এইচপি ক্যাম্পের কার্যক্রম। সে লক্ষ্যে ১৭ আগস্ট বন্দর নগরীতে চলে যাবেন ক্রিকেটাররা। এর আগে শনিবার মিরপুরের ক্রীড়া পল্লীতে রিপোর্টিং করেছেন সবাই। সেখানে বসেই মুঠোফোনে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে।

প্রথমবারের মতো এইচপি ক্যাম্পে ডাক পাওয়ার পর এখান থেকে পুরোটাই নিতে চান ইমরান। পাশাপাশি তিনি এটিও জানেন, পারফর্ম করতে না পারলে কোথাও সুযোগ মিলবে না। তাই পারফর্ম করাই ইমরানের কাছে শেষ কথা। তার পূরো সাক্ষাৎকারটি নিচে দেয়া হলো:

জাগো নিউজঃ অভিনন্দন ইমরান। প্রথমবারের মতো এইচপি দলে। অনুভূতি কেমন?

ইমরানউজ্জামানঃ অনুভূতি তো অবশ্যই ভালো। বলা যায়, এটা হলো জাতীয় ‘বি’ টিম। ভালো লাগছে যে এমন একটা জায়গায় সুযোগ পেয়েছি। (প্রিমিয়ার লিগে) পারফর্ম করতে পারায় সুযোগ এসেছে। ভালো লাগছে।

এইচপি ক্যাম্পে ডাক পাচ্ছি, এটা আগেই জানানো হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল যে, লকডাউনের কারণে ক্যাম্প আপাতত হচ্ছে না। পরে সূচি ঠিক হলে জানিয়ে দেয়া হবে। তো শনিবার ক্যাম্পে রিপোর্টিং করলাম। এটাই আমার প্রথম ন্যাশনাল ক্যাম্প।

জাগো নিউজঃ জাতীয় দলে ঢোকার জন্য প্রথম ধাপ বলা যায় এইচপি ইউনিটকে। সেই এইচপি দলে সুযোগ পাওয়ার পরের ধাপটা কতটুকু দূর মনে হচ্ছে?

ইমরানউজ্জামানঃ আসলে এখানে দেখেন আগে এইচপি দল, পরে ‘এ’ দল, পরে জাতীয় দল। তো আপনি যেখানেই খেলেন না কেন, যদি পারফর্ম না করেন তাহলে কিন্তু আর নাম থাকবে না কোথাও। যেখানেই থাকি, চেষ্টা করব ভালো খেলার, পারফর্ম করার। যাতে আমাকে নিয়ে পরের ধাপের জন্য বিবেচনা করে। আমি শুধু এখানে (এইচপি ক্যাম্প) ডাক পেয়েছি। এখান থেকে যদি পারফর্ম করতে পারি, তাহলে পরের ধাপে ডাকারও একটা সম্ভাবনা থাকবে।

জাগো নিউজঃ এইচপি ক্যাম্পটি প্রায় দুই মাস ধরে চলবে। যেখানে তিনটি ওয়ানডে, দুইটি চারদিনের ম্যাচ আছে। তবে এখানে মূলত স্কিল আর ফিটনেস নিয়েই বেশি কাজ হয়। এই ক্যাম্পে নিজের ব্যাটিং বা কিপিংয়ের বিশেষ কোনো দিক নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে?

ইমরানউজ্জামানঃ আমি যতটুকু জানি, এইচপি ক্যাম্পে বোলার-ব্যাটসম্যানদের স্কিল, ফিটনেসের ওপরেই কাজ করা হয়। এখানে হয়তো খেলা হবে ‘এ’ দলের সঙ্গে। তবে মূল লক্ষ্য থাকবে ফিটনেস আর স্কিল বাড়িয়ে নেয়া।

আমার এখন যে ফিটনেস, এই লেভেলটায় এর আগে আসিনি। চেষ্টা থাকবে এটা ধরে রাখা এবং জাতীয় দলের জন্য যেমন ফিটনেস প্রয়োজন হয় তেমন করে ফেলার। পাশাপাশি নিজের স্কিল আরও উন্নত করতে কাজ করব। আমার যেসব ভুল হয়, ম্যাচ টেম্পারমেন্ট যা থাকে… এগুলো নিয়ে কাজ করব। আমার একটাই চাওয়া, এখান থেকে যেনো পুরোটাই নিয়ে যেতে পারি।

আমাদের মতো (উঠতি) খেলোয়াড়দের জন্য আসলে এইচপি টিমই হলো সেরা জায়গা। কারণ আমি এখান থেকে যা যা দরকার তার সবটাই পাব। এখানে শেখার সব উপকরণই আছে। চেষ্টা করব এখান থেকে সবকিছুই শেখার।

জাগো নিউজঃ একটু পেছনে ফিরি। সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভয়ডরহীন ব্যাটিং করে নজর কেড়েছেন। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে'তে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। এই আগ্রাসী ব্যাটিংটা কি খেলা শুরু পর থেকেই সহজাত আপনার?

ইমরানউজ্জামানঃ জ্বী আমি আসলে আগের থেকেই পাওয়ার হিটিংয়ে অভ্যস্ত। সবসময় প্রথম দশ ওভার বা ছয় ওভার কাজে লাগানোর পক্ষে। কারণ ওপেনারদের কাজই হলো পাওয়ার প্লে’টা কাজে লাগানো। তো এ বছর আমাদের কোচ, অধিনায়ক আমাকে ফ্রি রোল দিয়েছিলেন যে সুযোগ নিতে হবে। আমি যেন পাওয়ার প্লে’টা ব্যবহার করতে পারি। আল্লাহর রহমতে যে তিন-চারটা ম্যাচে ব্যবহার করতে পেরেছি, আমাদের দলও ভালো সুবিধা পেয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।

jagonews24

জাগো নিউজঃ মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচটার দিকে ফিরব একটু। তাসকিন আহমেদের মুখোমুখি প্রথম বলে ছক্কা, সাকিব আল হাসানের মুখোমুখি প্রথম বলে ছক্কা। সেদিন মাত্র ১৪ বলে করলেন ৪১ রান। আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রমাণিত দুই বোলারকে এতটা সাহস নিয়ে খেলা সহজ বিষয় নয়। সেদিনের ইনিংসটি নিয়ে যদি কিছু বলতেন।

ইমরানউজ্জামানঃ ঐটা ছিল ৬ ওভারের ম্যাচ। তো পুরো বিষয়টাই ছিল আসলে জুয়ার মতো। সেদিন প্রথম বলে ৬ হয়েছে, আউটও হয়ে যেতে পারতাম। আমাকে টিম ম্যানেজম্যান্ট থেকেই বলে দেয়া হয়েছিল যে, ইমরান তুমি যাও, নিজেরটা খেলো যেভাবে খেলতে পছন্দ করো।

আমিও সেই পরিকল্পনা নিয়েই ব্যাটিংয়ে যাই যে ভালো বল হলে দেখবো আর শর্ট অব লেন্থ বা ব্যাটের কাছে পেলে চালিয়ে দিবো। ঐ বলটা খানিক শর্ট অব লেন্থে ছিল, আমি চালিয়ে দিয়েছি। এখানে আসলে নির্দিষ্ট কোনো চিন্তা ছিল না। বল দেখে মারার কথাই ভাবছিলাম।

আর সাকিব ভাইয়ের বিষয়টা অবশ্যই আলাদা। উনি বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। অনেক ভালো বোলার। তাই আমি মাথায় এসব চিন্তা করিনি। ভাবছিলাম যে বলটা দেখব, জায়গায় পেলে চালিয়ে দেবো। কারণ ম্যাচটা ৬ ওভারের তাই আমাদের অনেক রান করতে হবে। আল্লাহর রহমতে সেদিন হয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ।

জাগো নিউজঃ আপনি যশোরের সন্তান। যশোর জেলা দলের অধিনায়কত্বও করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শুরুর দিনগুলো সম্পর্কে একটু জানান। কীভাবে শুরু হলো ক্রিকেটের সঙ্গে পথ চলা?

ইমরানউজ্জামানঃ আমি আসলে যশোর জেলা দলের অধিনায়কত্ব করেছি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে। মূল দলে কখনও করিনি। কারণ মূল দলে আমাদের ছিলেন তুষার ইমরান ভাই, সৈয়দ রাসেল ভাই… উনারা জাতীয় দলের খেলোয়াড়। এছাড়া আমাদের আরও সিনিয়র প্লেয়াররা ছিলেন। তো আমি সেখানে উইকেটরক্ষক ছিলাম আর বয়সভিত্তিক দলের অধিনায়কত্ব করেছি।

আমি অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮ জেলা পর্যায়ে পারফর্ম করেছি। তবে কোনো ন্যাশনাল ক্যাম্পে এর আগে ডাক পাইনি। বিসিবির অধীনে এটাই প্রথম ক্যাম্প। ডিভিশনে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আল্লাহর রহমতে ভালোই খেলেছি। বয়সভিত্তিক দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে পরিচয় আছে আগে থেকেই। তবে ন্যাশনাল ক্যাম্প করা হয়নি আগে।

যশোরে আমার প্রথম কোচ আর শেষ কোচ বলতে গেলে একজনই আছেন, আজিমুল হক স্যার। উনার হাত ধরেই আমার ক্রিকেট শেখা, উনার হাত ধরেই এত দূর আসা। এছাড়া আমাদের যশোরের জেলা দলে যারা যারা কোচ ছিলেন সবাই আমাকে সাহায্য করেছেন। ডিভিশনের কোচ রিপন স্যার, মনু স্যার, এবার যেমন রাসেল ভাই… উনারা সবসময় আমাকে সাহায্য করেছেন। মেন্টালি, টেকনিক্যালি সবকিছুতেই উনাদের কাছ থেকে আমি সাহায্য নিয়েছি। উনারা যেভাবে বলেছেন, সেভাবে খেলার চেষ্টা করেছি।

জাগো নিউজঃ প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিকে ধারাবাহিকতায় ঘাটতি দেখা গিয়েছিল…

ইমরানউজ্জামানঃ জ্বী… আসলে ওইভাবে হয়নি। আমি চেষ্টা করেছি শুরুটা যেমন ছিল, সেভাবে শেষ করার। কিন্তু তা ওইভাবে হয়নি। তো এই ক্যাম্প থেকে এটাই চেষ্টা করব যেন শুরু আর শেষটা একরকম রাখতে পারি। সেটা শেখার চেষ্টা করব। যেটা বললাম, এখান থেকে পুরোটাই নেয়ার চেষ্টা করব।

জাগো নিউজঃ ধন্যবাদ ইমরান। আপনার জন্য শুভকামনা।

ইমরানউজ্জামানঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

এসএএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]