তিনটি আক্ষেপে পুড়ছেন পাপন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০২১

২০১৭ সালে শেষবার বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। আজ (বৃহস্পতিবার) তিন বছর পর আবার হলো দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংগঠনটির এজিএম। বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে পাঁচ তারকা হোটেলে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে চোখে পড়ল এক অন্যরকম দৃশ্য।

সাধারণত বোর্ডের কোনো সভা শেষে সিইও নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজনের সঙ্গে বোর্ডের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় পরিচালক তথা নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে নিয়ে আসেন বিসিবি সভাপতি। তবে আজ বর্তমান বোর্ড পরিচালক পর্ষদের মধ্য থেকে একমাত্র আ জ ম নাসিরই ছিলেন বোর্ড পরিচালকের সঙ্গী।

এছাড়া বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আসলেন বিভাগ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষকর্তা আ জ ম নাসির, আশিকুর রহমান মিকু, সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, আলী আব্বাস আর বিসিবি সিইও নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজনকে সঙ্গে নিয়ে। পরে মাঝামাঝি সময়ে মঞ্চে গিয়ে বসলেন বোর্ড পরিচালক আকরাম খান।

সংবাদ সম্মেলনে গত কয়েক বছরের সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নাজমুল হাসান পাপন প্রথমেই নারী দলের সাফল্যের কথা বলেন। নারী দলের এশিয়া কাপ বিজয়কে অনেক বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করে পাপন বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের এশিয়া কাপ জয় বিরাট অর্জন।’

পাশাপাশি যুবাদের বিশ্ব জয়ের কথা বলতে গিয়েও উদ্বেলিত বিসিবি সভাপতি, ‘আমাদের সব অর্জন ও প্রাপ্তি ছাপিয়ে গেছে যুবাদের বিশ্ব জয়ে। আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় অনেক বড় অর্জন। যার সঙ্গে কোনটারই তুলনা হয় না। যুবাদের হাত ধরে বিশ্বকাপ আমাদের বাংলাদেশে এসেছে।’

এসময় না পারার ফিরিস্তি দিতে গিয়ে বিসিবি প্রধান সবার আগে আঞ্চলিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন করতে না পারার কথা উল্লেখ করেন। বলেন, ‘এটা করতে গিয়ে যতটা সহজ মনে হয়েছে, ততটা সহজ হয়নি। দুটো জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে কমিটি করে আঞ্চলিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছি আমরা।’

‘এটা করার কারণটাই ছিল আঞ্চলিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন করার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা। মানে করতে গেলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে? তা আগেভাগে জেনে যাওয়া। আমরা যা যা ভেবে দেখেছি, কার্যক্ষেত্রে সেটা করলে কী কী বিষয় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। সে ধারণা পেতেই আসলে চট্টগ্রাম ও সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে করেছি।’

পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ আর নারী দল নিয়ে তিনটি অপূর্ণতা তাড়া করে বেড়াচ্ছে বিসিবি প্রধানকে। তার ভাষায়, ‘গতবার যুব বিশ্বকাপের আগে আমরা যতটা সম্ভব ভালো প্রস্তুতির ব্যবস্থা করেছিলাম। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য বিদেশি কোচ নিয়োগ, দেশে ও বিদেশে প্রচুর প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা। দেশে ও বাইরে আমাদের যুবারা ৩০টি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছিল।’

‘কিন্তু এবার এখনকার যুব দলের জন্য কিছুই করতে পারিনি। তাদের এখনও পর্যন্ত একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলানোর ব্যবস্থা করতে পারিনি। প্রস্তুতি কার্যক্রমটা আগেরবারের তুলনায় নেহায়েতই সাদামাটা অবস্থায় আছে।’

এর বাইরে নারী ক্রিকেট দলের জন্যও কিছু করতে না পারার আক্ষেপ পোড়াচ্ছে পাপনকে, ‘আমরা নারী দলের জন্যও এখন পর্যন্ত কিছু করতে পারিনি।’

সবশেষে আরও একটি না পারার অনুশোচনা বিসিবি প্রধানের কণ্ঠে, ‘বিশ্বজয়ী যুব দলটিকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা ছিল। তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, দেশে ও বিদেশে নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি বেশি করে ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কিছুই করা সম্ভব হয়নি।’

সেটা কি বোর্ডের অদক্ষতা ও ব্যর্থতা? পাপনের সাজানো গোছানো ব্যাখ্যা, ‘না না। আমরা বিশ্বজয়ী যুব দলকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং তাদের ভবিষ্যতটা আরও সাজিয়ে গুছিয়ে দিতে পারিনি করোনার কারণে। করোনায় সবরকম উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। করোনার কারণেই নারী দলের সব কার্যক্রম বন্ধ। এবারের যুব দলটির পরিচর্যা, উন্নত প্রশিক্ষণ আর দেশে-বাইরে ম্যাচও খেলা হচ্ছে না।’

এআরবি/এসএএস/এমএমআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]