দেশের ক্রিকেটের ‘সব্যসাচী’ ব্যক্তিত্ব ছিলেন জালাল আহমেদ চৌধুরী

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৪ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সাবেক ক্রিকেট কোচ ও ক্রীড়া লেখক জালাল আহমেদ চৌধুরী। মঙ্গলবার রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। দেশের ক্রিকেটের এক সব্যসাচী চরিত্রই ছিলেন জালাল আহমেদ চৌধুরী। যিনি একাধারে ছিলেন ক্রিকেটার, কোচ, সাংবাদিক ও ক্রীড়া লেখক।

বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন অনেক সমৃদ্ধ। আন্তর্জতিক মঞ্চে নিয়মিতই বড় দলগুলোকে হারানোর পাশাপাশি আইসিসি ইভেন্টেও মাথা উঁচু করে অংশগ্রহণ করে টাইগার ক্রিকেট দল। পাশাপাশি আর্থিক দিক দিয়েও অনেক ফুলে ফেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

কিন্তু স্বাধীনতার পর যুদ্দবিধ্বস্ত দেশের ক্রিকেটের এমন রমরমা অবস্থা ছিলো না। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেই অনাড়ম্বর দিনগুলোতে ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন জালাল আহমেদ চৌধুরীর মতো ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। যিনি নিজে ক্রিকেট খেলেছেন, কোচ হয়ে খেলিয়েছেন দেশের বরেণ্য ক্রিকেটারদেরও।

শুধু ক্রিকেটার-কোচ হিসেবেই নয়, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রেখেছেন ক্রীড়া সাংবাদিক এবং ক্রিকেট লিখিয়ে হিসেবেও। পাশাপাশি বিসিবির আম্পায়ার্স ও স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদকের পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন জালাল আহমেদ চৌধুরী। সবমিলিয়ে সব্যসাচী এক ব্যক্তিত্বই ছিলেন তিনি।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে সত্তর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত খেলেছেন ঢাকা ক্রিকেট লিগে নিয়মিতই খেলেছেন রাজধানীর আজিমপুর কলোনিতে বড় হওয়া জালাল আহমেদ চৌধুরী। তারপর শুরু করেন কোচিং। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেট কোচ হিসেবে ভারতের পাতিয়ালায় উচ্চতর কোচিংয়ের ওপর ট্রেনিং করেন তিনি।

পরে মোহামডান, ধানমন্ডি, কলাবাগানসহ ঢাকার বেশ কয়েকটি শীর্ষ ক্লাবে কোচিং করান জালাল আহমেদ চৌধুরী। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ জালাল আহমেদ চৌধুরী। একাধারে ক্রিকেটার, প্রশিক্ষক, আম্পায়ার, সাংবাদিক ও লিখিয়ে হিসেবে সবার প্রশংসাধন্য।

প্রশিক্ষক জালাল আহমেদ চৌধুরীর হাত ধরে অগণিত বড় বড় তারকার অভুদ্যয়। জাতীয় দলের প্রথম ওয়ানডে অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্পিনার নজরুল কাদের লিন্টু, রবিন, গোলাম ফারুক সুরু, জি এম নওশের প্রিন্স, তুষার ইমরানসহ অগণিত তারকার বেড়ে ওঠা জালাল আহমেদ চৌধুরীর হাতে।

১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ দলের আইসিসি ট্রফি জয়ের নেপথ্য কারিগরও ছিলেন তিনি। মূলত তার হাতেই গড়ে উঠেছিল সেই আসরের বাংলাদেশ দল। পরে টুর্নামেন্ট শুরুর ১০-১২ দিন আগে কোচ হিসেবে যোগদান করেন গর্ডন গ্রিনিজ।

তিন বছর আগেও তিনি ছিলেন কলাবাগানের কোচ। মোহাম্মদ আশরাফুল যেবার এক লিগে পাঁচটি শতক হাকান, সেই লিগেও তিনি ছিলেন আশরাফুলের দল কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের কোচ।

ক্রিকেট প্রশিক্ষণের বাইরে তিনি ছিলেন দেশ বরেণ্য সাংবাদিক ও ক্রিকেট লিখিয়ে। আশির দশকে তৎকালীন বাংলাদেশ টাইমসেমর স্পোর্টস ইনচার্জ হিসেবে কাজ করেছেন।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জালাল আহমেদ চৌধুরী বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বিসিবির আম্পায়ার্স ও স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদকের পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন।

এআরবি/এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]