বিসিবি নির্বাচনে এবারও কঠিন পরীক্ষায় দুর্জয়

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:২৪ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

ক্রিকেটপ্রেমীদের যে অংশ বিসিবি নির্বাচনের খুঁটিনাটি খোঁজখবর রাখছেন, তাদের বেশিরভাগের দৃষ্টি ঢাকার ক্লাব কোটার দিকে। ঢাকার ক্লাব কাউন্সিলরদের মধ্যে কোন ১২ জন হবেন আগামী ৪ বছরের জন্য বিসিবি পরিচালক? তা জানতেই বেশি আগ্রহ।

সে তুলনায় ক্যাটাগরি-১ তথা বিভাগ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলরদের ভোটাভুটিতে নির্বাচিত পরিচালকদের নিয়ে উৎসাহ তুলনামূলক কম। একই অবস্থা ক্যাটাগরি-৩ নিয়েও । সেখানে থাকা একটি পদের প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদ মাহমুদ সুজন ও নাজমুল আবেদিন ফাহিম।

তবে উৎসাহ-উদ্দীপনার কেন্দ্রবিন্দু হলো ঢাকার ক্রিকেট। যেখানে বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, সিনিয়র পরিচালক এনায়েত হোসেন সিরাজ, প্রভাবশালী পরিচালক মাহবুব আনাম, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, গোলাম মর্তুজা পাপ্পা, মঞ্জুর কাদের, আহমেদ নজিব এবং শওকত আজিজ রাসেলরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

পাশাপাশি আরও ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ ঢাকার ক্লাব কোটায় ১২ পরিচালক পদের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১৭ জন। তারা সবাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করবেন নাকি ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন? তা সময়ই বলে দেবে।

তবে হিসেব খুব সোজা, যদি শেষপর্যন্ত ১২ জন ছাড়া বাকিরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন, তাহলে আর নির্বাচন হবেনা। কিন্তু যদি ১ জন বেশি অর্থাৎ ১৩ জনও প্রার্থী হন, তাহলেই কেবল ভোট হবে।

এদিকে খালি চোখে যাই মনে হোক না কেন, সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের আভাস মিলেছে ঢাকা বিভাগে। যেখানে নাইমুর রহমান দুর্জয়ের সঙ্গে লড়াই করবেন আরও তিন জন। তারা হলেন সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু (কিশোরগঞ্জ), তানভীর আহমেদ টিটু (নারায়ণগঞ্জ) ও খালিদ হোসেন (মাদারীপুর)।

উল্লেখ্য, চার বছর আগেও নাইমুর রহমান দুর্জয়কে লড়াই করেই বোর্ডে আসতে হয়েছিল। এবারও তার যে তিন প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন, তাদেরও সামাজিক পরিচিতি আছে। তিনজনই নিজ নিজ জেলা ক্রীড়াসংস্থার অন্যতম শীর্ষ কর্তা এবং তিনজনেরই পারিবারিক পরিচিতি আছে।

এর মধ্যে ২০১৭ সালে নির্বাচিত সৈয়দ আশফাকুল হক টিটু হলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ, আওয়ামী লিগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চাচাতো ভাই। মুজিব নগরের অস্থায়ী সরকারের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাতিজা।

jagonews24

আগেরবার যে তরুণ প্রবল লড়াই করেও জিততে পারেননি, সেই তানভির আহমেদ টিটু নারায়নগঞ্জ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, নারায়নগঞ্জ জেলা ক্রীড়াসংস্থার সাধারণ সম্পাদক এবং নারায়নগঞ্জের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শামীম ওসমানের শ্যালক।

এবার তাদের দুজনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন খালিদ হোসেন। পারিবারিকভাবেই তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নামি কৃষিবীদ বাহাউদ্দীন নাছিমের আপন ছোট ভাই খালিদ হোসেন। এছাড়া তিনি মাদারীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং জেলা ক্রীড়াসংস্থার অন্যতম শীর্ষ কর্তা।

মোদ্দা কথা, ক্রিকেট অঙ্গনে তারা তিনজন নাইমুর রহমান দুর্জয়ের মতো অতো পরিচিত না হলেও প্রার্থী হিসেবে ওপরের কেউই হেলাফেলার নয়। সবারই একটা সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচিতি আছে। সে কারণেই ভাবা হচ্ছে, ঢাকা বিভাগে প্রবল লড়াই হবে।

অবশ্য দেশের ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র নাইমুর রহমান দুর্জয়ও পারিবারিক ঐতিহ্য ধারণ করেই মানিকগঞ্জের সাংসদ হয়েছেন। তার প্রয়াত পিতা অধ্যক্ষ আবু মোহাম্মদ সাইদুর রহমানও মানিকগঞ্জের বিশিষ্ট সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষা-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিগনিত। তিনিও মানিকগঞ্জের নির্বাচিত সাংসদ ছিলেন। দুর্জয়ের মা নীনা রহমান মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লিগের সভানেত্রী। কাজেই সব হিসেব নিকেশে নাইমুর রহমান দুর্জয় বাকিদের চেয়ে অবশ্যই এগিয়ে।

কিন্তু অন্য তিনজনের কেউই কারও চেয়ে কম নন। তাদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবও নির্বাচনে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই এখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে খালিদ হোসেন আর নারায়ণগঞ্জের তানভির টিটুর মধ্যে প্রবল লড়াই হবে।

এআরবি/এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]