ডাকযোগে ৪৮ জন, ই-মেইলে ভোট দেবেন ৮ জন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:৩৩ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

আগেই জানা এবারের বিসিবি পরিচালক পর্ষদ নির্বাচনে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে ভোট দেয়ার পাশাপাশি ডাকযোগেও ভোট দেবার প্রথা চালু করা হয়েছে। আবেদন করে কোন ভোটার ভোটের দিন বিসিবিতে না এসে পোস্টাল ভোট দিতে পারবেন।

সে অনুযায়ী আজ জানা গেলো, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার পোস্টাল ভোট প্রদানের আবেদনও করেছেন। তাদের কারো কারো আবেদন প্রত্যাখ্যাতও হয়েছে। তারপরও শেষ পর্যন্ত বহুল আলোচিত ‘পোস্টাল ভোট’ কার্যকর হচ্ছে।

আগামী ৬ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে তিন ক্যাটাগরির মোট ৪৮জন ভোটার স্ব-শরীরে উপস্থিত না হয়ে ডাক যোগে এবং ৮ জন ই-মেইলে তাদের ভোট প্রদান করবেন। এর অর্থ, ১১৫ জন স্ব-শরীরে আসবেন ভোট দিতে। বাকি ৫৬ জন পোস্টাল ও ই-ভোট দেবেন। বিসিবি পরিচালক পর্ষদের রিটার্নিং অফিসার আলি রেজা আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান।

বিসিবি থেকে তিন ক্যাটাগরির ১৭১ কাউন্সিলর বা ভোটারের কাছে আগেই চিঠি পাঠানো হয়েছে যে, কেউ যদি করোনার কারণে বা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কোন সমস্যার কারণে ৬ অক্টোবর স্ব-শরীরে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ভোট দিতে যেতে না চান বা অপারগ হন, তাহলে চিঠি দিয়ে জানাতে। তার ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর পোস্টাল ও ই-মেইল ভোট দিতে আগ্রহী হয়েছেন। তাদের আবেদনের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন স্থির করেছে যে, ৬ অক্টোবর ক্যাটাগরি-১ থেকে ৪ জন, ক্যাটাগরি-২ থেকে ২৬ জন এবং ক্যাটাগরি-৩ থেকে ১৮ জন, মোট ৪৮ জন ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া ই-ভোট দেয়ার সুযোগও থাকছে। তার সংখ্যা হলো, ক্যাটাগরি-২ থেকে ৪ জন, আর ক্যাটাগরি-৩ থেকে ৪ জন।’

বিসিবি পরিচালক পর্ষদ নির্বাচনের রিটানিং অফিসার আলী রেজা সাংবাদিকদের জানান, ‘আমাদের কাছে কেউ কেউ পোস্টাল ব্যালট চেয়েছেন।’

সে সংখ্যা জানাতে গিয়ে আলী রেজা জানান, ক্যাটাগরি ১ থেকে ৬ জন, ক্যাটাগরি ২ থেকে ৩২ জন এবং ক্যাটাগরি ৩ থেকে ২০ জন আবেদন করেছে। এর পাশাপাশি ই-মেইলে ‘ই-ভোটের’ জন্য ক্যাটাগরি-২ থেকে ৪ জন, ক্যাটাগরি-৩ থেকে ৪ জন আবেদন করেছে।’

তবে পোস্টাল ও ই-ভোটের আবেদন করা সবাই যে স্ব শরীরে উপস্থিত না থেকে ভোট দিতে পারবেন এমন নয়। নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের আবেদন বাতিল করেছেন। তা জানিয়ে রিটাার্নিং অফিসার আলী রেজা যোগ করেন, এর মধ্যে আমরা যাচাই বাছাই করে যেটি পেয়েছি, সেটি হল ক্যাটাগরি ১-এর ভেতর ৬ জনের মধ্যে ২ জনের প্রয়োজন নেই। কারণ হলো ওই ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রাম ও খুলনার একজন করে দুজন ভোটার সে আবেদন করেছেন। যার একজন চট্টগ্রাম, অন্যজন খুলনার। এই দুই জায়গায় যেহেতু নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই, মানে পদ আর প্রার্থী সমান। তাই নির্বাচনের যেখানে প্রশ্ন নেই, সেখানে ওই দু’জনের পোস্টাল ভোটের আবেদনও অর্থহীন।’

এদিকে রিটার্নিং অফিসার আলী রেজা আরও একটি তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ক্যাটাগরি-২ এর ৫ জন কাউন্সিলরের পোস্টাল ভোটের আবেদন বাতিল হয়েছে। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তারা যেভাবে আবেদন করেছে, সেখানে স্বাক্ষরের বিষয় রয়েছে সেগুলো মেলেনি। যার ফলে আমরা পাঁচজনকে রিজেক্ট করেছি।’

অন্যদিকে ক্যাটাগরি ৩ থেকে ২০ জনের মধ্যে আমরা দু’জনকে রিজেক্ট করেছি। রিজেক্টের মানে এই না যে তারা ভোট দিতে পারবে না। তারা ই-ব্যালটে পারবে না, তাদের স্ব-শরীরে ভোট দিতে আসতে হবে।’

রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভোটারের উপস্থিতি ঘটতে যাচ্ছে। ‘আমরা আশা করেছিলাম এতো ভোটার আসবে না, আরও কম হওয়ার কথা ছিল। আমরা একটা উৎসবমুখর জমজমাট নির্বাচন আশা করছি।’

তিনি নিশ্চিত করেন, বিসিবি নির্বাচনের ফলাফল ৬ তারিখেই ঘোষণা করা হবে।

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]