নতুন অস্ত্র নিয়ে বিশ্বকাপে হাজির হতে চান তাসকিন

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০১ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০২১

বিশ্বকাপ তাসকিন আহমেদকে দুই ধরনের অভিজ্ঞতায় দিয়েছে এখন পর্যন্ত। ২০১৫ বিশ্বকাপে মাশরাফি, আল আমিন, রুবেলদের পাশাপাশি আলো কেড়েছিলেন এই পেস বোলার। অথচ পরের বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয় অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে।

তাসকিন মিস করেছেন ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপও। এবার চোটের কারণে বিশ্বসেরার মঞ্চে খেলা হয়নি তার। সেই চোট, ফিটনেস সমস্যা দূর করে, কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তাসকিন এখন জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ। এবারের বিশ্বকাপে দলের বোলিং লাইনআপের অন্যতম প্রধান অস্ত্রও।

বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে ছিলেন তাসকিন। বোলিং বৈচিত্র্য আনতে একদিন তো স্বয়ং মাশরাফি বিন মর্তুজাকে এনে নিয়েছেন টিপস। মাশরাফির কাছ থেকে স্লোয়ারের কৌশলটা শেখার চেষ্টা করেন তাসকিন।

মোস্তাফিজের মত কাটার শিখতে না পারলেও তিনি বলেন, ‘আমি মোস্তাফিজ হতে পারব না। মোস্তাফিজ কাটার মাস্টার। আমি পেসের সঙ্গে একটু স্লোয়ার যোগ করছি আরকি। মোস্তাফিজের মতো কাটার আমি পারব না। আমার পেসের সঙ্গে, সুইংয়ে আগের চেয়ে বেটার কাটার যদি করতে পারি তাহলে একটা অপশন বাড়বে। ইট ক্যান বি অ্যা মাই গুড ওয়েপন।’

মাশরাফির কাছ থেকে কাটার শিখছেন। তবে সেটা নিজের ইচ্ছার ওপর। তা জানিয়ে তাসকিন বলেন, ‘আমার শক্তি যেটা পেস বাউন্স, তার সঙ্গে ওটা (কাটার) যোগ হলে আরেকটা বিকল্প হতে পারে। মাশরাফি ভাই বলেছেন, যদি ভাল লাগে তাহলে চেষ্টা করবা। হয়ত একটু সময় লাগবে। যদি শিখতে পারি আমার মনে হয় ভাল হবে।’

প্রস্তুতিটা ভালো হয়েছে বলেই ভালো কিছুর প্রত্যাশা তার। বিশ্বকাপগামী বিমানে ওঠার আগে তিনি বলেছিলেন, ‘এতদিন অনুশীলন করছিলাম। আশা করি প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। এখানে যতটুক হয়েছে, তাতে ভালো কিছুর আশা নিয়েই যাব (বিশ্বকাপে)।’

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে কিছুদিন আগে সিরিজ হারিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও হোম গ্রাউন্ডের সুবিধা নিয়ে, স্পিনিং উইকেটে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট মূলত হয় স্পোর্টিং উইকেটে। তাসকিন সেটা জানেন। তবে তার আশা, দল জয়ের ধারায় আছে বলে বিশ্বকাপে স্পোর্টিং উইকেটে ক্রিকেটারদের মানিয়ে নিতে কষ্ট হবে না। তাসকিন বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট স্পোর্টিং উইকেটে হয়। আশা করি সবাই ওখানে মানিয়ে নিতে পারবে। আমরা জয়ের ধারায় আছি। একটা আত্মবিশ্বাস আছে।’

নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর দীর্ঘ একটা সময় ছুটি পায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। বায়ো বাবলের ক্লান্তি দূর করতে অনেকে সেই ছুটি কাটিয়েছেন আরাম-আয়েশে। তবে তাসকিন মাঠে ছিলেন নিয়মিত। এসময় স্কিল নিয়ে যেমন কাজ করেছেন, তেমনি স্পোর্টিং উইকেটে মানিয়ে নেয়ার প্রস্তুতিটা সেরেছেন তিনি, ‘স্কিল নিয়ে কিছু কাজ করা তো হয়েছেই। ব্যালেন্স করা, উইকেটে মানিয়ে নেয়া নিয়ে কাজ করেছি। আমরা গত যে দুই সিরিজে খেলেছি সেখানে উইকেট অনেক কঠিন ছিল। স্পোর্টিং উইকেটে খেলার জন্য আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে হচ্ছে।’

এদিকে, বিশ্বকাপে প্রতিটি দলকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এবার মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন তাসকিন, ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ বলে কেউ নেই। সবার সাথেই ভালো করতে হবে। আলাদা কোনো কিছু নেই। মাঠে সব প্রতিপক্ষই সমান। ১০ নম্বর দলের বিপক্ষে যে মনোযোগ নিয়ে খেলা উচিৎ। এক নম্বর দলের বিপক্ষেও একই মনোযোগ নিয়ে খেলা উচিৎ। সবাইকে সমান চোখে দেখলে ভালো হয়। সব দল সমান। আলাদা কিছু না ভেবে নিজের সেরাটা দিতে হবে।’

তবে দুর্ভাগ্য সব সময়ই তাড়া করে তাসকিনকে। এবারও যেমন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে হালকা চোটে পড়েছেন। যে কারণে তাসকিনের ব্যাকআপ হিসেবে দলের সঙ্গে রেখে দেয়া হয়েছে রুবেল হোসেনকে। যদি তাসকিন খেলতে না পারেন, তাহলে রুবেলই হবেন দলের অংশ। সত্যি সত্যি খেলতে পারবেন তো তাসকিন?

এসএস/আইএইচএস/

তাসকিন আহমেদ, জন্ম: ৩ এপ্রিল, ১৯৯৫, রোল: পেস বোলার, বোলিং স্টাইল: ডানহাতি পেসার, ব্যাটিং স্টাইল: বাঁহাতি ব্যাটার, টি-টোয়েন্টি অভিষেক: জানুয়ারি ১৫, ২০১৬ বনাম জিম্বাবুয়ে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]