ফতুল্লা স্টেডিয়াম নিয়ে সুখবর দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২১

যাত্রা শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবেই। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া আর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার টেস্টসহ দুই টেস্ট, ১০ ওয়ানডে আর চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও হয়েছে।

পাশাপাশি ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট এবং জাতীয় লিগ ও বিসিএলের নিয়মিত ভেন্যু হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে পড়েছিল ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। কিন্তু বছর তিনেক ধরে সেই স্টেডিয়ামের প্রবেশপথসহ প্রায় পুরো অংশ বৃষ্টি হলেই পানির নিচে ডুবে থাকে।

মূলত বৃষ্টি এবং আশপাশের স্থাপনা ও বাড়িঘর থেকে আসা পানিতেই ফতুল্লা স্টেডিয়ামের বাইরে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। আর সেই জলাবদ্ধতায় আউটার স্টেডিয়াম ও তার আশপাশের অবস্থা হয়ে পড়ে অস্বাস্থ্যকর। যে কারণে ফতুল্লা মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ তো দূরের কথা, ঘরোয়া ক্রিকেটই হচ্ছে না।

বৃষ্টি, বর্ষা আর আশপাশের ওয়াসা ও বাড়িঘরের বর্জ্য মিশ্রিত পানিতে একাকার ফতুল্লা স্টেডিয়ামের ছবি গত দুই বছর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুবার ছাপা হয়েছে। হয়েছে অনেক প্রতিবেদন। জাগো নিউজেও গত ১০ সেপ্টেম্বর ‘ফতুল্লা স্টেডিয়াম যেন জলাভূমি’ শিরোনামে নিউজ ছাপা হয়েছে।

সবার একটাই প্রশ্ন, এই জলাবদ্ধতা কবে ও কিভাবে দূর হবে? ফতুল্লা স্টেডিয়ামে আবার কবে ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ হবে? এমন প্রশ্নর জবাব মেলেনি অনেককাল।

ফতুল্লা স্টেডিয়ামের ভৌগোলিক অবস্থান, চারপাশ সম্পর্কে যাদের ধারণা পরিষ্কার, তারা জানেন- আশপাশের পানি, বৃষ্টির ঢল ও বর্ষার পানির তোড় বন্ধ করাই শেষ কথা নয়; মাঠ যে রাস্তা ও আশপাশের চেয়ে অনেক নিচু, সেটা উঁচু করা এবং জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের আধুনিক ব্যবস্থা করা ছাড়া এ জলাবদ্ধতা দূর করা অসম্ভব।

তবে আশার কথা, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিসিবি ওই সমস্যার সমাধান করতে বদ্ধপরিকর। সব কিছু ঠিকমতো এগোলে হয়তো অল্প সময়ের মধ্যেই ওই পানি জমা বন্ধ ও নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খোদ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল দিয়েছেন এ তথ্য।

আজ (বুধবার) দুপুরে জাগো নিউজের বিশ্বকাপ পোর্টাল ম্যাগাজিনের উদ্বোধন করতে এসে অনেক কথার ভিড়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফতুল্লা স্টেডিয়ামের জলাবদ্ধতা দূর করার কার্যকর উদ্যোগের সুখবরটি জানান।

জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘খুব ভালো একটা মাঠ ছিল। কিন্তু এটার যে প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড আছে (আউটার স্টেডিয়াম), সেটায় পানি উঠে যাচ্ছে। যখন মাঠটি নির্মাণ করা হয়েছে, তখন আশপাশে তেমন স্থাপনা ও ঘরবাড়ি ছিল না। স্টেডিয়াম স্থাপিত হওয়ার পর সেই স্টেডিয়ামকে সামনে রেখেই জনবসতি গড়ে ওঠে। স্থাপনাও তৈরি হতে থাকে। আশেপাশে বাড়িঘর যেহেতু উঁচুতে, তাই সব পানি এসে জমা হচ্ছে। সেই পানি বের করার মত জায়গাও ছিল না। মাঠ উঁচু করে এই জমে থাকা পানি কোথায় সরাবো, সেটাই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে।'

এই জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের উপায় খুঁজতে বিসিবি বুয়েটের শরণাপন্ন হয়েছিল। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘বুয়েটের পর্যবেক্ষক দল পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। তারা তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন। সে সমীক্ষা প্রতিবেদন ও ডিজাইন ১০-১৫ দিন আগে জমা পড়েছে। তবে আমরা পূর্ণাঙ্গ ডিজাইন এখনও পাইনি। আংশিক রিপোর্ট পেয়েছি। আশা করছি, পুরো ডিজাইন পেলে মাঠের পানি সরানোর কাজে হাত দিতে পারবো।’

এআরবি/এমএমআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]