সেরাদের দলে নিজেকেও রেখেছেন পোলার্ড

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:২১ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড এই ফরম্যাটে তার পছন্দের সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের নাম জানিয়েছেন।

নিজের পছন্দের একাদশে কোন পাঁচজন ক্রিকেটারকে সবার আগে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইবেন, আইসিসির ছোঁড়া এমন প্রশ্নের জবাবে পোলার্ড তার স্বদেশী ক্রিস গেইল, সুনীল নারাইন, ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি, শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার সঙ্গে নিজের নাম জুড়ে দেন।

পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ব্যাখ্যাও দেন কেন, কী কারণে তার সেরা পাঁচে উঠে এসেছে এই নামগুলো-

Crish Gayle

ক্রিস গেইল

পোলার্ডের প্রথম পছন্দ একদম প্রত্যাশিত। তার জাতীয় দলের সদস্য ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মহারাজা ওপেনার ক্রিস গেইল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য গেইল এই ফরম্যাটের বেতাজ বাদশাহ। নিজেই নিজেকে ঘোষণা দিয়েছেন ইউনিভার্সাল বস হিসেবে।

পোলার্ড তাকে না রেখে আর যাবেন কোথায়! গেইলের রেকর্ডই অবশ্য তাকে পছন্দের তালিকায় রাখতে বাধ্য করবে। ৪২ বছর বয়সী এই তারকা সর্বমোট ৪৪৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে রান করেছেন ১৪ হাজার ২৬১। গড় প্রায় ৩৭, সঙ্গে ১৪৬ স্ট্রাইকরেট!

এই ফরম্যাটে সেঞ্চুরি করা যেখানে দুঃসাধ্য ব্যাপার অনেকের জন্য, সেখানে গেইলের নামের পাশে আছে ২২টি সেঞ্চুরি।

Malinga

লাসিথ মালিঙ্গা

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পোলার্ডের দ্বিতীয় পছন্দ এই সংস্করণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক লাসিথ মালিঙ্গা। ঝাঁকড়া চুলের বাঁ-হাতি কাটে বরাবরই আলোচনায় থাকা মালিঙ্গা বল হাতেও ক্যারিয়ার জুড়ে ছিলেন অনবদ্য। শ্রীলঙ্কা তার নেতৃত্বেই ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল।

গেইল যেমন ব্যাটারদের বস, তেমনি মালিঙ্গা বোলারদের বস। অন্তত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তো অবশ্যই। ১৬ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৯৫টি কুড়ি ওভারের ম্যাচ খেলে সাতের নিচে ইকোনমি রেটে ৩৯০ উইকেটের মালিক সাবেক এই লঙ্কান তারকা। ইয়র্কারের রাজার স্বীকৃতি পাওয়া মালিঙ্গা এ বছরের সেপ্টেম্বরে সবধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন।

Narine

সুনিল নারিন

একজন নিঁখাদ ব্যাটসম্যান এবং পেসারকে দলে নেয়ার পর পোলার্ড স্পিনার হিসেবে তার পছন্দের দলে রেখেছেন স্বদেশী সুনিল নারিনকে। ত্রিনিদাদে জন্ম নেয়া এই রহস্য স্পিনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।

ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিলেন দুর্দান্ত। আসরজুড়ে ওভার প্রতি ৫.৬৩ রান দিয়ে ৯ উইকেট পকেটে পুরেছিলেন তিনি। ২০১০ সালে অভিষেকের পর থেকেই ভিন্নধর্মী বোলিং অ্যাকশনের কারণে আলোচনায় চলে আসেন নারিন, এরপর নিজের বোলিং নৈপুণ্যে বাজিমাত করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ইমরান তাহির এবং ডোয়েইন ব্রাভোর পর সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক এই রহস্য স্পিনার।

Dhoni

মহেন্দ্র সিং ধোনি

আইসিসির প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত, আর সেই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশটির ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রখর ক্রিকেটীয় মস্তিষ্কের এই কিপার-ব্যাটারের ফিনিশার হিসেবে জগতজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন।

পোলার্ড তার দলে ফিনিশার হিসেবেই রেখেছেন ধোনিকে। আন-অর্থোডক্স কিপিং টেকনিকের কারণে, বিশ্বসেরা কিপারদের একজন ধরা হয় ধোনিকে। টি-টোয়েন্টি ১৮৫ ক্যাচ আর ৮৪ স্টাম্পিংয়ের মালিক তিনি। ব্যাট হাতেও কার্যকর ধোনির ৩৮.৫৪ গড় আর ১৩৪ স্ট্রাইকরেটে রান করেছেন ৬ হাজার ৮৬১!

Polard

কাইরন পোলার্ড

যদি এটা আমার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের পছন্দের একাদশ হয়, তবে নিজেকেও সেখানে আমি রাখব। কেন সেটা, আমার রেকর্ডই তা ভালো করে বুঝিয়ে দিবে। পছন্দের একাদশের সেরা পাঁচে নিজেকে রেখে কথাগুলো বলছিলেন কাইরন পোলার্ড।

আসলেই তো তাই। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সফলতম ক্রিকেটারদের একজন এই ক্যারিবিয়ান তাররকা। ২০০৬ সালে অভিষেক হলেও, পোলার্ড পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন ২০০৯ সালে। এরপর থেকেই ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছেন পোলার্ড।

বল হাতে কার্যকরী বোলিংয়ের সঙ্গে মারকুটে ব্যাটিং-পোলার্ডকে করেছে অনন্য। পাওয়ার হিটিং, পিঞ্চ হিটিংয়ে বিশ্বের যেকোনো বোলিং লাইনআপকে পর্যুদস্ত করার ক্ষমতা রাখেন এই ত্রিনিদাদিয়ান অলরাউন্ডার। শুধু নিজে কেন, পোলার্ডকে এই ফরম্যাটে যেকেউ তো রাখতে চাইবেন।

এসএস/আইএইএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]