দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে সাকিবের দুর্দান্ত ইনিংসের সমাপ্তি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১

আগের ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হারের খানিকটা দায় ছিলো সাকিব আল হাসানের ধীর ব্যাটিংয়েরও। কেননা ২৮ বল খেলে মাত্র ২০ রান করেছিলেন সাকিব। তবে ঘুরে দাঁড়াতে একদমই সময় নেননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ওমানের বিপক্ষে শুরু থেকেই সচল তার ব্যাট।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে বাজলো সাকিবের দুর্দান্ত ইনিংসের বিদায়ঘণ্টা। পয়েন্ট অঞ্চল থেকে সরাসরি থ্রোয়ে সাকিবকে রানআউট করে দিয়েছেন আকিব ইলিয়াস। সাজঘরে ফেরার আগে ছয় চারের মারে ২৯ বলে ৪২ রান করেছেন সাকিব।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ১৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০৪ রান। বাঁহাতি ওপেনার মোহাম্মদ নাইম শেখ ৪৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। নতুন ব্যাটার হিসেবে উইকেটে এসেছেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুবই সাধারণ বিষয় হলো, পাওয়ার প্লে'র ফিল্ডিংয়ের বিধিনিষেধ কাজে লাগিয়ে যত বেশি রান করে নেয়া যায়। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ কাজটি একদমই করতে পারছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পাওয়ার প্লে'র ছয় ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিলো ২ উইকেটে ২৫ রান। আজ ওমানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বাংলাদেশ করতে পেরেছে ২ উইকেটে ২৯ রান।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে এরই মধ্যে সাজঘরে ফিরে গেছেন লিটন দাস ও শেখ মেহেদি হাসান। এখন তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধেছেন মোহাম্মদ নাইম শেখ ও সাকিব আল হাসান।

ক্রিকেটে কোনো ব্যাটার জীবন পাওয়া মানেই সেটিকে কাজে লাগিয়ে বড় ইনিংস খেলা অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু ওমানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সেই কাজটি করতে পারলেন না বাংলাদেশ দলের ডানহাতি ওপেনার লিটন দাস, পারেননি তিনে নামানো শেখ মেহেদি হাসানও।

আগের ম্যাচের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে আজ তিন নম্বরে পাঠানো হয়েছিলো মেহেদিকে। কিন্তু তিনি পারেননি সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে। আউট হয়ে গেছেন রানের খাতা খোলার আগেই।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারা ম্যাচের একাদশে একটি পরিবর্তন এনে আজ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য সরকারের জায়গায় আনা হয়েছে আরেক বাঁহাতি নাইম শেখকে।

দলে ফিরে প্রথম ওভারের প্রথম বলটি মোকাবিলা করেন নাইমই। প্রথম বল নয়, মূলত পুরো ওভারটিই খেলেন তিনি। কিন্তু প্রথম পাঁচ বল থেকে কোনো রানই করতে পারেননি। শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক রাখেন নিজের কাছেই।

দ্বিতীয় ওভারেও প্রথম দুই বল ডট খেলেন নাইম। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিলে প্রথমবারের মতো স্ট্রাইক পান লিটন। সেই ওভারের শেষ তিন বলে তিন রান নেন এ ডানহাতি।

প্রথম ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করা বিলাল খান উইকেট পেতে পারতেন নিজের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলেই। লিটনের ফ্লিক শটে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ ছেড়ে দেন ক্যাশপ প্রজাপতি।

কিন্তু পরের বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন লিটন। আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। তবে রিভিউ নিয়ে টাইগার ওপেনারের বিদায়ঘণ্টা বাজায় ওমান। তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লে'র সুবিধা কাজে লাগাতে নামানো হয়েছিলো মেহেদি হাসানকে। কিন্তু তিনি চার বলেও কোনো রান করতে পারেননি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ফায়াজ বাটকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন এ ডানহাতি ব্যাটার।

তবে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে একটি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে রানরেটটা খানিক ভদ্রস্থ করেছেন নাইম। তবু মাত্র ২১ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাকিব আল হাসান। তিনি নাইমকে নিয়ে সামাল দিচ্ছেন শুরুর ধাক্কা।

প্রথম পাওয়ার প্লে'তে মাত্র ২৯ রান করলেও পরের চার ওভার থেকে ৩৪ রান পেয়েছে বাংলাদেশ। এর পেছনে অবশ্য বড় অবদান রয়েছে ওমানের দুই ফিল্ডার ক্যাশপ প্রজাপতি ও জোতিন্দর সিংয়ের। দুজনই একবার করে ছেড়ে দিয়েছেন নাইমের ক্যাচ।

ফায়াজের করা সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলটি ছিলো বাউন্সার, স্কয়ার কাট করেন নাইম। ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ ধরার পজিশনেই ছিলেন জোতিন্দর। কিন্তু তিনি সেটি হাতে রাখতে পারেননি। উল্টো বল চলে যায় সীমানার ওপারে, বাংলাদেশ পায় ইনিংসের দ্বিতীয় ছক্কা।

পরের ওভারেই আবারও সুযোগ পান নাইম। এবার মোহাম্মদ নাদিমের বলে শর্ট মিড অনে লোপ্পা ক্যাচ ছেড়ে দেন প্রজাপতি। যিনি এর আগে ছেড়েছিলেন লিটনের ক্যাচও। তবে লিটনের মতো পরের বলেই আউট হননি নাইম। দুইবার জীবন পেয়ে সেটি কাজে লাগিয়ে ফিফটি তুলে নিয়েছেন এ বাঁহাতি ওপেনার।

একই পথে ছিলেন সাকিবও। বলা ভালো, নাইমের চেয়ে ভালো সাবলীল ব্যাটিংই করছিলেন সাকিব। বিশেষ করে নাদিমের করা ১২তম ওভারের প্রথম দুই বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানরেট বাড়ান তিনি। একই ওভারে ইনিংসের তৃতীয় ছক্কা হাঁকান নাইম।

এ দুই বাঁহাতি ব্যাটারের সৌজন্যের ইনিংসের ১৪তম ওভারের প্রথম বলেই শতক পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম পঞ্চাশ রান এসেছিলো ৮.২ ওভারে। সেখান থেকে পরের পঞ্চাশ করতে সাকিব-নাইম খেলেন মাত্র ৪.৫ ওভার। যা বাংলাদেশকে গড়ে দেয় লড়াকু সংগ্রহের ভিত।

তবে সেই ওভারের তৃতীয় বলেই ভাঙে ৮০ রানের জুটি। পয়েন্টের দিকে ঠেলে দিয়েই দ্রুত রানের জন্য ছুটেছিলেন সাকিব। কিন্তু অপরপ্রান্তে পৌঁছানোর আগেই আকিবের থ্রো'য়ে ভেঙে যায় স্ট্যাম্প, সমাপ্তি ঘটে সাকিবের ৪২ রানের ইনিংসের।

এসএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]