বিশ্বকাপে আরব আমিরাতের উইকেটগুলো কেমন হবে?

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩২ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২১

এই তো, মাত্র কয়েকদিন আগে- ১৫ অক্টোবর শেষ হলো আইপিএলের সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্ব। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর- ২৬ দিন ধরে দুবাই, শারজাহ এবং আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হলো ৩১টি ম্যাচ।

আইপিএলের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যেখানে বাছাইপর্ব ওমান ও আরব আমিরাত দুই দেশ মিলিয়ে হলেও সুপার টুয়েলভ, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সব ম্যাচ হবে আরব আমিরাতে। কেমন হতে পারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরব আমিরাতের তিনটি ভেন্যুর উইকেটগুলো? চলুন, তাহলে দেখে নেয়া যাক।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

শারজাহ এখন আর আগের মতো ব্যাটিং-সহায়ক ভেন্যু নেই। ২০২০ আইপিএলে যেখানে প্রতি ১২ বলে ১টি করে ছক্কা হয়েছে, সেখানে ২০২১ আইপিএলে ব্যাটাররা প্রতি ২৩ বলে ১টি করে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। অর্থাৎ গত আইপিএলের প্রায় দ্বিগুণ বল লেগেছে একটি ছক্কা হাঁকাতে।

এবারের আইপিএলে শারজাহয় হওয়া ১০ ম্যাচে ব্যাটাররা হাঁকিয়েছেন মাত্র ৯৮টি ছক্কা। এই ধীরগতির উইকেটে বৈচিত্র্যময় বোলাররা বেশি সফল হয়েছেন। স্পিনার, পেসার- উভয় বোলারদের ইকোনমিতে তেমন একটা পার্থক্য নেই (পেসার: ৬.৯২, স্পিনার: ৬.৭৯)। তবে স্পিনারদের চেয়ে পেসারদের উইকেট নিতে কম বল খরচ করতে হয়েছে। পেসারদের স্ট্রাইক রেট হচ্ছে ১৭ আর স্পিনারদের ২২।

নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড প্রতিটা দলই সুপার টুয়েলভে দুটো করে ম্যাচ খেলবে। যদি উইকেট আইপিএলের মতো আচরণ করে, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তান এই ভেন্যুর ভালো সুবিধা নিতে পারবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান দুটো দলই তিনজন করে স্পিনার খেলাতে পারে আর তাদের যে ব্যাটিং লাইনআপ, তাহলে তারা ১৮০-২০০ এর ঘরে স্কোর করতে না পারলেও সহজে স্কোর ১৪০-১৬০ পার করতে পারবে।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম

গত দুই বছরে দুবাইয়ের উইকেটগুলোর তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। কিছু ধীরগতির উইকেটে পেসাররা সহায়তা পেয়েছেন। গত দুই আইপিএলে গড় স্কোর ১৪০-১৬০।

পেসাররা একটি উইকেট নিতে খরচ করেছেন ২৭ রান, সেখানে স্পিনারদের গড় ৩২। দলগুলো দুবাইয়ে খুব সম্ভবত তিনজন করে পেসার খেলানোর চেষ্টা করবেন, যেখানে একজন হয়তো থাকবেন খুব গতি সম্পন্ন পেসার।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে এখানে অন সাইডের স্কোয়ার বাউন্ডারি আকারে ছোট। এ ক্ষেত্রে ব্যাটার ও বোলারদের মধ্যে ভালো লড়াই হবে।

তাই ব্যাটিংয়ে ডানহাতি বাঁ-হাতি সমন্বয়ের কৌশলেই এগোতে চাইবে, যেখানে ভারত দুবাইতে চারটি ম্যাচ খেলবে। আর তাদের খেলোয়াড়েরা লাভবান হবেন যেহেতু আইপিএলে তারা খেলেছেন। উইকেট ব্যাটিং সহায়ক, পেস-বোলিং সহায়ক যেমনই হোক না কেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য ভারতের কাছে অনেক বিকল্প আছে।

শেখ জায়েদ স্টেডিয়াম, আবুধাবি

এবারের বিশ্বকাপে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামেই দর্শকদের হাই-স্কোরিং ম্যাচ দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শেখ জায়েদের উইকেট ব্যাটিং উপযোগী। আবার এখানকার বাউন্ডারি তিন ভেন্যুর মধ্যে সবচেয়ে বড়। যে কারণে বোলাররাও সুবিধা পাবেন। এখানে স্পিনারদের গড় ৩৩ আর পেসারদের গড় ২৯।

শিশির থাকার কারণে এখানে হওয়া বিকাল আর সন্ধ্যার ম্যাচে একটু তারতম্য দেখা যাবে। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখানে দুটো করে ম্যাচ খেলবে। আর আফগানিস্তান খেলবে তিনটি ম্যাচ, যার দুটোই হবে বিকালে।

২০২০ ও ২০২১ আইপিএলে পেসার/স্পিনার

ভেন্যু

উইকেট

গড়

ইকোনমি

দুবাই

২৮৫/১৩০

২৭.১২/৩১.২৯

৮.৩৪/ ৭.৩২ 

আবুধাবি

২০৯/৯৬

২৯.০৭/৩৩.১৯

৮.৪৪/৭.৩১

শারজাহ

১৭৩/৭২

২৫.০১/৩২.২৩

৮.০৪/৭.৬৬  

টস জিতে ফিল্ডিং, তাহলেই ম্যাচ জয়!

বিশ্বকাপ হচ্ছে অক্টোবর আর নভেম্বর মাসে আরব আমিরাতে আবহাওয়া ঠাণ্ডা হতে শুরু করে। ২০২০ আইপিএল হয়েছে সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে যেখান থেকে ভালো একটি পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।

বিকালের আবহাওয়া একটু গরম থাকে আর শিশির কম থাকে। ফলে বিকালের ম্যাচগুলোতে আগে ব্যাট করা দল জিতেছে ৭৭ শতাংশ ম্যাচ।

অন্যদিকে, রাতের ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যান পুরোপুরি ভিন্ন। রাতে রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছে ৭৭ শতাংশ। আর আবুধাবি ও শারজাহতে মোট ১৮টি ম্যাচের ১৫টিতেই জিতেছে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা দল। এই দুই মাঠের পরিসংখ্যান দেখে নিশ্চয়ই অধিনায়করা টস জিতে ফিল্ডিং নিতে চাইবেন।

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]