পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই হেরেছিল বাংলাদেশ

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:১৭ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১

টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর বাইরে একদিনের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের আরও কিছু প্রতিপক্ষ আছে, যাদের সঙ্গে মাঝে-মধ্যেই খেলা হয় বা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে যারা পরিচিত টিম বাংলাদেশের ভক্ত ও সমর্থকরা সেই দলগুলোর নাম জানেন। যেমন কেনিয়া, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, আরব আমিরাত, ওমান আর হংকং।

এই দলগুলোর বিপক্ষে কখনও না কখনও কোনো সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপে দেখা হয়েছে বাংলাদেশের। বলার অপেক্ষা রাখে না, কেনিয়া বিশ্বকাপ খেলেছে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার রেকর্ড আছে। কেনিয়ার সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজও খেলেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের প্রথম ওয়ানডে জয়টিও কেনিয়ার বিপক্ষে।

স্কটল্যান্ড তো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পুরোনো প্রতিপক্ষ। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে স্কটিশদের হারিয়েই বৈশ্বিক আসরে প্রথম জয়ের মুখ দেখেছিল টাইগাররা। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসও চেনা প্রতিপক্ষ। হংকং-ওমানের সঙ্গে ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলেছে বাংলাদেশ। হংকং-ওমানও সেই অর্থে চেনা এবং পুরোনো প্রতিপক্ষ।

কিন্তু পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে আগে কখনও কোনো ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দেখা হয়নি বাংলাদেশের। পিএনজির বিপক্ষে কোনো বিশ্ব আসরেও মুখোমুখি হয়নি টাইগাররা। অর্থাৎ আজ (২১ অক্টোবর) ওমানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনি।

তবে পাপুয়া নিউগিনি কিন্তু বাংলাদেশের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। আইসিসি ট্রফি আর এসিসি ট্রফিতে এই দলটির সঙ্গে এর আগেও দেখা হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথমবার ১৯৮২ সালে আইসিসি ট্রফিতে। আর দ্বিতীয়বার ১৯৯৬ সালের এসিসি ট্রফির সেমিফাইনালে।

এর মধ্যে ৮২‘র আইসিসি ট্রফিতে পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে বাংলাদেশের সাক্ষাৎ হয়েছিল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। পরে ৯৬’তে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পিএনজির বিপক্ষে এসিসি ট্রফির সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ।

আইসিসি ট্রফির তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির কাছে ৩ উইকেটে হেরে চতুর্থ হয়েছিল বাংলাদেশ। তখনকার ৬০ ওভারের সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইউসুফ রহমান বাবু। বলার অপেক্ষা রাখে না, আইসিসি ট্রফিতে সেটাই ছিল বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের প্রথম শতরান।

এরপর আরও দুজন উইলোবাজ আইসিসি ট্রফিতে সেঞ্চুরি করেছেন। একজন নুরুল আবেদিন নোবেল আর অন্যজন জাহাঙ্গীর আলম। নোবেলের শতরানটি ৯০’র আইসিসি ট্রফিতে, প্রতিপক্ষ কানাডা। আর ৯৪’র আইসিসি ট্রফিতে জাহাঙ্গীর শতরান করেন আরব আমিরাতের বিপক্ষে।

৮২’র আইসিসি ট্রফির স্থান নির্ধারণী ম্যাচে প্রথম উইকেটে তখনকার ওপেনার ইউসুফ বাবু (১১৫) ও নাজিম সিরাজী (৫২) (দুজনই বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী) প্রথম উইকেটে ১৭০ রানের বিরাট জুটি গড়লেও পরের ব্যাটসম্যানদের চরম ব্যর্থতায় ২২৪ রানে অলআউট হয়ে ৩ উইকেটে হার মানে বাংলাদেশ।

তবে ১৯৯৬ সালে এসিসি ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাপুয়া নিউগিনি। দুই স্পিনার মোহাম্মদ রফিক (৩/১০) ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল ( ৩/৩১) এবং মিডিয়াম পেসার খালেদ মাহমুদ সুজনের (২/২১) সাঁড়াশি বোলিং আক্রমণের মুখে মাত্র ১৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় পিএনজি। জবাবে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভার আগেই ৭ উইকেটের অনায়াস জয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

আইসিসি কিংবা এসিসি ট্রফির স্বীকৃত ওয়ানডে ম্যাচের বাইরে আজই প্রথম টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-পাপুয়া নিউগিনির। বিশ্বকাপেও প্রথম। দেখা যাক, ২৫ বছর আগে এসিসি ট্রফিতে পিএনজিকে উড়িয়ে দেয়া টাইগাররা আজ ওমানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিতের লড়াইয়ে কী করেন!

এআরবি/এসএএস/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]