‘চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় পিএনজির কাছে হেরেছিলাম আমরা’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:০১ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১

সেই ১৯৮২ সালের কথা। পার হয়ে গেছে ৩৯ বছর। তিন যুগের বেশি সময় আগে ইংল্যান্ডে হওয়া দ্বিতীয় আইসিসি ট্রফির তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ।

জানেন কি বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুও ছিলেন ওই দলে? তিনি তখন ছিলেন দলের অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য। নাজিম সিরাজী ছাড়া ঐ একাদশের বাকি সবাই ছিলেন গাজী আশরাফ লিপুর বয়সে বড়।

অনেক দিন আগের স্মৃতি মনে করা মোটেও সহজ কাজ না। তারপরও পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে ওই ম্যাচের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেক অজানা তথ্যই দিলেন লিপু। তবে তার কন্ঠে ঝরলো আফসোস ও অনুশোচনার সুর, ‘আসলে আমরা সেদিন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছি। এখনও পরিষ্কার মনে আছে বাবু ভাই (ইউসুফ রহমান বাবু) কী দারুণ ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। নাজিম সিরাজীর ব্যাট থেকেও এসেছিল হাফসেঞ্চুরি। আমরা ওপেনিং জুটিতে মনে হয় পৌনে দুশ’র মতো (১৭০ রান) রান পেয়ে যাই।’

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু আরও বলছিলেন, ‘আমরা সেই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে স্কোরবোর্ডটা মোটাতাজা করতে পারিনি। শুধু খারাপ ব্যাটিংই করিনি, বেশ কয়জন রানআউটও হয়েছিলেন (রফিকুল আলম, ওমর খালেদ রুমি, দিপু রায় চৌধুরী ও আনোয়ারুল আমিন আজহার)। যে কারণে আমরা মনে হয় সোয়া দুশ’র আশপাশে (২২৪) থেমে যাই। পিএনজি সে রান টপকে যায়। ’

আইসিসি ট্রফির ওই ম্যাচের মূল্যায়ন করতে গিয়ে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু স্বীকার করেন, তখনকার টিম বাংলাদেশ এখনকার মত পেশাদার ব্যবস্থাপনা ছিল না। বিষয়টা অকপটে স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলতে লাগলেন, ‘আইসিসি ট্রফির সেমিফাইনালে পরাজিত দল হলেও তৃতীয় হয়ে দেশে ফেরার মাঝেও যে একটা অন্যরকম তৃপ্তি প্রাপ্তি থাকতে পারে, তখনকার দলের মধ্যে তেমন চিন্তাই ছিল না।’

কেন সেটা, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে লিপু বলেন, ‘আমরা ঘর-বাড়ি, বাবা-মা ও আপনজন তথা পরিবার ফেলে ৫ সপ্তাহ ছিলাম ইংল্যান্ডে। সেমিতে হারের পর বাড়ি ফেরার চিন্তা আর তাড়াই যেন বেশি ছিল। পাপুয়া নিউগিনিকে হারাতে পারলে যে আমরা থার্ড হবো, সেটাও যে একটা গৌরবের বিষয়, ঐ চিন্তাই তখন ছিল না। ম্যাচ শেষ করে কিভাবে বাড়ি ফিরবো, সেটাই ছিল মূল ভাবনা।

তিনি যোগ করেন, ‘পিএনজিকে হারানোর তাগিদও অনুভব করেছি কম। দলের সম্ভাব্য সেরা পারফরমারদের বাইরে রেখে, যারা আগে সুযোগ পাননি তাদের দিয়ে দল সাজানোর চিন্তা ছিল। এখনো মনে আছে তাই সাদ (তানজিব আহসান) ভাইকে খেলানো হয়েছিল।’

ঐ আসরে বাংলাদেশ একজন লেগস্পিনারের অনুভব করেছিল খুব। তা জানিয়ে লিপু বলেন, ‘আমাদের দেশে তখন ওয়াহিদুল গনি ছিলেন বেশ ভাল লেগস্পিনার। আমি এখনও মনে করি সেবার ওয়াহিদুল গনি থাকলে আমরা আরও সাফল্য পেতাম। কারণ আইসিসি ট্রফিতে অংশ নেয়া দলগুলোর প্রায় সবাই লেগস্পিনে ছিল বড় ধরনের ঘাটতি ও দূর্বলতা। আমরা তা চিন্তায়ই আনিনি। তাই ওয়াহিদের মত ভালো মানের লেগি থাকতেও তাকে দলে নেয়া হয়নি। সে মূল দলেই জায়গা পায়নি। আমার বিশ্বাস ওয়াহিদ থাকলে আমরা ঐ রান নিয়েও পিএনজিকে হারাতে পারতাম।’ 

এআরবি/এসএএস/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]