পিএনজিকে হারানোর কোনো কথাই মনে নেই সুজনের

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৩৮ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১

৮২’তে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে আইসিসি ট্রফির তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য। কাকতালীয়ভাবে ১৪ বছর পর যখন বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার পিএনজির মুখোমুখি হয়, সেবারও দলের সঙ্গী ছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।

ইতিহাস জানাচ্ছে, ১৯৯৬ সালে এসিসি ট্রফিতে টিম বাংলাদেশের কোনো কোচ ছিলেন না। গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ছিলেন ক্রিকেট ম্যানেজার। তিনিই আসল দ্রোনাচার্য হিসেবে নৈপথ্য কারিগরের ভূমিকায় ছিলেন।

জাগো নিউজের সঙ্গে ৯৬’র এসিসি ট্রফির পাপুয়া নিউগিনির ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে বলা হলে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু জানান, ‘আমার মনে আছে সেমিফাইনালের আগে আমাদের স্ট্রাইক বোলার হাসিবুল হোসেন শান্ত ব্যথা পায়। আমরা একজন বোলার বিশেষ করে পেসার সংকটে পড়ে গেলাম। তখন ম্যানেজার ছিলেন তামিম ভাই (সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার জিএস হাসান তামিম)। আমরা কথা বলে ঠিক করলাম একজন পেসার দরকার। ঢাকায় ফোনে খবর দেয়া হলো। আমরা আর নির্বাচকরা কথা বলে ঠিক করলাম সুজনকে (খালেদ মাহমুদ) চাই, তাকে ঢাকা থেকে পাঠানো হলো।’

যেই কথা সেই কাজ। খালেদ মাহমুদ সুজন ঠিক পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে যোগ দিলেন দলের সঙ্গে। বিশ্রাম ছাড়া মাঠে নেমে দুই স্পিনার মোহাম্মদ রফিক (৩/১০) ও আমিনুল ইসলাম বুলবুলের (৩/৩১) সঙ্গে নতুন বলে সুজন (২/২১) বোলিংটাও করলেন দারুণ।

মূলত এই তিনজনের সাঁড়াশি বোলিং তোপে পড়ে পিএনজি মাত্র ১৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। পিএনজির বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের দিনে বল হাতে ৩ উইকেট শিকারি আমিনুল ইসলাম বুলবুল পরে দুর্দান্ত ব্যাটিংও করেছিলেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রানের হার না মানা ইনিংস।

বল হাতে ৩১ রানে ৩ উইকেট শিকারের পাশাপাশি সেই ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরষ্কার পান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেদিন এখনকার নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও খেলেন ৫৪ বলে ৪৫ রানের চমৎকার ইনিংস। সেই সুবাদে ২০ ওভার আগেই ৭ উইকেটের অনায়াস জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

সেমিফাইনালের আগের দিন মালয়েশিয়া উড়ে গিয়ে সেমিতে পিএনজির বিপক্ষে বল হাতে পিএনজির টপঅর্ডারে ভাঙন ধরিয়েছিলেন সুজন। ওপেনার জেমস মাহা আর টুকু রাহা সুজনের বলে খুব দ্রুত ফিরে যান সাজঘরে।

জাগো নিউজের সঙ্গে আজ সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণকালে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আমার কিছুই মনে নেই। শুধু এইটুকু বলতে পারি আমি মূল দলে সুযোগ না পেয়ে খুব শকড ছিলাম। কারণ ঢাকা লিগে আমার ফর্ম তখন বেশ ভালো ছিল। আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব ভালো পারফরম করেছিলাম। তারপরও এসিসি ট্রফির মুল স্কোয়াডে চান্স না পেয়ে এতটাই হতাশ হয়েছিলাম যে, আমার পরিবার ও কজন বন্ধুকে নিয়ে দুঃখ ভুলতে ঘুরতে গিয়েছিলাম কক্সবাজার। পরে ঢাকা থেকে সাদ ভাই (তানজিব আহসান) ফোনে বললেন, আমাকে কুয়ালালমপুর যেতে হবে।’

কীভাবে ডাক পেলেন সেটা মনে আছে? সুজনের জবাব, ‘হ্যাঁ, মনে আছে। শান্ত (হাসিবুল হোসেন) ব্যথা পেয়েছিল। তাই আমাকে ডেকে পাঠানো হয়। আমি গিয়ে নতুন বলে বল করেছিলাম। কিন্তু কী করেছিলাম, তা মনে নেই।’

সুজনের নিজের মনে না থাকলেও ইতিহাস স্বাক্ষী দিচ্ছে পিএনজিকে হারানোর পর সেবারের এসিসি ট্রফির ফাইনালে আরব আমিরাতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। আর ওই ফাইনালে আরব আমিরাতের তিন টপঅর্ডার সেলিম রাজা, আজহার সাইদ এবং কায়েস ফারুককে আউট করে সেরা পারফরমার হন সুজন।

এআরবি/এসএএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]