নামিবিয়ার ঐতিহাসিক সাফল্যের রূপকার এক দক্ষিণ আফ্রিকান

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২১

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সাসেক্সের সঙ্গে কলপ্যাক চুক্তিতে জড়ানোয় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যারিয়ারটাই শেষ হয়ে যায় ডেভিড ওয়াইজের। তাতে যেন ‘শাপে বর’ হয়েছে নামিবিয়া ক্রিকেট দলের।

এ বছরের আগস্টে নামিবিয়ার হেড কোচ পিয়েরে ডি ব্রুইন ঘোষণা দেন, ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের দলের হয়ে খেলবেন ওয়াইজ। সেই ঘোষণামতোই বিশ্বকাপে দলে সাবেক এই প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে হয়ে গেলেন ইতিহাসের অংশও।

এবারই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে নামিবিয়া। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নেমে ‘চোখে সর্ষেফুল দেখে’ নামিবিয়া। দলের মতো ‘বিবর্ণ’ ছিল ওয়াইজের পারফরম্যান্সও। করেছিলেন ৭ বলে মাত্র ৬ রান। বোলিংয়ে দুই ওভারে ১১ রান দিলেও ছিলেন উইকেটশূন্য।

কিন্তু ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে’ বলে তো বাংলায় একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে! ওয়াইজ যেন সেই প্রবাদটারই বাস্তবরূপ দেওয়া শুরু করলেন দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে।

একই মাঠ আবুধাবিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ‘বাঁচা-মরার ম্যাচে’ চার ওভার বোলিং করে ৩২ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ১টি উইকেট। তবে আসল ‘ক্যারিশমা’ যেন জমিয়ে রেখেছিলেন ব্যাটিংয়ের জন্যই।

নেদারল্যান্ডসের দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা নামিবিয়া ৫২ রানেই হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক গারহার্ড এরাসমাসের সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করেছিলেন ওয়াইজ। নিজে ৪০ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে এনে দেন ৬ উইকেটের এক মহামূল্যবান জয়।

আজ (শুক্রবার) শারজায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করার ম্যাচেও ওয়াইজ ছিলেন দুর্দান্ত।

চার ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট তো নিয়েছেনই, শেষ ওভারে নিজের বোলিংয়ে নিজেই করেছেন দুর্দান্ত এক রানআউট।

এরপর বাকি ছিল ব্যাটিং। সেখানেও তুলির শেষ আঁচড় দিয়েছেন ওয়াইজই। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ক্রেগ ইয়ংকে টানা দুটি ছক্কা মেরে নামিবিয়াকে জয়ের বন্দরে অনেকখানি এগিয়ে নেন এই অলরাউন্ডার।

১৪ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় খেলেন ২৮ রানের এক অপরাজিত ইনিংস, যেখানে ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ডিপ এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে দলকে সুপার টুয়েলভে নেওয়ার আনন্দে ভাসান সাবেক এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ২০ টি-টোয়েন্টিতে ১৩.১৪ গড়ে করেছিলেন মাত্র ৯২ রান, বোলিংয়ে ৭.৬০ ইকোনমিতে নিয়েছিলেন ২৪ উইকেট।

কিন্তু ‘সৃষ্টিকর্তা যা করেন ভালোর জন্যই করেন’- ওয়াইজ হয়তো এখন এটাই ভাবছেন। তার হাত ধরেই যেন নামিবিয়ার ইতিহাস লেখা নির্ধারিত ছিল, সেটিই হলো!

এমএমআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]