আমাদের ক্রিকেটারদের সম্মান করুন

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১

প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার পর বাংলাদেশে এক তুমুল ঝড় উঠেছিল। কিভাবে বাংলাদেশ স্কটল্যান্ডের মতো দলের কাছে হেরে যায়? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যেন এই এক ইস্যু নিয়েই মেতে উঠেছিলো নেটিজেনরা।

দলের এমন কঠিন সময়ে মিডিয়া, দর্শক, সমর্থক কেউ ছিলো না ক্রিকেটারদের পাশে। এমন মন্তব্য যখন দলনেতা মাহমুদুল্লা রিয়াদ করেন, তখন আসলে আমাদের লজ্জা পাওয়া উচিত। ফেসবুকে মানুষ যা করেছে, তা সত্যিই নিন্দনীয়। কেউ কেউ মুশফিক-রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে নিয়েও কথা তুলেছে। আবার কেউ বলেছে বাংলাদেশ শুধু মিরপুরেই পারে, আর কোথাও পারে না। অন্যদিকে লিটন-সৌম্যকে নিয়ে যা ইচ্ছে তা তো চলছেই।

এমন ট্রল (বিদ্রুপ) করা শুরু হয়েছে মিথুন, শান্তকে দিয়েও। এর আগে ইমরুল কায়েসকে নিয়ে এই ট্রল ছিলো। এখন অবশ্য মিথুন আর শান্তকে নিয়েই বেশি দেখা যায়। বেশ কিছু পেইজ থেকে এসব ট্রল করা হয়ে থাকে। যেখানে আমরাই কমেন্ট করি, শেয়ার করি।

এভাবে যেন ক্রিকেটারদের প্রতি এক ধরনের লজ্জা ছুড়ে দিতে চেষ্টা করি আমরা। অথচা আমরা জানিই না, কাদের নিয়ে করছি এসব? একজন খেলোয়াড় যদি খারাপ খেলে তার চেয়ে কষ্ট বেশি কেউ পায় না। আজ যারা খেলোয়াড়দের নিয়ে এভাবে ট্রল করে তাদের চ্যালেঞ্জ দিলাম, প্রতি ম্যাচে তোমরা মাঠে গিয়ে রান করে আসো। আসলে বিষয়টা যতটা সহজ মনে করা হয়, ততটা সহজ নয়।

আজ বাংলাদেশের ক্রিকেটের এমন অবস্থার পেছনে আমি মনে করি আমাদের দায়টাই বেশি। আমরা ভালো করলে লাফাই আর খারাপ করলে ক্রিকেটারদের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে ফেলি।

কিন্তু এমনটা আসলে উচিৎ নয়। গঠনমূলক সমালোচনা জয়ের পরও করা যায়। আবার হারার পরও প্রাপ্তি থাকে অনেক সময়। সুতরাং খেলোয়ড়দের মনোবল ঠিক থাকলে তারা তাদের সেরাটা দিতে পারলে বাংলাদেশ সবসময় ভালো কিছু করে।

কিন্তু আমরাই একটু উনিশ-বিশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলে ফেলি। ট্রল করে একজন খেলোয়ড়কে যেন আরও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলি আমরা।

কিন্তু এভাবে দেশের ক্রিকেটেকে ভালোবাসা যায় না। দেশের ক্রিকেটেকে যারা ভালোবাসে তারা কখনও দেশের কিকেটারদের অসম্মান করতে পারে না। মনে রাখবেন, যারা মাঠে খেলছে তারা আমাদেরই ভাই, বাবা, বন্ধু। তাদের অসম্মান করা মানে নিজের দেশকে অসম্মান করা।

আমার দেশকে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে, যাদের অবদানে দেশ জয়লাভ করছে দিনশেষে একটি খেলা নিয়ে, একটি হার নিয়ে আমরা তাদের হৃদয়ে দিচ্ছি প্রচন্ড আঘাত। যেদিন যে খেলোয়াড় খারাপ করবে তাকে নিয়েই শুরু হয়ে যাবে ট্রল।

আজকাল আমাদের কিকেট নিয়ে ট্রল করার জন্য ফেসবুকে বেশ কিছু পেইজ এবং গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। আমার ভাবতে অবাক লাগে, সে সব পেইজের মেম্বার দেখে। এতো এতো মানুষ আমাদের খোলোযাড়দের নিয়ে নোংরা মন্তব্য করে!!

তারাই আবার বাংলাদেশ ভালো করলে নিজ ওয়ালে পোস্ট দেয় “আমার বাংলাদেশ” লিখে। এসব সুবিধাবাজদের জন্যই আজ আমাদের দেশের এ অবস্থা। দেশের ক্রিকেটের কঠিন সময়ে যারা পাশে থাকতে পারবে না তারা কখনওই প্রকৃত দেশপ্রেমিক নয়।

আসলে এসব দেখতে খুবই কষ্ট হয় আমাদের। আসুন দেশকে ভালোবাসি, দেশের খেলোযাড়দের ভালোবাসি। তাদের সম্মান করতে শিখি। অন্তত সম্মান যদি দিতে না পারেন, অসম্মান করবেন না। আপনার সমালোচনা করতে হলে সেটা গঠনমূলকভাবে সুন্দর ভাষায় করুন। হারলেও বাংরাদেশ জিতলেও বাংলাদেশ, এই স্লোগান নিয়ে দেশকে সমর্থন দিয়ে যান। আশা রাখছি সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ আরেকবার জ্বলে উঠবে।

আজহার মাহমুদ
শিক্ষার্থী, অনার্স তৃতীয় বর্ষ, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,
ওমরগণী এমইএস কলেজ, চট্টগ্রাম।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]