দিনগুলো হয়তো খারাপ যাচ্ছে, বছরগুলো তো ভালো ছিল!

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১

মেধাবী পরিশ্রমী, কখনো নেতৃত্বে দিকনির্দেশক, কখনও বিজয়মালা মুশফিকুর রহীম। একজন উইকেটরক্ষক এবং মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। হাস্যোজ্জ্বল ক্রিকেটারটি স্ট্যাম্পের পেছনে বকবক করার জন্য পরিচিতি পেয়েছেন বেশ।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। বাংলাদেশ দলের জয়ের নায়ক হয়েছেন বহুবার, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরে যেন কোনোভাবেই সেরাটা দিতে পারছেন না বাংলাদেশ দলকে, এ কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মুশফিক।

গত ১৫ বছর ধরে টি-টোয়েন্টি খেলছেন, ২১ অক্টোবর পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ৯৪টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন, গড় ১৯.৭৮। ৯৪ ম্যাচে ৫টি হাফ সেঞ্চুরিতে ১৩৭০ রান করেছেন তিনি।

পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ৮ বলে ৫ রান করে আউট হয় মুশফিক। বিশ্বকাপে আগের দুই ম্যাচে ৪৪ রান করেছিলেন। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৬ বলে ৩৮ রান করেছেন।

মুশফিকের এই ফর্ম নিয়ে যেমন তিনি নিজে চিন্তিত ঠিক তেমনি চিন্তিত বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমি কোটি ভক্ত। কখনো আবার মুশফিক ভক্তদের হতাশা ছেড়ে আশার বাণী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন মানুষের খারাপ সময় যায়, সেই অর্থে মুশফিকেরও যাচ্ছে। এখন দিনগুলো না হয় খারাপ যাচ্ছে একসময় জয়ের নায়ক ছিলেন তিনিও, সেই বছরগুলো তো ভালো ছিল।

মুশফিককে ৮ নম্বরে রেখে পুরো ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন করেছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট, এমন সিদ্ধান্ত দেখে হতাশ ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালও। তিনি বলেন, ‘আমার চোখে মুশফিক এমন একজন ব্যাটার যে থিতু হতে ৬-৭ বল খেলবে। ওই ৬-৭ বল সে সিঙ্গেল খেলে। কিন্তু সে যখন থিতু হয় বাংলাদেশে আমি আর কোনো ব্যাটার দেখি না যে তার চেয়ে ভালো স্লগ করতে পারে। এটা আমি মনে করি। তাকে ৮ নম্বরে দেখাটা হতাশাজনক’।

বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ জেমি সিডন্সের ভাষ্যমতে, ব্যাটিং এতটা বহুমাত্রিক যে তিনি এক থেকে ছয় পর্যন্ত যে কোন অর্ডারে খেলতে পারেন।

হাটু গেঁড়ে ছক্কা হাঁকানো এই খেলোয়াড় বাঘের মতোই বলে থাবা দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন বহু ব্যাটসম্যানকে, ম্যাচ জয়ের কারিগর হয়েছেন বহুবার। কখনো অভিমানীও হয়েছেন, কাউকে বুঝতে দেননি হয়ত অভিমানের ব্যথা।
অভিমানের ব্যথা আড়াল করে হাসি মুখে ক্যামেরার সামনে এসেছেন, অভিমান নিয়ে মাঠেও খেলেছেন হয়ত মুশফিক। একজন সিনিয়র উইকেটরক্ষক হিসেবে জুনিয়রকে সাহস ও আত্মবিশ্বাস দেওয়ায় জায়গাটিতেও তিনিই সেরা, নুরুল হাসান সোহানকে বিশ্বকাপে দিয়েছেন নিজের জায়গাটি।

সাংবাদিকদের কাছে এক সাক্ষাৎকারে মুশফিক বলেন, ‘ফিল্ডিংয়ে যখন দু-একটা ক্যাচ মিস হবে তখন হয়ত বলবে মাঠেই চলে না।’ কথাটি অভিমানের জায়গা থেকে বলেছেন কি না সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে মুশফিক ভক্তদের মনে।

প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর রহিম আইসিসি'র প্লেয়ার অব দ্য মান্থ (মে,২০২১) খ্যাতি অর্জন করেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এশিয়া কাপে নিজেদের সেরা সাফল্যে রানার্সআপ হয়।

টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিকের অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করেছিল। নিজের সেরাটা সামাল দিতে গিয়ে কখনোই অন্য ক্রিকেটারের মতো বেসামাল হয়নি, বুকে আগলে রেখে নিরাপত্তা দিয়েছেন ভক্তদেরও।

মোশারফ হোসাইন
ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]