আরও আগে কি সাকিবকে বোলিংয়ে আনা যেত না?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:১৪ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১

পাওয়ার প্লে‘তে আসালাংকার উইলোর দৃঢ়তায় এগিয়ে থাকলো লংকানরা। বাংলাদেশের এক উইকেটে ৪২ রানের জবাবে প্রথম ৬ ওভারে লংকানদের রান উঠলো ১ উইকেটে ৫৮।

তাতেও সমস্যা ছিল না। একপ্রান্তে আসালাংকা চালিয়ে খেললেও ইনিংসের মাঝামাঝি সময় ঠিকই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন হাতে চলে এসেছিল বাংলাদেশের। ৯.৪ ওভারে ৭৯ রানে ৪ উইকেট খোয়া গেল শ্রীলংকার। মানে ৬২ বলে দরকার পড়লো ৯৩ রানের। ওভার পিছু লক্ষ্যমাত্রা গিয়ে পড়লো ৯-এর বেশি।

সেই কাজটা শেষ পর্যন্ত বেশ সাফল্যর সঙ্গেই করে দেখালো দাসুন সানাকার দল। সেই যে দশম ওভারে সাইফউদ্দিনের বলে হাসারাঙ্গা আউট হলেন, এরপর শ্রীলঙ্কার পঞ্চম উইকেট গিয়ে পড়লো ১৬৫ রান। মানে জয়ের বাকি তখন আর ৭ রান। বল ছিল ১০টি। ওই রান ক’টা করতে আর মাত্র ৩ বল লাগলো । আসালাংকা একাই টাইগারদের হারিয়ে বিজয়ীর বেশে ফিরলেন সাজঘরে।

টানা ব্যাটিং ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে ভাল ব্যাটিং করার ম্যাচে জয়ের আশায় বুকে বেঁধেছিল বাংলাদেশ। নাইম শেখ আর মুশফিকুর রহিম ১৭১ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে জ্বেলেছিলেন সে আশার প্রদীপ। কিন্তু তা নিভে গেছে। আর শেষ হাসি হাসা হলো না রিয়াদ বাহিনীর। ৫ উইকেটের পরাজয় সঙ্গী হয়ে থাকলো।

সে সঙ্গে অনেক আশা ও স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় নীল গোটা বাংলাদেশ। অবশ্যই দুই লংকান উইলোবাজ আসালাংকা আর রাজপাকসের সাহসী ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কাছেই হারতে হলো রিয়াদ বাহিনীকে।

তবে আফসোস, দুজনই একবার করে ক্যাচ দিয়েছিলেন। আর দুবারই লিটন দাস তা ধরেও ফেলে দিয়েছেন মাটিতে। লিটনের হাত থেকে শুধু ক্যাচই বেরিয়ে গেল না। শেষ পর্যন্ত ম্যাচও গেল বেরিয়ে।

এর মধ্যে ৩১ বলে ৫৩ রান করা রাজাপাকসে জীবন দিয়েছিলেন ১৪ রানে। আফিফ হোসেন ধ্রুবর বলে নেয়া রাজা পাকশের আকাশে ওঠা স্লগ সুইপ ডিপ মিড উইকেট সীমানার ওপর দাঁড়িয়েও ধরে রাখতে পারেননি লিটন দাস।

এক ওভার পর মোস্তাফিজের বলে প্রায় একই ঢংয়ে স্লগ সুইপ আর ফ্লিকের মাঝামাঝি শট খেলেছিলেন শ্রীলংকার জয়ের নায়ক আসালাংকা। কিন্তু এবারও লিটন সে ক্যাচ ফেলে দেন। ৬৩ রানে জীবন পাওয়া আসালাঙ্কা ম্যাচ শেষ করে আসেন ৪৯ বলে ৮০ রানে। এই দুটি ক্যাচ ড্রপই আসলে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

লিটনের জোড়া ক্যাচ ফেলে দেবার পাশাপাশি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অদক্ষ দল পরিচালনা বিশেষ করে বোলার ব্যবহারে অদুরদর্শিতাও ভুগিয়েছে অনেক।

তিনি এবং অনিয়মিত অফস্পিনার আফিফ অযথা ডেথ ওভারে বোলিং করতে এসে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছেন।

প্রথম ওভারে ৫ রান দেয়া রিয়াদ ভেবেছিলেন দুই বাঁ-হাতি আসালাঙ্কা আর রাজাপাকসের বিপক্ষে তার অফস্পিন কাজে দেবে। আর আসালাংকাও অপেক্ষায় ছিলেন কখন রিয়াদ বোলিংয়ে আসবেন। ১৩ নম্বর ওভারে অকেশনাল অফস্পিনার আফিফ দুই ছক্কা হজমের পাশাপাশি ১৫ রান দেয়ার পর বাঁহাতি আসালাংকা ও রাজাপাকসের কথা ভেবেই ১৪ নম্বর ওভারে আবার বোলিংয়ে আসেন রিয়াদ। তার ওভারে দুই ছক্কা হাঁকানোসহ ১৬ রান তুলে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেন আসালাংকা।

দুজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ক্রিজে, তাই দুই বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আর নাসুমকে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। তার বদলে আফিফ আর আমিই বোলিং করি- রিয়াদের মাথায় এ চিন্তা কে ঢুকিয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়কের?

তা নিয়ে যত প্রশ্ন ভক্ত ও সমর্থকদের।সাকিবের যে মান ও তার বোলিং সামর্থ্য যেমন, তাতে করে তিনি কী আসালাংকা আর রাজাপাকসের বিপক্ষে কার্যকর হতেন না? তাকে কি ১৪-১৫ ওভারের দিকে আনা যেত না?

ম্যাচে সাকিবের পুরো ১ ওভার বাকিও থেকে গেছে। এখন এই প্রশ্ন, আক্ষেপ-অনুশোচনায় দগ্ধ পুরো দেশ। সেই ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের পর আজ একটি নতুন সম্ভাবনার সূর্য্য উঠি উঠি করছিল, নিজেদের ফিল্ডিং আর বোলিং ব্যর্থতায় তাও আর উঠলো না। শেষ অবধি মূলপর্বে জয় অধরাই থাকলো। কবে সে অধরা জয় ধরা দেবে কে জানে?

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]