কেমন হবে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্টের উইকেট?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৪৩ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১

রাত পোহালে চট্টগ্রামে পাকিস্তানের সাথে প্রথম টেস্ট বাংলাদেশের। তবে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে ভক্ত-সমর্থকদের বরাবরের সেই প্রাণ চাঞ্চল্য আর উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই এবার। তার বদলে সবার মনেই উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। সংশয়, চিন্তা, শঙ্কা। সবার মুখে একটাই কথা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চরম বিপর্যয়ের পর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের সাথে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ধবল ধোলাই হতে হয়েছে। টেস্টে না জানি কী হয়?

দলে নেই তিন থেকে চার জন সিনিয়র ক্রিকেটার। পারফরমার হিসেবে যারা সবাই সামনের সারির। তামিম ইকবাল আগে থেকেই নেই। তার সাথে প্রথম টেস্টে খেলছেন না সাকিব আল হাসান। এ বছর জুলাইতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা শেষ টেস্টে শতরান করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও অবসরে। আর শেষ মুহূর্তে হাতের তালু আর আঙ্গুলে ব্যাথা পেয়ে খেলতে পারছেন না তাসকিন আহমেদও।

মানে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের প্রায় অর্ধেক শক্তিই নেই টাইগারদের। এ ক্ষয়িষ্ণু শক্তি নিয়ে মুমিনুল হকের দল কতটা কী করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় জাগা আসলে অস্বাভাবিক নয়।

বাংলাদেশের শক্তি ও সামর্থ্যের প্রসঙ্গ উঠতেই খুব প্রাসঙ্গিকভাবে চলে আসছে উইকেটের কথা। কারণ দেশের মাটিতে টিম বাংলাদেশের পারফরমেন্সের মূল মানদন্ড বা নিয়ামকই হচ্ছে উইকেট। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ভাল খেলা-খারাপ খেলা নির্ভর করে উইকেটের ওপর। নিজেদের অনুকুল উইকেট হলে মাঠে বাঘই মনে হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। আর উইকেট প্রতিকুল হলেই কেমন যেন চুপসে যায় তাদের পারফরমেন্স।

তাই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়েও সবার রাজ্যের কৌতুহল, ‘কেমন হবে পিচ? আগের মতই ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি? বল ব্যাটে আসবে ব্যাটসম্যানরা স্বচ্ছন্দে-সাবলীল ব্যাটিং করতে পারবেন? নাকি শুরু থেকেই বল ঘুরতে থাকবে। মানে টার্নিং ট্র্যাক হবে?’

এ প্রশ্নর সত্যিকার উত্তর যিনি সবচেয়ে ভাল দিতে পারেন, সেই কিওরেটর জাহিদ রেজা বাবুর মুখ বন্ধ। টেস্ট শুরুর আগে আইসিসির কড়া নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞায় থাকেন কিওরেটররা। উইকেটের আচরণ সম্পর্কে মিডিয়া তো বহুদুরে, দু’দলের কোচ, ক্যাপ্টেন-ম্যানেজার এবং খেলোয়াড় কারো সাথেই কথা বলা নিষেধ তার।

তাই জাগো নিউজের সাথে আলাপে উইকেট নিয়ে একটি কথাও বলেননি জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের কিওরেটর জাহিদ রেজা বাবু। শুধু বলেছেন, সাগরিকার উইকেট বরাবরই এক রকম। আগে যেমন দেখেছেন, তেমনি। কোন নতুনত্ব, অভিনবত্ব নেই।

এটুকুতেই আছে বড় বার্তা। তার মানে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পিচের মৌলিক চরিত্রে কোন রদবদল বা হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। উইকেট আগের মতই- মানে ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি।

একটি ছোট্র পরিসংখ্যানই বলে দেয় দেশের সব কটা টেস্ট ভেন্যুর মধ্যে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট সব সময় ব্যাটিং বান্ধব। এ মাঠে টেস্টে প্রথম ইনিংসের গড়-পড়তা স্কোর হলো ৩৭২। দ্বিতীয় ইনিংসের গড় স্কোর ৩৪২। তৃতীয় ইনিংসের গড় স্কোর ২৩৪। আর চতুর্থ ইনিংসের গড় স্কোর ২১৫।

তার মানে প্রতি ইনিংসের গড় রান ২৯০.৭৫। এটা খুব আহামরি বা বিস্ময়কর রকমের ব্যাটিং স্বর্গের প্রতীক না হলেও মন্দ না। ইতিহাস জানাচ্ছে, এই মাঠে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে যে টেস্ট ম্যাচ হয়েছিল, সেখানেও উইকেট ছিল ব্যাটসম্যানদের অনুকুলে।

যে ম্যাচে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪৩০ এবং ২৩৩/৮ ডিক্লেয়ার। আর প্রথম ইনিংসে ২৫৯ রানে থামা ক্যারিবীয়রা ৩৯৫ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করে জিতেছিল ৩ উইকেটে।

চতুর্থ ইনিংসে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ৩৯৫ রান করে জিতেছে, এটা ক্যারিবীয়দের কৃতিত্ব। আর বাংলাদেশের বোলারদের ব্যর্থতা। তারা প্রায় ৪০০ রানকে ডিফেন্ড করতে পারেননি।

তবে পাশাপাশি উইকেটের কথাও বলতে হবে। উইকেট শেষ দিন চতুর্থ ইনিংসেও ছিল ব্যাটিং বান্ধব। ভাঙ্গেওনি। কিছু দুর পরপর ক্ষতও তৈরি হয়নি। বিপজ্জনকভাবে বল লাফিয়ে ওঠেনি। কিংবা অস্বাভাবিক নীচু হয়েও যায়নি। আর টার্নও করেনি।

কাজেই ধরেই নেয়া যায়, এবার ৯ মাস পর নভেম্বরের একদম শেষ ভাগেও সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট তেমনই মানে ব্যাটিং ফ্রেন্ডলিই থাকবে।

আর উইকেটের চরিত্র পাল্টে শেরে বাংলার মত স্পিন ট্র্যাক করারও কোন যৌক্তিক কারণ নেই। কারণ পাকিস্তান তো আর ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ড নয় যে, কচ্ছপ গতি আর কোমর সমান উচ্চতার বাউন্স এবং‘ইয়া বড় বড়’ টার্ন দিয়ে তাদের পর্যুদস্ত আর নাকাল করা যাবে। পাকিস্তানীদের স্পিন আক্রমণ বাংলাদেশের চেয়ে সমৃদ্ধ। আর বাবর আজম, আজহার আলি, ফাওয়াদ আলম ও ইমাম-উল হকরাও ঘরের মাঠে স্পিন ট্র্যাকে খেলেই বড় হয়েছেন। তাদের স্পিন দিয়ে ঘায়েল করার চিন্তা হবে বোকামি।

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]