সাগরিকায় নতুন ক্যাপ পাবেন কেউ?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৫৩ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশের প্র্যাকটিস কভার করতে গিয়ে বেশিরভাগ সাংবাদিকের চোখ আটকে গেলো সবে দলে ডাক পাওয়া মাহমুদুল হাসান জয়ের দিকে। তাকে নিয়ে ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্সের সে কী ব্যস্ততা! প্রায় দুই ঘন্টার বেশি সময় ধরে মাহমুদুল জয়ের সঙ্গে কাজ করলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ।

যা দেখে স্বাভাবিকভাবেই যে কেউ ধরে নেবেন, শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) নির্ঘাত টেস্ট অভিষেক হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগে বিভাগের হয়ে খেলা এ তরুণ উইলোবাজের। সত্যিই তার অভিষেক হবে? যদি জয়ের টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয় শুক্রবার তাহলে চট্টগ্রামের ছেলে ইয়াসির আলি রাব্বির কী হবে?

আরও একবার দলের সঙ্গে থাকা, টিম হোটেল, টিম বাস, ড্রেসিংরুম ও ডাগআউট শেয়ার করাই সার হবে ইয়াসির আলি? এবারও জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পানি-গ্লাভস নিয়ে মাঠে ঢোকা এবং বদলি ফিল্ডার হিসেবে ব্যাকআপ করেই কাটবে সামনের পাঁচটি দিন?

গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়েতে খেলা শেষ টেস্টের একাদশ থেকে দলে নেই তিনজন সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তাসকিন আহমেদ। এই তিনজনের জায়গায় খেলবেন কারা? সাকিবকে 'রিপ্লেস' করতে হলে এমনিতেও দুজন দরকার; একজন ব্যাটার ও আরেকজন স্পিনার।

রিয়াদের জায়গায়ও একজন জেনুইন মিডলঅর্ডার ব্যাটারের অন্তর্ভুক্তি জরুরি। তাদের জায়গায় তাহলে কারা খেলবেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার আগে সর্বপ্রথম খুঁটিয়ে দেখতে হবে ৯ মাস আগে ফেব্রুয়ারিতে এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মুমিনুল বাহিনীর টিম কম্বিনেশন কী ছিল?

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ মাঠে নেমেছিল সাত ব্যাটার (তামিম, সাদমান, শান্ত, মুমিনুল, মুশফিক, সাকিব ও লিটন দাস), চার স্পিনার (সাকিব, তাইজুল, মেহেদি মিরাজ ও নাইম হাসান) আর একজন মাত্র পেসার (মোস্তাফিজ) নিয়ে।

সেই একাদশের তিনজন তামিম, সাকিব আর মোস্তাফিজুর রহমান এবার প্রথম টেস্টে নেই। গত জুলাইয়ে তামিম না থাকায় জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে তার বদলে খেলেছেন সাইফ হাসান। পেসার হিসেবে ছিলেন তাসকিন ও এবাদত।

কাজেই টি-টোয়েন্টি সিরিজের দুই ম্যাচে চরম খারাপ পারফরম করলেও প্রথা মেনে দল সাজালে সাইফের এ টেস্টেও একাদশে থাকার কথা। হয়তো সাদমানের সঙ্গে ওপেনও করতে পারেন সাইফ। তারপর তিন, চার ও পাঁচ মোটামুটি নিশ্চিত; বাঁহাতি নাজমুল হোসেন শান্ত, অধিনায়ক মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম।

এরপর আছেন লিটন দাস। এখন দেখার বিষয় সাত নম্বরে কাকে খেলানো হবে? সেটা কি ইয়াসির আলী রাব্বি? নাকি নুরুল হাসান সোহান? লিটনও স্পেশালিস্ট কিপার, তারপরও শ্রেয়তর অপশন সোহান। সাতজন পুরোদস্তুর ব্যাটার খেলানোর চিন্তা থাকলে এবার হয়তো ভাগ্যের চাঁকা খুলে যেতে পারে ইয়াসির রাব্বির।

ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে একাদশের গঠনশৈলির সঙ্গে মিল রেখে একাদশ সাজালে আট নম্বর পারফরমার হিসেবে অটো চয়েজ হবেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তিন মাস আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ টেস্টেও (৫/৮২ ও ৪/৬৬) ৯ উইকেট শিকারি মিরাজ। কাজেই তার বাদ পড়ার কোনো কারণ নেই।

বাকি তিন পজিশনে কাদের খেলানো হবে? দুজন পেসার? নাকি দুই স্পিনার? সেটাই দেখার। ফেব্রুয়ারিতে এক পেসার ফর্মুলা কাজে দেয়নি, ৩৯৫ রানও ডিফেন্ডে করা যায়নি। একজন পেসারের অভাব অনুভূত হয়েছে।

কাজেই ধরে নেয়া হচ্ছে, এবার এক পেসার ফর্মুলা থেকে সরে দুই পেসার নিয়ে মাঠে নামতে পারে বাংলাদেশ। যেহেতু তাসকিন, মোস্তাফিজ আর শরিফুল কেউই নেই; তাই এবাদতের সঙ্গে হয় আবু জায়েদ রাহি, না হয় তরুণ রেজাউর রহমান রাজার একজনকে খেলানোর সম্ভাবনা বেশি।

সাকিব নেই একমাত্র বাঁহাতি স্পিন অপশন হিসেবে অনিবার্যভাবেই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের। তাহলে কী দাঁড়ালো? যত কথাবার্তাই হোক না কেন, ঘুরেফিরে সেই আগের সাত ব্যাটার ফর্মলা বহাল থাকবে।

যেহেতু সাকিব নেই, তাই চার স্পিনার খেলানোর প্রশ্নই আসে না। চারের বদলে তিন স্পিনার ফর্মুলা নাকি সমান দুজন করে পেসার-স্পিনার খেলানো হবে?- সেটাই দেখার। ঘুরে ফিরে দুইটি জায়গায়ই নতুনের দেখা মিলতে পারে। ওপরে সাইফের বদলে মাহমুদুল জয় আর সাত নম্বরে ইয়াসির আলী রাব্বি। দেখা যাক কাল কার ভাগ্য খোলে?

এআরবি/এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]