এবার শুরু থেকেই নেই সাকিব, কী করবে বাংলাদেশ?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১

নিজ দল নিয়ে তার চিন্তাভাবনা কী? তা নিয়ে বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের তেমন উৎসাহ নেই। তবে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ সম্পর্কে বাবর আজম কী বলেছেন, তার অনুভব-উপলব্ধি কী? তা জানতে কৌতূহলের শেষ নেই স্বাগতিক ভক্ত-সমর্থকদের।

পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমও বাংলাদেশ সম্পর্কে দুটি তাৎপর্য্যপূর্ণ কথা বলেছেন; এক. বাংলাদেশে কজন সিনিয়র ক্রিকেটার নেই, দলটা খুব অভিজ্ঞ নয়। দলে আসা-যাওয়া করছে, এরকম ক্রিকেটার আছে বেশ কজন।

এছাড়া বাংলাদেশের উইকেট মানে কন্ডিশনকেও দুই দলের পার্থক্যের মানদন্ড বলে মনে করছেন বাবর। তার ধারনা, কন্ডিশনটাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই কন্ডিশন বলতে পাকিস্তানি অধিনায়ক যে উইকেটকেই বুঝিয়েছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

খুব সূক্ষ্মভাবে তিনি বোঝানো চেষ্টা করেছেন, কন্ডিশন বাংলাদেশের বড় শক্তি। আর কন্ডিশন মানে স্লো-লো আর খানিক টার্নিং উইকেট। যা পাকিস্তানিদের স্বাভাবিক উইলোবাজির পথে বাধা হয়ে দাড়াতে পারে এবং সে বাধা অতিক্রম করা সহজ হবে না- সেটাও তিনি বলেছেন।

কিন্তু আসল সত্য হলো, দেশের মাটিতে অতি মন্থর গতি, নিচু বাউন্স আর খানিক টার্নিং পিচে যিনি সবসময় টিম বাংলাদেশের প্রধান চালিকাশক্তি, যার ব্যাটিং-বোলিং দলের সবচেয়ে বড় নির্ভরতা; সেই সাকিব নেই চট্টগ্রাম টেস্টে। যা পাকিস্তানিদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি। আর বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় শূন্যতা।

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে স্কোয়াডে থেকেও চট্টগ্রাম টেস্ট খেলা হচ্ছে না সাকিবের। বলতে পারেন সাকিব একা কেন? তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর তাসকিন আহমেদের নামও তো চলে আসে। হ্যাঁ! তা আসে বৈ কি।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত জুলাই মাসে দেশের পক্ষে সর্বশেষ টেস্টেও বিগ হান্ড্রেড (১৫০) হাঁকিয়েছেন। আর তাসকিনও ঐ টেস্টে ৫ উইকেটশিকারি। অবশ্যই চট্টগ্রাম টেস্টে তাদের সবাইকেই মিস করবেন অধিনায়ক মুমিনুল।

তারপরও সাকিবের কথা সবার মুখে মুখে। সাকিবের কথা বিশেষভাবে মনে হবেই না কেন? তিনি যে সব্যসাচী, টু ইন ওয়ান। প্রথমত, দলের অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ। এরপর এক নম্বর স্পিনার। ঘরের মাঠে টার্নিং উইকেটে বাংলাদেশের প্রধান ও সবচেয়ে কার্যকর বোলিং অস্ত্রই সাকিব।

ঘরের মাঠে টেস্টে যতগুলো বড় জয় বা সাফল্য আছে, তার প্রায় প্রতিটায় সাকিবের অবদান অনেক। বেশি দূর তাকাতে হবে না। এই তো চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হওয়া শেষ ম্যাচেই হারে হারে টের পাওয়া গেছে সাকিবের অভাব।

ইনজুরির কারণে ঐ টেস্ট মাঠে থেকে শেষ করতে পারেননি সাকিব। প্রথম ইনিংসে ৬৮ রানের এক ইনিংস খেলার পর মোটে ৬ ওভার বোলিং করে ঊরুর ইনজুরির শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সাকিব। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংও করতে পারেননি। এক ওভারও বোলিং করা সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিবের ব্যাটিং যেমন তেমন, বোলিংটাই মিস করেছে বাংলাদেশ। যেখানে ৩৯৫ রানের বড়সড় টার্গেট ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। মিডলঅর্ডার কাইল মায়ার্স ডাবল সেঞ্চুরি (২১০) হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেন।

সেদিন মূলত সাকিবের এক ওভারও বোলিং করতে না পারা বাংলাদেশের পরাজয়ের প্রধান কারণ। সেই চালিকাশক্তি ও প্রধান বোলিং অস্ত্র সাকিব নয় মাস পর এবার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির শিকার।

এবার স্কোয়াডে থেকেও মাঠেই নামা হচ্ছে না দেশসেরা অলরাউন্ডারের। সাকিবকে ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে একই মাঠে এবার কী করবে মুমিনুলের দল- সেটাই দেখার।

এআরবি/এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]