দুঃসময়ে আলোকবর্তিকা লিটন-মুশফিকের ব্যাটিং

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২১

৪৯/৪ থেকে ২৫৩/৪; অংকের হিসেবে ২০৪ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ। যা সাজাতে এরই মধ্যে শতক পূর্ণ লিটন দাসের, দিন শেষে অপরাজিত ১১৩ রানে। মুশফিকুর রহিমও সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি (৮২)। কিন্তু তাদের জুটিকে কি শুধু অংকের হিসেবেই মাপা যায়?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অফফর্মে থেকে দেশে ফিরে পাকিস্তানের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাদ। নানা তীর্যক কথাবার্তা, রাজ্যের সমালোচনা ও মানসিক চাপ নিয়ে টেস্ট খেলতে নামা। শুরুতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ভয়ঙ্কর ঘোর বিপদে পড়া। সেখান থেকে ধৈর্য্য, সাহস, মনোবল, আর মনোসংযোগের মিশেলে অসাধারণ ব্যাটিং করে দলকে মোটামুটি একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

যেখান থেকে শোচনীয় হারের চিন্তার বদলে জেগেছে সাফল্যের আশা। খালি চোখে এটাই লিটন-মুশফিকের কৃতিত্ব। কিন্তু আসলে কি তাই? সংকটে, বিপদে মুশফিক-লিটন জুটির ব্যাটিংটাকে শুধু চট্টগ্রাম টেস্টের মোড়কেই আটকে রাখা যায়? নাকি এর আরও ব্যাপ্তি আছে?

এ দুজনের ক্রিকেট শিক্ষক ও দেশ বরেণ্য প্রশিক্ষক, বিশ্লেষক নাজমুল আবেদিন ফাহিমের ধারণা লিটন-মুশফিকের অবিচ্ছন্ন জুটি জাতীয় দলের সংকট, বিপর্যয় আর দুঃসময়ে এক আলোকবর্তিকা। তার ভাষায়, লিটন-মুশফিকের হাত ধরে শুধু প্রথম ইনিংসের বিপদই কাটেনি, জাতীয় দল যে অতলে তলিয়ে যাওয়ার মত অবস্থায় ছিল, সেখান থেকেও আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস মিলেছে।

প্রথম দিনের খেলা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপের শুরুতেই অনেক নির্ভার ফাহিম, ‘আমি অনেকটাই স্বস্তিতে এখন। কারণ এই একটি জুটি আমাদের ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করলো। বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের সঙ্গে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হওয়া পর আমরা কিন্তু একদম খাদের কিনারায় পড়ে গিয়েছিলাম।’

‘আজকে যদি ডাউন হতাম, তাহলে আর কিছু থাকতো না। গত কিছুদিন খারাপ খেলে একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিলাম। আজকেও যেমন শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে লিটন আর মুশফিক যদি এভাবে হাল না ধরতো, তাহলে নির্ঘাত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যেতাম আমরা। কিছু একটা ধরে যে সামনে আগাবো, তা আর থাকতো না। রীতিমত অতলে তলিয়ে যেতে হতো। কঠিন অবস্থায় দুজনই এমন এক ইনিংস খেলেছে যা আমাদের সংকটই কাটায়নি, আশার আলোও জ্বেলেছে।’

লিটন ও মুশফিকের ব্যাটিংয়ের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিশ্লেষক ফাহিম লিটন আর মুশফিকের টেম্পারমেন্ট ব্যাটিং শৈলির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তার কথা, ‘নানা তীর্যক কথাবার্তা আর কড়া সমালোচনার পর নিশ্চয়ই চরম মানসিক সংকটে ছিল লিটন-মুশফিক। এরকম অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানো, এত পরিচ্ছন্ন ব্যাটিং, এমন অসাধারণ টেম্পরামেন্ট নিয়ে ব্যাটিং করলো- যা এক কথায় অসাধারণ। দুজন যে দেখালো দুজন, যেমন আত্মনিবেদন দেখলাম- তা অকুণ্ঠ প্রশংসার যোগ্য।’

ফাহিমের দাবি, লিটন-মুশফিকের ব্যাটিং সবার জন্য অনুপ্রেরণা ও বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। সবার মাঝে এই পার্টনারশিপটা অন্যরকম প্রভাব ফেলবে বলে তার বিশ্বাস, ‘একটা স্বস্তি, অন্যরকম সাহস জন্মাবে সবার মাঝে। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি দলের সবাইকে অনেক ওপরে ওঠাবে এবং আমরা এই জুটির অমন অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কারণে আবার ট্র্যাকে ফিরে আসতে পারবো।’

এআরবি/এসএএস/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]