বিশ্বকাপে নিষ্প্রভ লিটন-মুশফিকের টেস্টে জ্বলে ওঠার গল্প

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:১৫ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০২১

একটি জুটিতে পাল্টে গেল কত কিছু। জুজুর ভয়ে কুকড়ে থাকার পর এখন সম্ভাবনার সূর্যও উকি ঝুঁকি দিচ্ছে। কীভাবে সম্ভব হলো এটি? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নড়বড়ে, আড়ষ্ট মুশফিক-লিটন চট্টগ্রাম টেস্টে জ্বলে উঠলেন কী করে? সেই লিটন-মুশফিকের সঙ্গে এই টেস্টের মুশফিক-লিটনের ফারাকটা কোথায়?

অনেকের মনেই এ কৌতূহলি প্রশ্ন। এ সময়োচিত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম অনেক কথার ভিড়ে দুইটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথম কারণ, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম দুজনই ঠিক ছন্দে ছিলেন না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে থেকেই অফফর্মে ছিলেন।

আর তিনি বেশ জোর দিয়েই বলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটই হলো ছন্দ-লয়ের খেলা। এখানে ফর্ম ফিরে পাওয়া কঠিন। উইকেটে গিয়েই হাত খুলে খেলতে হয়। নিজের মত করে নয়, স্কোরবোর্ড যেভাবে চায় সেভাবে খেলতে হয়। টেস্টে সেই তাড়াহুড়ো থাকেনা। ধীরস্থির হয়ে নিজের মত ইনিংসকে সাজানো যায়।

কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিমের ব্যাখ্যা, ‘দুই ব্যাটারের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিকের তুলনায় অনেক সাজানো গোছানো লিটন। ওর হাতে শটস অনেক বেশি। এটাই কিন্তু আবার একজন ব্যাটসম্যানের জন্য সব কিছু না। মুশফিকের যে লড়াকু মানসিকতা আছে, ইস্পাত কঠিন মনোবল আছে- সেটা লিটনের তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ পরিসরে দুজনেরই সফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। লিটনের টেকনিক, শটস খেলার স্কিলের কারণে আর প্রচণ্ড সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং মনোবল মুশফিকের লম্বা ইনিংস খেলার বড় রসদ। টি-টোয়েন্টিতে তাদের আড়ষ্ট মনে হয়েছে পরিবেশ, প্রেক্ষাপট, উইকেট- সবকিছু মিলিয়েই। ধীরগতির টার্নিং পিচে খেলে কম বেশি সব ব্যাটারই ফর্ম হারিয়ে ফেলেছিল।’

পাশাপাশি ফাহিম মনে করেন, লিটন ও মুশফিকের ফর্মটাও তেমন ভাল ছিল না। ফাহিমের পরের কথায় আছে সে ব্যাখ্যা, ‘টি-টোয়েন্টি ফর্ম ফিরে পাওয়ার জায়গা না। সেখানে অ্যাটাকিং খেলা ছাড়া উপায় নেই। নিজের মত করে খেলারও সুযোগ নেই। স্কোরবোর্ডের দিকে তাকিয়ে খেলতে হয়। টেস্টে অত তাড়াহুড়ো থাকে না। রয়ে সয়ে নিজের স্কিল ও মনোসংযোগের মিশেলে ব্যাট করা যায়।’

ফাহিমের দাবি, ‘মুশফিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মনের দিক থেকে ঠিক জায়গায় ছিল না। আর লিটন কেন পারেনি আমি জানি না। তবে আজকে খুব কমফর্টেবল মনে হয়েছে লিটনকে। পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে লিটন-মুশফিক একদম আরামে খেলেছে। দুজনই অনেক বেশি সময় নিয়ে যতটা সম্ভব শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে খেলে সফল হয়েছে।’

এআরবি/এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]