দলের প্রতি আমি অসত্‍ হতে পারব না: কোহলি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২২

হঠাৎ টেস্ট দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন বিরাট কোহলি। দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন এখনও কোহলি। সেখান থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।

ফেসবুক পেজ এবং টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দুই প্যারার একটি চিঠি প্রকাশ করেন কোহলি। সেই চিঠির মাধ্যেমেই তিনি জানিয়ে দিলেন, ভারতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে আর নেতৃত্বের ভার পালন করবেন না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা কোহলির সেই চিঠি পুরোপুরি আবেগে সিক্ত। আবেগভরা যে বার্তা তিনি চিঠিতে লিখলেন, সেটাই তুলে ধরা হলো জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য।

কোহলি লিখেছেন, ‘সাতটি বছর ধরে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম এবং নিরলস অধ্যবসায় দিয়ে আমি চেষ্টা করেছি দলকে একটা সঠিক অবস্থানের ওপর ধরে রাখতে। আমি এই কাজটি করতে গিয়ে সর্বোচ্চ সততা দেখানোর চেষ্টা করেছি এবং কোনো চেষ্টাই বাদ রাখিনি। তবে সব কিছুকেই কোনো না কোনো একটা সময়ে এসে থামতে হয়। আমার ক্ষেত্রে ভারতের হয়ে টেস্ট অধিনায়কত্বের বিষয়টা তেমনই। এখনই সময় (অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর)।’

‘এই অভিযাত্রায় অনেক উত্থান আছে, অনেক পতনও আছে। কিন্তু এখানে কখনোই আমার নিজের চেষ্টায় কোনো ত্রুটি ছিল না কিংবা বিশ্বাসেরও অভাব ছিল না। সবসময় ব্শ্বিাস ছিল, আমি যা কিছু করি তাতে বরাবর ১২০ শতাংশ উজাড় করে দেওয়ার তত্ত্বে বিশ্বাস করে এসেছি। যদি সেটা করতে না পারি, তাহলে আমি ভালোভাবে জানি যে সেটা করা আমার পক্ষে ঠিক নয়। আমার হৃদয়ে পুরোপুরি স্বচ্ছতা আছে। আমার দলের প্রতি আমি অসত্‍ হতে পারব না।'

‘এত দীর্ঘ সময় ধরে আমায় দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ প্রদানের জন্য বিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আরও বেশি করে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার সতীর্থদের, যারা প্রথম দিন থেকে দলকে নিয়ে আমার যে লক্ষ্য ছিল, তা পূরণের ক্ষেত্রে সঙ্গী হয়েছে। কোনও পরিস্থিতিতে তারা হাল ছাড়েনি। তোমরা এই যাত্রাকে এতটা সুন্দর এবং স্মরণীয় করে তুলেছ।’

‘রবি ভাই (রবি শাস্ত্রী) এবং সকল সাপোর্ট স্টাফরা এই গাড়ির ইঞ্জিন হয়ে কাজ করেছেন। যারা লাগাতার টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের উপরের দিকে নিয়ে গেছেন। সে লক্ষ্যকে বাস্তবে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শেষে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে বড়সড় ধন্যবাদ জানাতে চাই। যিনি অধিনায়ক হিসেবে আমার উপর ভরসা রেখেছিলেন এবং বিশ্বাস করেছিলেন যে আমি ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’

বিরাটের এ বিদায়বার্তা থেকেই স্পষ্ট যে প্রতিটি শব্দে আবেগের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ হয়েছে। যে লোকটা জাতীয় দলের জন্য নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন (হয়ত কারও ভালো লেগেছে, কারও ভালো লাগেনি বিরাটের আচরণ), অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণার সময় আবেগে ভেসে গেছেন সেই বিরাট।

হয়তো চোখও ভিজে গিয়েছিল তার। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের দৌলতে তা বোঝা না গেলেও নিজের বিদায়বার্তার ছত্রেছত্রে বুঝিয়ে দিয়েছেন, খেলাটা বরাবর আবেগের সঙ্গে খেলেছেন। অধিনায়কত্বের সময়ও ছিল আবেগ।

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]