‘শুধু মাঠেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি', কাদের দিকে আনুশকার তীর?

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২২

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে টেস্ট নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার সময় মূলতঃ কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানাননি বিরাট কোহলি। তার নেতৃত্ব ছাড়ার পর এ নিয়ে চলছে নানা বিচার-বিশ্লেষণ। নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ কোহলির পক্ষে, কেউ বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

তবে, স্বভাবতই নিজের স্বামীর পক্ষে দাঁড়ানোর কথা আনুশকা শর্মার। হয়েছেও তাই। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক আবেগঘন বার্তায় কোহলির নেতৃত্ব ছাড়ার কিছুটা কারণও উল্লেখ করেছেন আনুশকা। তার দাবি, শুধু ক্রিকেটীয় চ্যালেঞ্জই নয়, মাঠের বাইরের প্রচুর চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়েছে বিরাটকে। এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি।

আনুশকা জানালেন, তারা আগে ভেবেছিলেন যে, ভালো অভিপ্রায় থাকলেই জীবনে এগিয়ে যাওয়া যায়। আনুশকার এমন দাবির পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি নাম না করে সৌরভ গাঙ্গুলির বোর্ডকেই তোপ দাগলেন বিরাট কোহলির স্ত্রী?

রোববার ফেসবুকে দেয়া এক বিশাল পোস্টে আনুশকা শর্মা লেখেন, ‘২০১৪ সালের সেই দিনের কথা খুব মনে পড়ে, যখন তুমি বলেছিলে তোমাকে অধিনায়ক করা হয়েছে। এমএস (মহেন্দ্র সিং ধোনি) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন।’

‘আমার মনে আছে এমএস (ধোনি), তুমি এবং আমি পরে সেদিন একটি চ্যাট করছিলাম এবং সে (ধোনি) মজা করছিল যে, কত দ্রুত তোমার দাড়ি ধূসর হতে শুরু করবে। আমরা সবাই এটা নিয়ে বেশ হাসাহাসি করেছিলাম। সেদিন থেকে সত্যিই তোমার দাড়ি ধূসর হতে দেখেছি। আমি বৃদ্ধি (দাড়ির) দেখেছি। অপরিমেয় বৃদ্ধি। তোমার চারপাশে এবং তোমার মাঝেও। আর হ্যাঁ, ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে তোমার উন্নতির এবং তোমার নেতৃত্বে দলের যে সাফল্য রচিত হয়েছিল তা নিয়ে আমি খুবই গর্বিত। কিন্তু আমি তোমার মধ্যে যে উন্নতি অর্জন করেছ তা নিয়ে বেশি গর্বিত।’

‘২০১৪ সালে আমরা কত ছোটো এবং সাদাসিধে ছিলাম! ভাবতাম যে শুধুমাত্র ভালো অভিপ্রায়, ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং মানসিকতা আপনাকে জীবনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সেগুলি অবশ্যই (জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে) ঠিক। তবে তাতে চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হয়। তুমি যে সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছ, তা সর্বদা মাঠের ভিতরে নয়। কিন্তু এটাই তো জীবন? তাই নয়? জীবন সেখানে আপনার পরীক্ষা নেয়, যেখানে পরীক্ষা দিতে বলে তেমন আশাও করেননি। কিন্তু সেখানেই তোমায় সবথেকে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। আর প্রিয়তম, তোমার জন্য আমি গর্বিত, কারণ কোনও বিষয়কে তোমার ভালো অভিপ্রায়ের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠতে দাওনি।’

বিরাটের স্ত্রীর এই বার্তা ঘিরে স্বভাবতই জল্পনা তৈরি হয়েছে। একটি মহলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠছে, মাঠের বাইরের চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে কী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) দোষারোপ করেছেন আনুশকা? যে বোর্ডের সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে বিরাটের ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ চলছে! এমনকি বোর্ড সভাপতি এবং বিরাট পরস্পর-বিরোধী মন্তব্যও করেছেন।

প্রসঙ্গতঃ গত বছরের ডিসেম্বরে বিরাটকে একদিনের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয় বিসিসিআই। এটা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। পরদিনই সৌরভ দাবি করেছিলেন, ‘বিসিসিআই এবং নির্বাচকরা মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসলে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব না ছাড়ার জন্য বিরাটকে অনুরোধ করেছিল বিসিসিআই; কিন্তু সে এ অনুরোধে রাজি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সাদা বলের দুটি ফরম্যাটে দু'জন ভিন্ন অধিনায়ক রাখাটা ঠিক হবে বলে মনে করেননি নির্বাচকরা।’

একই সঙ্গে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, একদিনের ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে বিরাটের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা হয়েছে। তবে কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি সৌরভ।

কয়েকদিন পরেই বিরাট পাল্টা জবাব দেন এবং সৌরভের কথার উল্টোটাই দাবি করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যখন আমি বিসিসিআইকে বলি যে, আমি টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়তে চাই, তখন তা ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল। কোনোরকম দ্বিধাবোধ ছিল না তাদের মধ্যে। আমাকে নেতৃত্ব না ছাড়ার কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি। বরং, আমায় বলা হয়েছিল যে এটা প্রগতিশীল পদক্ষেপ। সে সময় জানিয়েছিলাম যে আমি একদিনের ক্রিকেট এবং টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিতে চাই না। আমার পক্ষ থেকে বার্তা স্পষ্ট ছিল। আমি এটাও জানিয়েছিলাম, বিসিসিআই কর্তা এবং নির্বাচকরা যদি মনে করেন যে অন্য ফরম্যাটে আমার নেতৃত্ব দেওয়া উচিত নয়, সেটাও ঠিক আছে।’ যা নিয়ে পরে তোপের মুখে পড়তে হয় সৌরভ গাঙ্গুলিকে।

এবার বিরাট অধিনায়কত্ব ছাড়ার পিছনে সৌরভের হাত দেখতে পাচ্ছেন নেটিজেনদের একাংশ। বিরাট অবশ্য বিদায়বার্তায় কাউকে দোষারোপ করেননি। আবেগে সিক্ত বার্তায় শনিবার বিরাট বলেন, ‘দীর্ঘ যাত্রাপথে প্রচুর সাফল্য এসেছে। ব্যর্থতারও সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু কখনও প্রয়াস বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি হয়নি। আমি যা কিছু করি, তাতে বরাবর ১২০ শতাংশ উজাড় করে দেওয়ার তত্ত্বে বিশ্বাস করে এসেছি। আমি যদি সেটা করতে না পারি, তাহলে আমি ভালোভাবে জানি যে সেটা করা আমার পক্ষে ঠিক নয়। আমার হৃদয়ে পুরোপুরি স্বচ্ছতা আছে। আমার দলের প্রতি আমি অসত্‍ হতে পারব না।’

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]