রাসেল ঝড়ে সাকিবদের হারিয়ে ঢাকার প্রথম জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২২

প্রথম ইনিংসে ঝড়ের আভাস দিয়েছিলেন দুই ক্যারিবীয় তারকা ডোয়াইন ব্রাভো ও ক্রিস গেইল। তাদের ঝলকে ১২৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় ফরচুন বরিশাল। কিন্তু আজ দিনটি ছিল পুরোপুরি আন্দ্রে রাসেলের। যিনি বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও তুললেন ঝড়।

ক্যারিবীয় মারকুটে অলরাউন্ডার রাসেলের ১৫ বলে ৩১ রানের ঝড়ে সহজেই ১৫ বল হাতে রেখে বরিশালের করা ১২৯ রান টপকে গেছে মিনিস্টার ঢাকা। রাসেলের অলরাউন্ড নৈপূন্যে সাকিবের বরিশালকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দুই হারের প্রথম জয় পেলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না ঢাকার। ইনিংসের ১৭ বলের মধ্যে দলীয় ১০ রানের মাথায় ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। একে একে সাজঘরে ফিরে যান তামিম ইকবাল (০), নাইম শেখ (৫), জহুরুল অমি (০) ও মোহাম্মদ শেহজাদ (৪)।

তবে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। নিজের প্রথম দুই ওভারে দুই উইকেট বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলাম ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বিলিয়ে দেন ১৮ রনা। সেখান থেকেই পঞ্চম উইকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ পেয়ে যান মাহমুদউল্লাহ ও শুভাগত হোম।

দেশের ক্রিকেটের এ দুই অভিজ্ঞ তারকার জুটিতে আসে ১০.২ ওভারে ৬৯ রান। দুজনের মধ্যে শুভাগতই ছিলেন বেশি সাবলীল। ইনিংসের ১৪তম ওভারে ডোয়াইন ব্রাভোর স্লোয়ারে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ২৫ বলে ২৯ রান করেন শুভাগত। তখন জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল ঢাকা।

বাকি কাজ সারতে কোনো সমস্যাই হয়নি সাত নম্বরে নামা আন্দ্রে রাসেলের। একপ্রান্ত ধরে রেখে মাহমুদউল্লাহও খেলেন অধিনায়কোচিত ইনিংস। শেষ ৬ ওভারে যখন প্রয়োজন ছিল ৪৭ রান, তখন আলঝারি জোসেফের বোলিংয়ে তিন চার ও এক ছয়ের মারে ১৯ রান নিয়ে নেন রাসেল ও রিয়াদ।

এরপর তাইজুলের করা ১৭তম ওভারের শেষ তিন ৪, ৪ ও ৬ হাঁকিয়ে সমীকরণ নেমে আসে ১৮ বলে ৭ রানে। সাকিবের করা পরের ওভারে প্রথম বলেই ছক্কা মেরে দুই দলের স্কোর সমান করেন রিয়াদ। তবে পরের বলেই আউট হয়ে যান ৪৭ বলে ৪৭ রান করা ঢাকার অধিনায়ক।

তবে শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন রাসেল। তার ব্যাট থেকে আসে তিন চার ও দুই ছয়ের মারে ৩১ রানের ইনিংস। ম্যাচসেরার পুরস্কার অবশ্য পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বল হাতেও নিয়েছিলেন ১টি উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে ফরচুন বরিশাল। নাজমুল হোসেন শান্ত আর সৈকত আলির উদ্বোধনী জুটিতে ২১ রান উঠেছে ঠিকই, কিন্তু এতে শান্তর তেমন কোনো অবদান ছিল না।

যার অবদান ছিল সেই সৈকতও বার দুয়েক জীবন পেয়েছেন। তবে এমন ভাগ্য বেশিক্ষণ সহায় ছিল না বরিশালের। ২ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে শুভাগতহোমকে তুলে মারতে গিয়ে লংঅফে নাইম শেখের ক্যাচ হন শান্ত (৫)। পরের ওভারে অভিষিক্ত হাসান মুরাদের শিকার হন অস্বস্তিতে থাকা সৈকত (১৮ বলে ১৫)। তিনিও লংঅফে ক্যাচ হন ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে।

তার পরের ওভারে আরও এক উইকেট হারায় বরিশাল। এবার আন্দ্রে রাসেল শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করেন তৌহিদ হৃদয়কে। ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে বরিশাল।

এমন বিপদে হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার সাকিব আল হাসান আর ক্রিস গেইল। চতুর্থ উইকেটে ৩৫ বলে ৩৭ রানের জুটি গড়েন তারা।

সাকিব খেলছিলেন দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। অবশেষে ১২তম ওভারে এসে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে দারুণ এক ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান রুবেল হোসেন। ১৯ বলে ২ বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় সাকিব করেন ২৩।

এরপর চাপ বাড়িয়ে ফেরেন নুরুল হাসান সোহান। মাহমুদউল্লাহকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ হন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটার (১)।

ষষ্ঠ উইকেটে আরেকটি জুটি গড়েন গেইল। এবার স্বদেশি ডোয়াইন ব্রাভোকে নিয়ে ১৯ বলে ৩৩ রান যোগ করেন তিনি। ১৬তম ওভারে গেইলকে থামান ইসুরু উদানা।

বলের গতি বুঝতে না পেরে স্লগ করে শর্ট থার্ড ম্যানে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ হন ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব। ৩০ বলে ৩ চার আর ২ ছক্কায় ৩৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ওই ওভারেই জিয়াউর রহমানকে (১) তুলে নেন উদানা।

একশর আগে (৯৬ রানে) ৭ উইকেট হারায় ফরচুন বরিশাল। সেখান থেকে দলকে লড়াকু পুঁজি পর্যন্ত নিয়ে যান ডোয়াইন ব্রাভো। ২৬ বলে ৩ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যারিবীয় এই অলরাউন্ডার।

এসএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]