তামিমের এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের আসল কারণ জানালেন কোচ ফাহিম

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০১ এএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২২

মাঝে তার স্ট্রাইকরেট অনেক কমে গিয়েছিল। বিপিএলের এবারের আসরের প্রথম দুই ম্যাচে পরপর অর্ধশতক হাঁকালেও স্ট্রাইকরেট ভাল ছিল না। এক ম্যাচে ৪৫ বলে ৫০ এবং পরের ম্যাচে ৪৫ বলে ৫২ রান করে আউট হন।

কিন্তু শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে মিনিস্টার ঢাকার ওপেনার তামিমের ব্যাট ছিল যেন খোলা তরবারি। ১৭৩.৪৩ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে তামিম দেখিয়ে দিলেন, ১১০.০০ এর আশপাশে থাকাই নয় শুধু, এখনো তার সামর্থ্য আছে হাত খুলে খেলার।

একদিন আগেই তামিম ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ৬ মাস জাতীয় দলের হয়ে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবেন না। তার ভাবনায় শুধুই টেস্ট এবং ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি নয়। সেই কথা বলা তামিম হঠাৎ সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে সেই পুরনো রূপে? জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আবার সেই চিরচেনা তামিম?

কিভাবে পুরনো রূপে ফিরলেন তামিম? এর পেছনের রহস্য কী?

তামিমকে খুব কাছ থেকে দেখা এবং তার ব্যাটিং নিয়ে মাঝে-মধ্যে কাজ করা কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম মনে করেন, এর কারণ একটাই- অ্যাপ্রোচ। দেশ বরেণ্য এ ক্রিকেট এক্সপার্ট মনে করেন, ‘অ্যাপ্রোচের ভিন্নতাই তামিমের এমন দারুণ ইনিংস খেলার পিছনে মূল ভূমিকা রেখেছে।’

কোভিড পজিটিভ হওয়ায় শুরুতে ফরচুন বরিশালের সঙ্গে থাকতে পারেননি। সুস্থ্য হয়ে সাকিব বাহিনীর সঙ্গে এখন চট্টগ্রামে ফাহিম। হোটেল রুমে বসে তামিমের ইনিংসটি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখেছেন এবারের বিপিএলে টিম বরিশালের ব্যাটিং উপদেষ্টা।

শুক্রবার রাতে খেলা শেষে জাগো নিউজের সঙ্গে মুঠোফোন আলাপে ফাহিম জানান, এমন ব্যাটিং তামিম অনেকদিন করেনি। এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে, বিশেষ করে এমন অ্যাপ্রোচ আমরা অনেকদিন পর দেখলাম তামিমের কাছ থেকে।

ফাহিম যোগ করেন, ‘অনেকে বলেছে, তবে তামিমের ধারণা তার যেভাবে ব্যাটিং করার কথা, সেভাবে ব্যাটিং করে। তবে আজকে (শুক্রবার) বোধ হয় সবাই বুঝতে পেরেছেন, এটাই হলো তামিমের অ্যাপ্রোচ।’

ফাহিমের মূল্যায়ন, ‘তামিমের স্কিল, টেকনিক নিয়ে কখনোই কোন কথা নেই। তবে মাঝে তার অ্যাপ্রোচটা ঠিক তার নিজের মত ছিল না। তাই তার ব্যাটকে এত সাবলীল ও বিধ্বংসী মনে হয়নি। একটা হলো স্কিলের ব্যাপার। আর একটা অ্যাপ্রেচোর ব্যাপার। তামিমের স্কিল নিয়ে বলার কিছুই নেই। মোস্ট সাকসেসফুল ব্যাটার। তবে অ্যাপ্রোচটা মাঝে ভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এমন অ্যাপ্রোচে অনেক দিন পর দেখলাম ব্যাটিং করতে। অন্য সব ইনিংসের সাথে পার্থক্য একটাই, তাহলো অ্যাপ্রোচ। আজকে (শুক্রবার) সে দল জেতানোর জন্য খেলেছে।’

‘জেতার জন্য যে আগ্রাসন দরকার ছিল, যেমন গতিতে রান তোলা দরকার ছিল, সে সেভাবেই খেলেছে। আর সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। অন্য সময় যেমন হয় যে, প্রথম কতগুলো বল দেখবো, নিজেও জানে- ম্যাচ জিততে গেলে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে হবে। আমার মনে হয় অনেক পজিটিভ ছিল তামিম। তারই পুরস্কার এমন সাবলীল ও বিধ্বংসী ইনিংস।’

এআরবি/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]