কাজে লাগলো না সাকিবদের ভিন্ন পরিকল্পনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত: ০২:১৭ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২২

খুলনা টাইগার্সের একাদশে অফস্পিনারের আধিক্য দেখে আমূল বদলে গেলো ফরচুন বরিশালের পরিকল্পনা। একপ্রান্তে ক্রিস গেইলকে রেখে আরেক প্রান্তে একের পর এক ডানহাতি ব্যাটার পাঠাতে থাকলো তারা। যে কারণে আগের ম্যাচগুলোতে তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ব্যাটিংয়ে এলেন সাত নম্বরে!

কিন্তু তাদের এই পরিকল্পনা খুব একটা কাজে লাগলো না। দ্য ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইলের বড় কিছুর আভাস দিয়েও তা করতে পারেননি। বাকিরাও পরিকল্পনা অনুযায়ী মেরে খেলতে পারেননি। যে কারণে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানের বেশি করতে পারেনি বরিশাল। ম্যাচ জিততে শীর্ষে উঠতে খুলনার করতে হবে ১৪২ রান।

এবারের বিপিএলে অলিখিত নিয়মে পরিণত হওয়া টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ে ধারা অব্যাহত রেখে আজও সাকিবদের ব্যাটিংয়ে পাঠান খুলনার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বরিশাল একাদশে বাঁহাতি ব্যাটারদের আধিক্যের কারণে নিজেদের উইনিং কম্বিনেশন ভাঙে খুলনা। বাঁহাতি স্পিনার নাবিল সামাদকে বসিয়ে দলে নেয় অফস্পিনার মোহাম্মদ শরিফউল্লাহকে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই চমক দেয় বরিশাল। ক্রিস গেইলের সঙ্গে ইনিংস সূচনা করতে পাঠানো হয় লোয়ার অর্ডার ব্যাটার জ্যাকব লিন্টটকে। এ দুজনের জুটি টেকে মাত্র ২.৩ ওভার। ইনিংসের প্রথম ওভারেই কামরুল ইসলাম রাব্বিকে তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ঝড়ের আভাস দেন গেইল। শরিফউল্লাহর করা তৃতীয় ওভারে ব্যাক টু ব্যাক বাউন্ডারি লিন্টটও।

কিন্তু টানা তৃতীয় বাউন্ডারি হাঁকানোর চেষ্টায় এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ১০ রান করা লিন্টট। দুই অফস্পিনারের বিপক্ষে সুবিধা করার জন্য সাকিবের বদলে তিন নম্বরে পাঠানো হয় জিয়াউর রহমানকে। কিন্তু তিনি খেলতে থাকেন একের পর এক ডট। একপর্যায়ে ১০ বল থেকে মাত্র ৩ রান ছিল তার নামের পাশে।

তবে অপরপ্রান্তে রানের চাকা সচল রাখছিলেন ইউনিভার্স বস। শরিফউল্লাহর ওভারে জোড়া বাউন্ডারি কিংবা শেখ মেহেদি হাসানকে ছক্কায় উড়িয়ে অফস্পিনারদের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন গেইল। পরে ইনিংসের সপ্তম ওভারের শেষ বলে থিসারা পেরেরাকেও ছক্কায় ওড়ান তিনি। পরের ওভারের প্রথম বলে কামরুল রাব্বিকে ছক্কা হাঁকান জিয়া।

এ দুজনের জুটিতে ভালোই এগুচ্ছিল বরিশাল। তখনই পাল্টা আঘাত হানেন কামরুল রাব্বি। ছক্কা হজমের পরের বলেই জিয়াকে মেহেদির হাতে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। মেরে খেলার পরিকল্পনায় প্রমোশন দেওয়া জিয়া আউট হওয়ার আগে ১৩ বল থেকে করতে পেরেছেন মাত্র ১০ রান। এরপর চার নম্বরে পাঠানো হয় আরেক ডানহাতি নুরুল হাসান সোহানকে।

বরিশালের এই পরিকল্পনাও কাজে লাগেনি। সোহানের ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান। তিনি আউট হওয়ার আগেই সেকুগে প্রসন্নার বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লংঅনে ধরা পড়েন গেইল। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ২ ছয়ের মারে ৪৫ রান। ইনিংসের ১২তম ওভারে চতুর্থ উইকেট পতনের পরেও ব্যাটিংয়ে নামেননি সাকিব।

পঞ্চম উইকেটে জুটি বাঁধেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তৌহিদ হৃদয়। এ দুজন মিলে ৫.১ ওভারে যোগ করেন ৩৫ রান। ইনিংসের ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ২৩ রান করে আউট হন তৌহিদ। এরপর গিয়ে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন সাকিব। উইকেটে এসেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকান বরিশাল অধিনায়ক। মনে হচ্ছিল শেষের ঝড়টা তিনিই তুলবেন।

কিন্তু বিধিবাম! থিসারা পেরেরার করার পরের ওভারেই আন্দ্রে ফ্লেচারের দুর্দান্ত এক ক্যাচে সমাপ্তি ঘটে সাকিবের ৬ বলে ৯ রানের ইনিংসের। এক বল পর থিসারার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ১৫ বলে ১৯ রান করা শান্তও। এরপর আর কিছুই বাকি ছিল না বরিশালের ইনিংসের। শেষ পর্যন্ত তাদের ইনিংস থেমে যায় ১৪১ রানে।

খুলনার পক্ষে বল হাতে ২টি করে উইকেট নেন কামরুল রাব্বি, থিসারা পেরেরা ও ফরহাদ রেজা।

এসএএস/এমএস/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]