মিরাজ এসে বলে ‘আমাকে বল দেন, ম্যাচ বদলে দেবো’: তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৮ এএম, ১৯ মার্চ ২০২২

ইনিংসের ৩৮ ওভারের মধ্যে শেষ দুই মূল বোলার সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদের দশটি করে ওভার। শেষ ১২ ওভারের মধ্যে দুই পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের বাকি ছিল মাত্র ৭ ওভার। ফলে বাকি ৫ ওভার কে করবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছিল সংশয়।

কেননা দলের পঞ্চম বোলার, অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ নিজের প্রথম ৪ ওভারে খরচ করে বসেন ৩৮ রান। যে কারণে তার ওভারগুলো নিয়ে ভক্ত-সমর্থক পর্যায়ে দেখা যায় শঙ্কা। কেউ কেউ তো বলতে শুরু করেন, পঞ্চম বোলারের জায়গায়ই হয়তো হেরে যাবে বাংলাদেশ।

তা হয়নি! উল্টো শেষ স্পেলে আক্রমণে এসে ম্যাচটি পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এনে দেন মেহেদি মিরাজ। প্রথম ৪ ওভারে ৩৮ রান দেওয়া মিরাজ, টানা পাঁচ ওভার বোলিং করে মাত্র ২৩ রান খরচায় নেন ৪টি উইকেট। যেখানে ছিলেন পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো ডেভিড মিলারও।

ডানহাতি অফস্পিনার হিসেবে ডানহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে বোলিং করা কঠিনই ছিল মিরাজের জন্য। তবু ডানহাতি ব্যাটারদের অনসাইডে বড় বাউন্ডারি রেখেই টানা পাঁচ ওভার বোলিং করেন তিনি। যেখানে মিলারের বিপক্ষে ৮ বলে খরচ করেন মাত্র ৫ রান, নিয়ে নেন মূল্যবান উইকেটটি।

নিজের শেষ ওভারে একটি করে চার-ছয় হজম করে ১১ রান না দিলে শেষ স্পেলে আরও কিপটে থাকতো মিরাজের বোলিং ফিগার। তা না হলেও, দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এ তরুণ স্পিনিং অলরাউন্ডার। আর এটি করার জন্য নিজে যেচে অধিনায়ক তামিম ইকবালের কাছ থেকে বোলিং নেন মিরাজ।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তামিম জানিয়েছেন, প্রথম ৪ ওভারে ৪০ রান (আসলে ৩৮) দেওয়ার পরেও আত্মবিশ্বাস ছিল মিরাজের। যে কারণে নিজ থেকেই বোলিং চেয়ে নেন ম্যাচ বদলে দেওয়ার জন্য এবং সত্যিই তা করে দেখান।

তামিমের ভাষ্য, ‘আমি মনে করি, সব দলে মিরাজের মতো ক্যারেক্টার প্রয়োজন আছে। কারণ প্রথম ৪ ওভারে ৪০ রান দেওয়ার পর সে আমার কাছে এসে বলে, আমাকে বল দিন, আমি খেলা বদলে দিবো। সে খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিল। এটি অধিনায়কের কাজ সহজ করে দেয়, যখন আপনার খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসী থাকে।’

টাইগার অধিনায়ক জানান, তার চোখে মিরাজও আজকের ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ। তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে আত্মবিশ্বাসটা মিরাজের মধ্যে আছে। এমন চাপের মধ্যে ডানহাতির সামনে ছোট বাউন্ডারিতে বোলিং করা, উইকেট এনে দেওয়া... আমার মতে, সেও আমার ম্যান অব দ্য ম্যাচ।’

এসময় দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম জয়ের কৃতিত্বটা দলের সবার মধ্যে ভাগ করে দেন তামিম। ম্যাচসেরার পুরস্কার ৬৪ বলে ৭৭ রান করা সাকিবের হাতে উঠলেও, জয়ের পেছনে সবার অবদানের সমান কৃতিত্ব দেন তিনি।

তামিম বলেছেন, ‘এটি অনেক বড় জয় আমাদের জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকায় (দ্বিপাক্ষিক সিরিজে) আগে কখনও জিতিনি, তাই এটি বিশেষ জয়। ছেলেদের ওপর অনেক গর্বিত, সবাই যেভাবে খেলেছে। শুরুতে লিটন ও আমি ভালো একটা ভিত গড়ে দিয়েছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সাকিব ও ইয়াসির অবিশ্বাস্য খেলেছে। আমার মতে, ইয়াসিরের ইনিংস স্পেশাল ছিল। যেভাবে সে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের সামলেছে। শেষে মিরাজের দুই ছক্কা, আফিফের একটি করে চার-ছক্কা, রিয়াদের ২৫ রান... সবকিছুই গুরুত্ব বহন করে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে শেষ দিকে যদি মিরাজের স্পিন জাদুর কারিশমা চলে, তাহলে শুরুতে ছিল টাইগার পেসারদের তোপ। চতুর্থ ওভারেই জানেমান মালানকে ফেরান শরিফুল। একই ওভারে কাইল ভেরেন ও এইডেন মারক্রামকে আউট করেন তাসকিন।

পরে ফন ডার ডুসেনের সঙ্গে জুটি গড়ে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো টেম্বা বাভুমাকে ফেরান শরিফুল। আর নিজের শেষ ওভারে প্রোটিয়াদের সবচেয়ে বড় উইকেট ডুসেনকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তাসকিন। তাই পেসারদের প্রশংসাই ঝরলো তামিমের কণ্ঠে।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের জন্য এটি অনেক বড় বিষয় যে ফাস্ট বোলাররা খুব ভালো করছে, আমাদের ম্যাচ জেতাচ্ছে। কেউ যখন বাংলাদেশের নাম নেয়, সবাই চিন্তা করে স্পিন বোলিংয়ের কথা। তবে এখন... শুধু এই ম্যাচে নয়, টসের সময়ই আমি বলেছিলাম গত দুই বছর ধরে আমাদের ফাস্ট বোলাররা খুব ভালো বোলিং করছে। তারা সবাই তরুণ, সামনে লম্বা ক্যারিয়ার বাকি রয়েছে। আমি নিশ্চিত তারা শক্তি বাড়িয়েই চলবে।’

এসএএস/আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]